‘বাংলাদেশে করোনার টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে’
jugantor
‘বাংলাদেশে করোনার টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে’

  ডা. এম সেলিম উজ্জামান  

০১ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইমারজিং-রিইমারজিং ডিজিজেস, আইইডিসিআর

* বাংলাদেশে করোনা টিকা উৎপাদনের বর্তমান প্রস্তুতি কেমন?

** আমাদের দেশের অনেক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির প্ল্যান্টে দীর্ঘদিন থেকে দেশেই ইনজেকশন আকারে ওষুধ উৎপাদন করে আসছে। এ ইনজেকশন আমরা বিদেশেও রপ্তানি করে আসছি। চীন ও রাশিয়ার টেকনোলজিতে উৎপাদিত টিকার কাঁচামাল ও প্রযুক্তি আমরা পেলে কো-প্রোডাকশনের ভিত্তিতে আমরাও গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে একই মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন করতে পারব। এ ব্যাপারে আমার কোনো দ্বিধা বা সংশয় নেই। এ ছাড়া দেশীয় কোম্পানি গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চেষ্টা চলছে।

* বাংলাদেশে উৎপাদিত টিকার বিতরণ কবে নাগাদ শুরু হতে পারে?

** বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও ভ্যাকসিন কমিটি যেভাবে যৌথভাবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে আশা করা যায় আগামী ৩-৬ মাসের মধ্যে আমরা উৎপাদন সম্পন্ন করতে পারব। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা পেলে ও সক্ষমতা বাড়লে টিকা বিদেশেও রপ্তানি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

* টিকার মূল্য কত হতে পারে?

** যতদূর জানি দেশে উৎপাদিত টিকা বিনামূল্যেই জনগণকে দেওয়া হবে। আমাদের টার্গেট ১২-১৩ কোটি জনসংখ্যাকে টিকা দেওয়ার আওতায় আনা। তাহলে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা সম্ভব। এর পাশাপাশি নন ফার্মাকোলজিক্যাল ইন্টারভেনশন যেমন মাস্ক পরা, হাত স্যানিটাইজড করা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার মতো বিধিনিষেধগুলো মেনে চলতেই হবে।

* কোনো ব্যক্তি টিকার প্রথম ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ অন্য কোনো কোম্পানির নিলে তার ভালো মন্দ কী হতে পারে?

** অ্যাস্ট্রানেজেকা, চীনের সিনোভ্যাক ও রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি এডেনো ভাইরাস দিয়ে তৈরি। মর্ডানা ও অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন আরএনএ ভাইরাস দিয়ে তৈরি। এ পর্যন্ত জানা যায় রাশিয়ার ভ্যাকসিন ৯১ ভাগ কার্যকরি, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ এবং চায়নিজ ভ্যাকসিন ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কার্যকর। টিকা দেওয়ার একটি পদ্ধতির নাম হল Match and Mix অর্থাৎ দুইটি পৃথক কোম্পানির একই ভাইরাসের বিপক্ষে কাজ করা ভ্যাকসিন নিলে রোগীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে এই এডেনোভাইরাসের বিপক্ষে যদি শরীর আগে থেকেই অ্যান্টিবডি তৈরি করে রাখে অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে তবে ওই টিকা ব্যক্তির শরীরে কোনো কাজ নাও করতে পারে। অর্থাৎ দুই ভিন্ন কোম্পানির টিকা নিলে কোনো ক্ষতি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে ব্লেন্ডেড টিকা অর্থাৎ একবার এডেনোভাইরাসে টিকা আরেকবার আরএনএ-র টিকা নিলে কতটুকু কার্যকর হবে তা এখনো গবেষণাধীন।

* করোনার তৃতীয় ঢেউ বাংলাদেশে আসার আশঙ্কা আপনি করেন কী না?

** এটি নির্ভর করবে আমরা জনগণরা নিয়ম কানুন মানার ব্যাপারে কতটুকু সচেতন বা সজাগ আছি। যদি তা না থাকি তবে তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে। মনে রাখতে হবে ১৯১৮ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারিতে প্রায় ৫ কোটি লোক মারা গিয়েছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও এত মানুষ মারা যায়নি। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুহার ও আক্রান্তের হার অনেক বেশি থাকে। জনগণকে শুধু তথ্য দিয়ে সচেতন করলেই চলবে না, কমিউনিটি এনগেজমেন্ট এ ক্ষেত্রে বেশি কার্যকরি।

‘বাংলাদেশে করোনার টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে’

 ডা. এম সেলিম উজ্জামান 
০১ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইমারজিং-রিইমারজিং ডিজিজেস, আইইডিসিআর

* বাংলাদেশে করোনা টিকা উৎপাদনের বর্তমান প্রস্তুতি কেমন?

** আমাদের দেশের অনেক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির প্ল্যান্টে দীর্ঘদিন থেকে দেশেই ইনজেকশন আকারে ওষুধ উৎপাদন করে আসছে। এ ইনজেকশন আমরা বিদেশেও রপ্তানি করে আসছি। চীন ও রাশিয়ার টেকনোলজিতে উৎপাদিত টিকার কাঁচামাল ও প্রযুক্তি আমরা পেলে কো-প্রোডাকশনের ভিত্তিতে আমরাও গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে একই মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন করতে পারব। এ ব্যাপারে আমার কোনো দ্বিধা বা সংশয় নেই। এ ছাড়া দেশীয় কোম্পানি গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চেষ্টা চলছে।

* বাংলাদেশে উৎপাদিত টিকার বিতরণ কবে নাগাদ শুরু হতে পারে?

** বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও ভ্যাকসিন কমিটি যেভাবে যৌথভাবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে আশা করা যায় আগামী ৩-৬ মাসের মধ্যে আমরা উৎপাদন সম্পন্ন করতে পারব। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা পেলে ও সক্ষমতা বাড়লে টিকা বিদেশেও রপ্তানি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

* টিকার মূল্য কত হতে পারে?

** যতদূর জানি দেশে উৎপাদিত টিকা বিনামূল্যেই জনগণকে দেওয়া হবে। আমাদের টার্গেট ১২-১৩ কোটি জনসংখ্যাকে টিকা দেওয়ার আওতায় আনা। তাহলে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা সম্ভব। এর পাশাপাশি নন ফার্মাকোলজিক্যাল ইন্টারভেনশন যেমন মাস্ক পরা, হাত স্যানিটাইজড করা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার মতো বিধিনিষেধগুলো মেনে চলতেই হবে।

* কোনো ব্যক্তি টিকার প্রথম ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ অন্য কোনো কোম্পানির নিলে তার ভালো মন্দ কী হতে পারে?

** অ্যাস্ট্রানেজেকা, চীনের সিনোভ্যাক ও রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি এডেনো ভাইরাস দিয়ে তৈরি। মর্ডানা ও অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন আরএনএ ভাইরাস দিয়ে তৈরি। এ পর্যন্ত জানা যায় রাশিয়ার ভ্যাকসিন ৯১ ভাগ কার্যকরি, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ এবং চায়নিজ ভ্যাকসিন ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কার্যকর। টিকা দেওয়ার একটি পদ্ধতির নাম হল Match and Mix অর্থাৎ দুইটি পৃথক কোম্পানির একই ভাইরাসের বিপক্ষে কাজ করা ভ্যাকসিন নিলে রোগীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে এই এডেনোভাইরাসের বিপক্ষে যদি শরীর আগে থেকেই অ্যান্টিবডি তৈরি করে রাখে অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে তবে ওই টিকা ব্যক্তির শরীরে কোনো কাজ নাও করতে পারে। অর্থাৎ দুই ভিন্ন কোম্পানির টিকা নিলে কোনো ক্ষতি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে ব্লেন্ডেড টিকা অর্থাৎ একবার এডেনোভাইরাসে টিকা আরেকবার আরএনএ-র টিকা নিলে কতটুকু কার্যকর হবে তা এখনো গবেষণাধীন।

* করোনার তৃতীয় ঢেউ বাংলাদেশে আসার আশঙ্কা আপনি করেন কী না?

** এটি নির্ভর করবে আমরা জনগণরা নিয়ম কানুন মানার ব্যাপারে কতটুকু সচেতন বা সজাগ আছি। যদি তা না থাকি তবে তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে। মনে রাখতে হবে ১৯১৮ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারিতে প্রায় ৫ কোটি লোক মারা গিয়েছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও এত মানুষ মারা যায়নি। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুহার ও আক্রান্তের হার অনেক বেশি থাকে। জনগণকে শুধু তথ্য দিয়ে সচেতন করলেই চলবে না, কমিউনিটি এনগেজমেন্ট এ ক্ষেত্রে বেশি কার্যকরি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন