ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার উপায়
jugantor
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার উপায়
মিউকোর নামে একটি ছত্রাকের সংস্পর্শে রোগী এলে এর সংক্রমণ হতে পারে। এ ছত্রাক সাধারণত মাটি, গাছপালা, সার এবং পচন ধরা ফল ও সবজিতে পাওয়া যায়। এটি মাটি এবং বাতাসে এমনিতেই থাকে। এ ছত্রাক নাক ও সাইনাস, চোখ, মস্তিষ্ক এবং ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। চিকিৎসকদের ধারণা ডায়াবেটিক রোগীদের মিউকোরমাইকোসিস থেকে মৃত্যুর আশঙ্কা ৫০ শতাংশ। স্টেরয়েডের ব্যবহার থেকে এ সংক্রমণ শুরু হতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে কোভিড-১৯-এর কোনো কোনো রোগীরা কেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের শিকার হচ্ছেন?

  ডা. এম সেলিম উজজামান  

১২ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিরল ছত্রাকজনিত রোগ হিসাবে পরিচিত ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’। রোগটির অন্য নাম মিউকর মাইকোসিস (Mucormycosis)। এ রোগ আগেও ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এটা কোনো নতুন রোগ নয়। এ রোগ সবার হয়ও না। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছত্রাক বিশেষত মাটিতে এবং ক্ষয়কারী জৈব পদার্থ পাতা, কম্পোস্ট পশুর গোবরগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এর আগেও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিক রোগী ৪২ ও ২৫ বছর বয়সের দু’জন ক্ষেত্রে এ রোগের বর্ণনা নিবন্ধ প্রকাশিত করা হয়েছে [Mucormycosis Report (2004, 2012) : https://www.gaffi.org/wp-content/uploads/Burden-of-serious-fungal-infections-in-Bangladesh.pdf] ভারতে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৯ হাজারেরও বেশি বিরল ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের রোগী চিহ্নিত হয়েছে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগটি হওয়ার সম্ভাব্য রোগী কারা

* যাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল। যেমন- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস-ব্লাড সুগার বা ডায়াবেটিস অনেক বেশি এমন রোগী, ক্যান্সার রোগী, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতার মতো জটিল দীর্ঘস্থায়ী রোগ আছে, তাদেরই আক্রান্ত/ সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।

* গুরুতর কোভিড রোগী, যারা অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় দীর্ঘদিন আইসিইউ-তে আছেন, তাদের স্টেরয়েড নিতে হয়, তাই তাদের ক্ষেত্রে এ রোগটি হতে পারে।

* সব করোনা আক্রান্ত রোগীদের এ রোগ হয় না। তবে দীর্ঘস্থায়ী অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রোগী যাদের শরীরে স্টেরয়েড প্রয়োগের মাত্রা বেশি রয়েছে, সেসব রোগীদের ক্ষেত্রে আশঙ্কা আরও বেশি।

* কোভিড-১৯ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত করে এবং দ্বিতীয়ত চিকিৎসার জন্য স্টেরয়েড দেওয়া হলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা আরও বৃদ্ধি করে এবং এভাবেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

কাদের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি

করোনা-কোভিড সংক্রমিত রোগী যাদের দীর্ঘস্থায়ী অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রোগ কিংবা অন্যান্য শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বলকারী দীর্ঘস্থায়ী রোগ আছে, তাদের অতিমাত্রায় অনিয়ন্ত্রিত স্টেরয়েড (steroid), টসিলিজুমাব (tocilizumab)সহ অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হলে আক্রান্ত রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তবে নিয়ন্ত্রিতভাবে কোভিড-১৯ রোগীর জটিলতা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা প্রয়োজন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনই স্টেরয়েড ব্যবহার করা উচিত না।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগের লক্ষণ

মিউকর মাইকোসিস প্রথমে নাকে, তারপর চোখে আর শেষে ব্রেনে সংক্রমণ ঘটায়। ফুসফুসসহ একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংক্রমিত করতে পারে মিউকর মাইকোসিস।

* অস্বাভাবিক কালো স্রাব বা নাক থেকে রক্ত বের হওয়া।

* নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা বা চোখে ব্যথা, চোখের চারপাশে ফোলাভাব, দৃষ্টিতে সমস্যা, চোখে লালভাব, চোখ বন্ধ করতে অসুবিধা হওয়া, চোখ খোলার অক্ষমতা।

* মুখের অসাড়তা, দাঁতে ও গালে ফোলা এবং ব্যথা (নাক, গাল, চোখের চারপাশে)।

* চিবানো বা মুখ খোলার সমস্যা। মুখে স্পর্শে ব্যথা অনুভব।

লক্ষণগুলো ধরা পড়লে কী করবেন

* প্রথমেই বলে রাখা ভালো, প্যানিক করবেন না। এতে শরীরে অক্সিজেনের অভাবে বুক ধড়ফড় করা থেকে শুরু করে শরীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতি হতে থাকে।

* লক্ষণগুলো ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ/ নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার/ নিকটতম ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ গ্রহণ করুন।

* ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত রাখুন। প্রতিদিন সুগার কোন স্তরে আছে, সেটি পরীক্ষা করুন।

* যাদের দীর্ঘস্থায়ী রোগ আছে (Co-morbidities), তাদের রোগের ওষুধ খেয়ে নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে।

* ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজ থেকে কোনও অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ও অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ খাওয়া যাবে না।

* মাস্ক প্রতিদিন ধোয়া এবং পরিষ্কার করে পরতে হবে। নোংরা বা অনেক দিন ব্যবহার করা মাস্ক পরা যাবে না।

* অক্সিজেন সিলিন্ডারের মিটারের সঙ্গে সংযুক্ত বোতলটিতে ময়লা পানি ব্যবহার করবেন না।

প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসা

* সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু না করা হলে, ফলাফল মারাত্মক হতে পারে।

* এই রোগের লক্ষণ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের চিকিৎসা নিলে এ রোগ ভালো হয়।

* করোনায় অসুস্থ হওয়া কালীন স্টেরয়েড এবং বিভিন্ন রকমের ওষুধের কারণে মুখের ব্যাকটেরিয়া পরিমাণ বৃদ্ধি হতে থাকে। সেজন্য দিনে দু-তিনবার করে দাঁত ব্রাশ করার পরামর্শ দিচ্ছেন ডেন্টিস্টরা।

* প্রয়োজনে ওষুধযুক্ত ওরাল ক্লিন ওয়াশ তরল ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে।

* চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহৃত হয়। অ্যান্টিফাঙ্গাল থেরাপির পাশাপাশি আক্রান্ত মৃত টিস্যুগুলো অপসারণের জন্য সার্জারি করা দরকার হতে পারে।

* এছাড়া ভিটামিন সি, ডি, বি ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, সব সময় পরিষ্কার মাস্ক পরা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, শারীরিক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম সর্বোপরি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো।

* করোনা থেকে সেরে ওঠার পরে টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ এলে পুরনো ব্রাশ পরিবর্তন করে নতুন দাঁত মাজার ব্রাশ ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

লেখক : ইমারজিং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ

msalimuzzaman@hotmail.com

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার উপায়

মিউকোর নামে একটি ছত্রাকের সংস্পর্শে রোগী এলে এর সংক্রমণ হতে পারে। এ ছত্রাক সাধারণত মাটি, গাছপালা, সার এবং পচন ধরা ফল ও সবজিতে পাওয়া যায়। এটি মাটি এবং বাতাসে এমনিতেই থাকে। এ ছত্রাক নাক ও সাইনাস, চোখ, মস্তিষ্ক এবং ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। চিকিৎসকদের ধারণা ডায়াবেটিক রোগীদের মিউকোরমাইকোসিস থেকে মৃত্যুর আশঙ্কা ৫০ শতাংশ। স্টেরয়েডের ব্যবহার থেকে এ সংক্রমণ শুরু হতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে কোভিড-১৯-এর কোনো কোনো রোগীরা কেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের শিকার হচ্ছেন?
 ডা. এম সেলিম উজজামান 
১২ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিরল ছত্রাকজনিত রোগ হিসাবে পরিচিত ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’। রোগটির অন্য নাম মিউকর মাইকোসিস (Mucormycosis)। এ রোগ আগেও ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এটা কোনো নতুন রোগ নয়। এ রোগ সবার হয়ও না। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছত্রাক বিশেষত মাটিতে এবং ক্ষয়কারী জৈব পদার্থ পাতা, কম্পোস্ট পশুর গোবরগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এর আগেও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিক রোগী ৪২ ও ২৫ বছর বয়সের দু’জন ক্ষেত্রে এ রোগের বর্ণনা নিবন্ধ প্রকাশিত করা হয়েছে [Mucormycosis Report (2004, 2012) : https://www.gaffi.org/wp-content/uploads/Burden-of-serious-fungal-infections-in-Bangladesh.pdf] ভারতে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৯ হাজারেরও বেশি বিরল ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের রোগী চিহ্নিত হয়েছে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগটি হওয়ার সম্ভাব্য রোগী কারা

* যাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল। যেমন- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস-ব্লাড সুগার বা ডায়াবেটিস অনেক বেশি এমন রোগী, ক্যান্সার রোগী, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতার মতো জটিল দীর্ঘস্থায়ী রোগ আছে, তাদেরই আক্রান্ত/ সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।

* গুরুতর কোভিড রোগী, যারা অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় দীর্ঘদিন আইসিইউ-তে আছেন, তাদের স্টেরয়েড নিতে হয়, তাই তাদের ক্ষেত্রে এ রোগটি হতে পারে।

* সব করোনা আক্রান্ত রোগীদের এ রোগ হয় না। তবে দীর্ঘস্থায়ী অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রোগী যাদের শরীরে স্টেরয়েড প্রয়োগের মাত্রা বেশি রয়েছে, সেসব রোগীদের ক্ষেত্রে আশঙ্কা আরও বেশি।

* কোভিড-১৯ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত করে এবং দ্বিতীয়ত চিকিৎসার জন্য স্টেরয়েড দেওয়া হলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা আরও বৃদ্ধি করে এবং এভাবেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

কাদের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি

করোনা-কোভিড সংক্রমিত রোগী যাদের দীর্ঘস্থায়ী অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রোগ কিংবা অন্যান্য শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বলকারী দীর্ঘস্থায়ী রোগ আছে, তাদের অতিমাত্রায় অনিয়ন্ত্রিত স্টেরয়েড (steroid), টসিলিজুমাব (tocilizumab)সহ অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হলে আক্রান্ত রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তবে নিয়ন্ত্রিতভাবে কোভিড-১৯ রোগীর জটিলতা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা প্রয়োজন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনই স্টেরয়েড ব্যবহার করা উচিত না।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগের লক্ষণ

মিউকর মাইকোসিস প্রথমে নাকে, তারপর চোখে আর শেষে ব্রেনে সংক্রমণ ঘটায়। ফুসফুসসহ একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংক্রমিত করতে পারে মিউকর মাইকোসিস।

* অস্বাভাবিক কালো স্রাব বা নাক থেকে রক্ত বের হওয়া।

* নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা বা চোখে ব্যথা, চোখের চারপাশে ফোলাভাব, দৃষ্টিতে সমস্যা, চোখে লালভাব, চোখ বন্ধ করতে অসুবিধা হওয়া, চোখ খোলার অক্ষমতা।

* মুখের অসাড়তা, দাঁতে ও গালে ফোলা এবং ব্যথা (নাক, গাল, চোখের চারপাশে)।

* চিবানো বা মুখ খোলার সমস্যা। মুখে স্পর্শে ব্যথা অনুভব।

লক্ষণগুলো ধরা পড়লে কী করবেন

* প্রথমেই বলে রাখা ভালো, প্যানিক করবেন না। এতে শরীরে অক্সিজেনের অভাবে বুক ধড়ফড় করা থেকে শুরু করে শরীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতি হতে থাকে।

* লক্ষণগুলো ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ/ নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার/ নিকটতম ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ গ্রহণ করুন।

* ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত রাখুন। প্রতিদিন সুগার কোন স্তরে আছে, সেটি পরীক্ষা করুন।

* যাদের দীর্ঘস্থায়ী রোগ আছে (Co-morbidities), তাদের রোগের ওষুধ খেয়ে নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে।

* ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজ থেকে কোনও অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ও অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ খাওয়া যাবে না।

* মাস্ক প্রতিদিন ধোয়া এবং পরিষ্কার করে পরতে হবে। নোংরা বা অনেক দিন ব্যবহার করা মাস্ক পরা যাবে না।

* অক্সিজেন সিলিন্ডারের মিটারের সঙ্গে সংযুক্ত বোতলটিতে ময়লা পানি ব্যবহার করবেন না।

প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসা

* সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু না করা হলে, ফলাফল মারাত্মক হতে পারে।

* এই রোগের লক্ষণ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের চিকিৎসা নিলে এ রোগ ভালো হয়।

* করোনায় অসুস্থ হওয়া কালীন স্টেরয়েড এবং বিভিন্ন রকমের ওষুধের কারণে মুখের ব্যাকটেরিয়া পরিমাণ বৃদ্ধি হতে থাকে। সেজন্য দিনে দু-তিনবার করে দাঁত ব্রাশ করার পরামর্শ দিচ্ছেন ডেন্টিস্টরা।

* প্রয়োজনে ওষুধযুক্ত ওরাল ক্লিন ওয়াশ তরল ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে।

* চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহৃত হয়। অ্যান্টিফাঙ্গাল থেরাপির পাশাপাশি আক্রান্ত মৃত টিস্যুগুলো অপসারণের জন্য সার্জারি করা দরকার হতে পারে।

* এছাড়া ভিটামিন সি, ডি, বি ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, সব সময় পরিষ্কার মাস্ক পরা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, শারীরিক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম সর্বোপরি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো।

* করোনা থেকে সেরে ওঠার পরে টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ এলে পুরনো ব্রাশ পরিবর্তন করে নতুন দাঁত মাজার ব্রাশ ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

লেখক : ইমারজিং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ

msalimuzzaman@hotmail.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন