ভাইরাসের নতুন ধরন কতটা মারাত্মক
jugantor
ভাইরাসের নতুন ধরন কতটা মারাত্মক

  ডা. অপূর্ব চৌধুরী  

৩০ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিউটেশন ভাইরাসের জীবনচক্রের একটি অংশ। ভাইরাস একটি কোষ নাকি কোষের অঙ্গাণুর সমষ্টি, এই বিতর্ক থাকলেও জীবিত কোষের বাহিরে ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে না।

আবার এক জীবিত কোষ ধ্বংস করে আরেক জীবিত কোষে ঢোকার আগে নতুন ভাইরাসটিতে কোনো একটি দুটি অ্যামিনো এসিড বা তাকে ধরে রাখার পলিমার চেইনের গঠনে কোনো উপাদানের ওলট-পালট হতে পারে। আর এই ওলট-পালট ভাইরাসের জেনেটিক কোডের পরিবর্তন করে দেয়। কোডের পরিবর্তন হলে কোড যে প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেয়, সেটির ধরনও পরিবর্তন হয়ে যায়।

এক ভাইরাসের এমন গঠন ভেঙে নতুন ভাইরাস হলে তাকে সেই ভাইরাসের ভেরিয়েন্ট বলে এবং প্রক্রিয়াটিকে বলে মিউটেশন।

গত বছরের জানুয়ারিতে SARS-CoV-2 মানুষের শরীরে পৃথিবীব্যাপী দেখা দেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত একশোটির বেশি এমন ভেরিয়েন্টের দেখা পেয়েছে বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীরা সব ভেরিয়েন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে না। কিন্তু কোনো ভেরিয়েন্ট যখন বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে, দ্রুত ছড়ায় অথবা আগের ভাইরাসের চেয়ে ভিন্ন কিছু আচরণ করে, তখন বিজ্ঞানীরা সেগুলোর খুঁটিনাটি বুঝতে চেষ্টা করেন।

গত বছরের শেষের দিক থেকে এরকম তিনটি ভেরিয়েন্ট বিশ্বের তিনটি দেশে দেখা গেছে। বর্তমানে সেগুলো পঞ্চাশের অধিক দেশে ছড়িয়ে গেছে। শুধু ছড়িয়ে যায় না, আরও বেশি দ্রুত ছড়াচ্ছে নতুন ভেরিয়েন্টগুলো, আরও বেশি মৃত্যু ঘটাচ্ছে এবং কোনো কোনো ভেরিয়েন্ট ভ্যাকসিনগুলোর বিরুদ্ধে অকার্যকরীর হুমকি দিচ্ছে।

সব মিলে নতুন ভেরিয়েন্ট তিনটি হসপিটালগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, রোগী বাড়ছে, সঙ্গে চিকিৎসকদের উদ্বিগ্নতা বাড়ছে। মনে করা হয় প্যানডেমিকের দ্বিতীয় ঢেউয়ে আগের চেয়ে বেশি আক্রান্ত এবং মৃত্যু বেশি হচ্ছে।

তিনটি ভেরিয়েন্ট তিনটি দেশে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা মিলেছে। ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিল।

ইংল্যান্ডের ভেরিয়েন্টটি প্রথম দেখা দেয় গত বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। দক্ষিণ আফ্রিকার ভেরিয়েন্টির দেখা মিলে অক্টোবরে, সর্বশেষে ব্রাজিলের ভেরিয়েন্টি ডিসেম্বরে আবির্ভাব হয়।

ইংল্যান্ডের ভেরিয়েন্ট প্রথম দেখা দেয় ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বে কেন্ট অঞ্চলে। তাই অনেকে একে কেন্ট ভেরিয়েন্ট বলে। পরে ডিসেম্বরে লন্ডনে সেটি তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সব অঞ্চল, ইউরোপের অধিকাংশ দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোসহ পঞ্চাশটির বেশি দেশে এই ভেরিয়েন্টি ছড়িয়ে পড়ে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ভেরিয়েন্টি দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন মেন্ডেলা বে বা সমুদ্র তীর অঞ্চলে সর্বপ্রথম খুঁজে পায় চিকিৎসকরা। পরে দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশেও এই ভেরিয়েন্টের কয়েকটি নমুনা খুঁজে পায় বিজ্ঞানীরা। কিন্তু ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন এবং সতর্কতার কারণে এখনো আফ্রিকার বাহিরে এই ভেরিয়েন্টি কমিউনিটির মধ্যে ছড়িয়ে পড়েনি।

ব্রাজিলের ভেরিয়েন্টি ব্রাজিলের উত্তরে আমাজোনিয়া প্রদেশের মানাস অঞ্চলে প্রথম দেখা দেয়। সেখান থেকে জাপানেও চার জন ব্রাজিলিয়ান ভ্রমণকারীর দেহে জাপানের চিকিৎসকরা খুঁজে পান এই ভেরিয়েন্টি। টোকিও শহরের হেনিডা এয়ারপোর্টে রুটিন চেকআপের সময় এমন ধরা পড়ে। বর্তমানে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওসহ আরও কিছু অঞ্চলে তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, ইতালি এবং স্পেনে এই ভেরিয়েন্টের কিছু রোগী পাওয়া গেছে।

ইংল্যান্ডের ভেরিয়েন্টির নাম : 20I/501Y.V1। সংক্ষেপে B117 নামে পরিচিত। দক্ষিণ আফ্রিকার ভেরিয়েন্টির নাম : 20H/501Y.V2। এটি অন্য নাম : 20H/501Y.V2।

ব্রাজিল ভেরিয়েন্টির দুটো ভার্সন! একটির নাম : 20J/501Y.V3। এটিকে সংক্ষেপে P1 বলা হয়। আরেকটি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বিস্তারিত এখনো জানে না বলে ওটিকে ডাকে -P2 বলে। P1 ভেরিয়েন্টি আবার B1128 নামে পরিচিত।

ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিলের ভেরিয়েন্টে তিনটি পাশাপাশি রাখলে- 20I/501Y.V1, 20H/501Y.V2 এবং 20J/501Y.V3। লক্ষ্য করুন-V1. V2 এবং V3। মানে ভেরিয়েন্ট এক, দুই, তিন নাম্বার। 501Y এটিও তিনটির মধ্যে একটি মিল। এই তিনটি ভেরিয়েন্টে একটি জায়গায় একই মিল। সেটি হল 501Y। এটির মানে হল ভাইরাসের একটি অ্যামিনো এসিড নাম্বার। ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের একটি প্রোটিনে ৫০১ নাম্বার পজিশনে অ্যামিনো এসিডের জেনেটিক কোডের একটি পরিবর্তন হয়েছে।

পরিবর্তনটি হয়েছে স্পাইক প্রোটিনের রিসেপ্টর বাইন্ডিং ডোমেইন অংশে। সেখানে ৫০১ নাম্বার অ্যামিনো এসিডের জেনেটিক কোডে এস্পারাজিনের জায়গায় টাইরোসিন বসে গেছে। এস্পারাজিনকে N এবং টাইরোসিনকে Y দিয়ে লিখে। সংক্ষেপে এই পরিবর্তনকে লিখে N501Y।

তিনটি ভেরিয়েন্টে স্পাইক প্রোটিনের RBD অংশে এই পরিবর্তন হয়েছে বলে তিনটির একটি যেমন মিল আছে, সঙ্গে আরও কিছু জেনেটিক কোডের পরিবর্তন হয়েছে।

কিন্তু তিনটির মধ্যে পরিবর্তনের মিল নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক কারণেই উদ্বিগ্ন।

কারণ হল- স্পাইক প্রোটিন দিয়ে ভাইরাসগুলো মানুষের শরীরে ঢুকে কোষের গায়ে বসে। স্পাইক প্রোটিনের RBD অংশই মূলত কোষকে ঘায়েল করে বেশি। এই অংশের পরিবর্তন মানে ভাইরাস আরও বেশি করে কোষকে আক্রমণ করতে পারবে। সঙ্গে আমাদের শরীরের ইমিউনিটি যখন ভাইরাসকে আক্রমণ করে মারতে চায়, তখন এই অংশকে সবার আগে ঘায়েল করতে চায়, যাতে ভাইরাস কোষের গায়ে বসতে না পারে। আবার বর্তমান ভ্যাকসিনগুলো বানানো হয়েছে এই স্পাইক প্রোটিনের এই অংশকে শরীরে শনাক্ত করে আঘাত করতে। ফলে এই অংশের যে কোনো পরিবর্তন তিনটি ফলাফল দেবে-

এক. ভাইরাসটি আরও শক্তিশালীভাবে কোষের গায়ে বসে থেকে কোষকে আক্রান্ত করতে পারবে।

দুই. ভাইরাসটি সহজে দেহের ইমিউনিটিকে পাশ কাটাতে পারবে।

তিন. ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিবে।

তিনটি ভেরিয়েন্টের ভিন্ন ভিন্ন ধরনের আরও কিছু পরিবর্তনের কারণে ভিন্ন ভিন্ন ঝুঁকি আছে। তবে এদের মধ্যে ব্রাজিল ভেরিয়েনটির ভ্যাকসিন অকার্যকারিতা, মৃত্যু ঝুঁকি এবং দ্রুত আক্রান্তের সুযোগ বেশি হওয়ার কারণে বিজ্ঞানীরা আপাতত এই ব্রাজিল ভেরিয়েনটি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।

লেখক : চিকিৎসক। ইংল্যান্ড

opurbo.chowdhury@gmail.com

ভাইরাসের নতুন ধরন কতটা মারাত্মক

 ডা. অপূর্ব চৌধুরী 
৩০ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিউটেশন ভাইরাসের জীবনচক্রের একটি অংশ। ভাইরাস একটি কোষ নাকি কোষের অঙ্গাণুর সমষ্টি, এই বিতর্ক থাকলেও জীবিত কোষের বাহিরে ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে না।

আবার এক জীবিত কোষ ধ্বংস করে আরেক জীবিত কোষে ঢোকার আগে নতুন ভাইরাসটিতে কোনো একটি দুটি অ্যামিনো এসিড বা তাকে ধরে রাখার পলিমার চেইনের গঠনে কোনো উপাদানের ওলট-পালট হতে পারে। আর এই ওলট-পালট ভাইরাসের জেনেটিক কোডের পরিবর্তন করে দেয়। কোডের পরিবর্তন হলে কোড যে প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেয়, সেটির ধরনও পরিবর্তন হয়ে যায়।

এক ভাইরাসের এমন গঠন ভেঙে নতুন ভাইরাস হলে তাকে সেই ভাইরাসের ভেরিয়েন্ট বলে এবং প্রক্রিয়াটিকে বলে মিউটেশন।

গত বছরের জানুয়ারিতে SARS-CoV-2 মানুষের শরীরে পৃথিবীব্যাপী দেখা দেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত একশোটির বেশি এমন ভেরিয়েন্টের দেখা পেয়েছে বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীরা সব ভেরিয়েন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে না। কিন্তু কোনো ভেরিয়েন্ট যখন বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে, দ্রুত ছড়ায় অথবা আগের ভাইরাসের চেয়ে ভিন্ন কিছু আচরণ করে, তখন বিজ্ঞানীরা সেগুলোর খুঁটিনাটি বুঝতে চেষ্টা করেন।

গত বছরের শেষের দিক থেকে এরকম তিনটি ভেরিয়েন্ট বিশ্বের তিনটি দেশে দেখা গেছে। বর্তমানে সেগুলো পঞ্চাশের অধিক দেশে ছড়িয়ে গেছে। শুধু ছড়িয়ে যায় না, আরও বেশি দ্রুত ছড়াচ্ছে নতুন ভেরিয়েন্টগুলো, আরও বেশি মৃত্যু ঘটাচ্ছে এবং কোনো কোনো ভেরিয়েন্ট ভ্যাকসিনগুলোর বিরুদ্ধে অকার্যকরীর হুমকি দিচ্ছে।

সব মিলে নতুন ভেরিয়েন্ট তিনটি হসপিটালগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, রোগী বাড়ছে, সঙ্গে চিকিৎসকদের উদ্বিগ্নতা বাড়ছে। মনে করা হয় প্যানডেমিকের দ্বিতীয় ঢেউয়ে আগের চেয়ে বেশি আক্রান্ত এবং মৃত্যু বেশি হচ্ছে।

তিনটি ভেরিয়েন্ট তিনটি দেশে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা মিলেছে। ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিল।

ইংল্যান্ডের ভেরিয়েন্টটি প্রথম দেখা দেয় গত বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। দক্ষিণ আফ্রিকার ভেরিয়েন্টির দেখা মিলে অক্টোবরে, সর্বশেষে ব্রাজিলের ভেরিয়েন্টি ডিসেম্বরে আবির্ভাব হয়।

ইংল্যান্ডের ভেরিয়েন্ট প্রথম দেখা দেয় ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বে কেন্ট অঞ্চলে। তাই অনেকে একে কেন্ট ভেরিয়েন্ট বলে। পরে ডিসেম্বরে লন্ডনে সেটি তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সব অঞ্চল, ইউরোপের অধিকাংশ দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোসহ পঞ্চাশটির বেশি দেশে এই ভেরিয়েন্টি ছড়িয়ে পড়ে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ভেরিয়েন্টি দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন মেন্ডেলা বে বা সমুদ্র তীর অঞ্চলে সর্বপ্রথম খুঁজে পায় চিকিৎসকরা। পরে দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশেও এই ভেরিয়েন্টের কয়েকটি নমুনা খুঁজে পায় বিজ্ঞানীরা। কিন্তু ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন এবং সতর্কতার কারণে এখনো আফ্রিকার বাহিরে এই ভেরিয়েন্টি কমিউনিটির মধ্যে ছড়িয়ে পড়েনি।

ব্রাজিলের ভেরিয়েন্টি ব্রাজিলের উত্তরে আমাজোনিয়া প্রদেশের মানাস অঞ্চলে প্রথম দেখা দেয়। সেখান থেকে জাপানেও চার জন ব্রাজিলিয়ান ভ্রমণকারীর দেহে জাপানের চিকিৎসকরা খুঁজে পান এই ভেরিয়েন্টি। টোকিও শহরের হেনিডা এয়ারপোর্টে রুটিন চেকআপের সময় এমন ধরা পড়ে। বর্তমানে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওসহ আরও কিছু অঞ্চলে তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, ইতালি এবং স্পেনে এই ভেরিয়েন্টের কিছু রোগী পাওয়া গেছে।

ইংল্যান্ডের ভেরিয়েন্টির নাম : 20I/501Y.V1। সংক্ষেপে B117 নামে পরিচিত। দক্ষিণ আফ্রিকার ভেরিয়েন্টির নাম : 20H/501Y.V2। এটি অন্য নাম : 20H/501Y.V2।

ব্রাজিল ভেরিয়েন্টির দুটো ভার্সন! একটির নাম : 20J/501Y.V3। এটিকে সংক্ষেপে P1 বলা হয়। আরেকটি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বিস্তারিত এখনো জানে না বলে ওটিকে ডাকে -P2 বলে। P1 ভেরিয়েন্টি আবার B1128 নামে পরিচিত।

ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিলের ভেরিয়েন্টে তিনটি পাশাপাশি রাখলে- 20I/501Y.V1, 20H/501Y.V2 এবং 20J/501Y.V3। লক্ষ্য করুন-V1. V2 এবং V3। মানে ভেরিয়েন্ট এক, দুই, তিন নাম্বার। 501Y এটিও তিনটির মধ্যে একটি মিল। এই তিনটি ভেরিয়েন্টে একটি জায়গায় একই মিল। সেটি হল 501Y। এটির মানে হল ভাইরাসের একটি অ্যামিনো এসিড নাম্বার। ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের একটি প্রোটিনে ৫০১ নাম্বার পজিশনে অ্যামিনো এসিডের জেনেটিক কোডের একটি পরিবর্তন হয়েছে।

পরিবর্তনটি হয়েছে স্পাইক প্রোটিনের রিসেপ্টর বাইন্ডিং ডোমেইন অংশে। সেখানে ৫০১ নাম্বার অ্যামিনো এসিডের জেনেটিক কোডে এস্পারাজিনের জায়গায় টাইরোসিন বসে গেছে। এস্পারাজিনকে N এবং টাইরোসিনকে Y দিয়ে লিখে। সংক্ষেপে এই পরিবর্তনকে লিখে N501Y।

তিনটি ভেরিয়েন্টে স্পাইক প্রোটিনের RBD অংশে এই পরিবর্তন হয়েছে বলে তিনটির একটি যেমন মিল আছে, সঙ্গে আরও কিছু জেনেটিক কোডের পরিবর্তন হয়েছে।

কিন্তু তিনটির মধ্যে পরিবর্তনের মিল নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক কারণেই উদ্বিগ্ন।

কারণ হল- স্পাইক প্রোটিন দিয়ে ভাইরাসগুলো মানুষের শরীরে ঢুকে কোষের গায়ে বসে। স্পাইক প্রোটিনের RBD অংশই মূলত কোষকে ঘায়েল করে বেশি। এই অংশের পরিবর্তন মানে ভাইরাস আরও বেশি করে কোষকে আক্রমণ করতে পারবে। সঙ্গে আমাদের শরীরের ইমিউনিটি যখন ভাইরাসকে আক্রমণ করে মারতে চায়, তখন এই অংশকে সবার আগে ঘায়েল করতে চায়, যাতে ভাইরাস কোষের গায়ে বসতে না পারে। আবার বর্তমান ভ্যাকসিনগুলো বানানো হয়েছে এই স্পাইক প্রোটিনের এই অংশকে শরীরে শনাক্ত করে আঘাত করতে। ফলে এই অংশের যে কোনো পরিবর্তন তিনটি ফলাফল দেবে-

এক. ভাইরাসটি আরও শক্তিশালীভাবে কোষের গায়ে বসে থেকে কোষকে আক্রান্ত করতে পারবে।

দুই. ভাইরাসটি সহজে দেহের ইমিউনিটিকে পাশ কাটাতে পারবে।

তিন. ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিবে।

তিনটি ভেরিয়েন্টের ভিন্ন ভিন্ন ধরনের আরও কিছু পরিবর্তনের কারণে ভিন্ন ভিন্ন ঝুঁকি আছে। তবে এদের মধ্যে ব্রাজিল ভেরিয়েনটির ভ্যাকসিন অকার্যকারিতা, মৃত্যু ঝুঁকি এবং দ্রুত আক্রান্তের সুযোগ বেশি হওয়ার কারণে বিজ্ঞানীরা আপাতত এই ব্রাজিল ভেরিয়েনটি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।

লেখক : চিকিৎসক। ইংল্যান্ড

opurbo.chowdhury@gmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন