করোনায় শিশুদের যত্ন
jugantor
করোনায় শিশুদের যত্ন

  ডা. আমেনা আল নিশান  

১৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। করোনায় তরুণ এবং শিশুরা ও সমানভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টে শিশুদের উপসর্গবিহীন করোনা হলেও, বর্তমান ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে শিশুদেরও দেখা দিচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি উপসর্গ।

শিশুরা মাস্ক পরতে চায় না এবং স্বাস্থ্যবিধি তাদের বুঝানোও কষ্টসাধ্য। অনেক সময়েই তারা মা-বাবা থেকে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক শিশু বিকালে গ্যারাজে বা ছাদে খেলতে গিয়ে অন্য উপসর্গবিহীন করোনা আক্রান্ত শিশুদের থেকে আক্রান্ত হচ্ছে এবং পরে পরিবারে ছড়িয়ে পড়ছে।

* এ জন্য শিশুরা যারা অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছে, তাদের পরিবারের বয়স্কদের থেকে দূরে রাখতে হবে। যথাসম্ভব ঘরে রাখার চেষ্টা করতে হবে, ঘরে রাখতে গিয়ে মোবাইল বা স্ক্রিনে আসক্ত হতে দেওয়া যাবে না। ঘরে স্লাইডার, দোলনা ইত্যাদি ইনডোর প্লেগেমসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

* শিশুদের ঠান্ডা মাথায় গল্পের ছলে স্বাস্থ্যবিধি বোঝাতে হবে যেন তারা বাইরে গেলে যাতে মাস্ক পরে থাকে, ঠিকভাবে হাত ধোয়, হাঁচি কাশি এটিকে যাতে মেনে চলে। শিশু মাস্ক পরতে না চাইলে ধমক দেওয়া বা রাগারাগি করা অনুচিত, বরং ধৈর্য ধরে বারবার বোঝাতে হবে।

* মা বা বাবার করোনা হলে সঙ্গে শিশুর ও করোনা পরীক্ষা করানো উচিত, আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে শিশুকে দূরে রাখতে হবে।

* শিশুদের জাঙ্ক ফুড খাওয়া কমিয়ে পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস গড়ুন। ভিটামিন সি, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে দিন। ফলমূল, সামুদ্রিক মাছ, ডিম, দুধ খাওয়াবেন। বাদাম, পনির, মাংস, তিল, কুমড়া, লাউ, সবুজ মটরশুঁটিতে জিঙ্ক, ভিটামিন বি, আয়রনসহ নানা খনিজ রয়েছে যা ইমিউনিটি বুস্ট করতে সাহায্য করবে।

* ব্রেস্টফিডিং শিশুর ক্ষেত্রে মা যদি আক্রান্ত হয় তবে অবশ্যই প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর আগে হাত ভালো করে ধুতে হবে, মাকে মাস্ক পরতে হবে এবং সম্ভব হলে ব্রেস্ট, নিপল ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

* টডলার এবং প্রি স্কুল বয়সি শিশুদের আসলে কিছু বোঝানো সম্ভবপর নয়, এ ক্ষেত্রে নিজেদেরই সতর্ক থাকতে হবে, প্রয়োজনে বাসায় নিজেরা মাস্ক পরে থাকতে হবে।

* শিশুর জ্বর হলেই করোনা ভেবে ভয় পাওয়া যাবে না। নিয়মিত জ্বর থার্মোমিটার দিয়ে মাপুন, পালস্ অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেন স্যাচুরেশান মাপুন। অন্যান্য উপসর্গ আছে কিনা লক্ষ রাখুন। ডায়রিয়া থাকলে স্যালাইন দিন, জ্বর ১০০ ডিগ্রির ওপরে উঠলে প্যারাসিটামল দিতে পারেন তবে মনে রাখবেন শিশুদের জন্য বয়স ও ওজন ভিত্তিতে প্যারাসিটামলের ডোজ ভিন্ন ভিন্ন। অক্সিজেন স্যাচুরেশান ৯৪ শতাংশ এর কম হলে অথবা খুব বেশি ডায়রিয়ায় শিশু নিস্তেজ ভাব হয়ে গেলে শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে।

সর্বোপরি, করোনায় শিশুর যত্নে সতর্ক থাকতে হবে পরিবারের অন্য সদস্যদেরই।

লেখক : এমবিবিএস, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ

করোনায় শিশুদের যত্ন

 ডা. আমেনা আল নিশান 
১৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। করোনায় তরুণ এবং শিশুরা ও সমানভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টে শিশুদের উপসর্গবিহীন করোনা হলেও, বর্তমান ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে শিশুদেরও দেখা দিচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি উপসর্গ।

শিশুরা মাস্ক পরতে চায় না এবং স্বাস্থ্যবিধি তাদের বুঝানোও কষ্টসাধ্য। অনেক সময়েই তারা মা-বাবা থেকে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক শিশু বিকালে গ্যারাজে বা ছাদে খেলতে গিয়ে অন্য উপসর্গবিহীন করোনা আক্রান্ত শিশুদের থেকে আক্রান্ত হচ্ছে এবং পরে পরিবারে ছড়িয়ে পড়ছে।

* এ জন্য শিশুরা যারা অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছে, তাদের পরিবারের বয়স্কদের থেকে দূরে রাখতে হবে। যথাসম্ভব ঘরে রাখার চেষ্টা করতে হবে, ঘরে রাখতে গিয়ে মোবাইল বা স্ক্রিনে আসক্ত হতে দেওয়া যাবে না। ঘরে স্লাইডার, দোলনা ইত্যাদি ইনডোর প্লেগেমসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

* শিশুদের ঠান্ডা মাথায় গল্পের ছলে স্বাস্থ্যবিধি বোঝাতে হবে যেন তারা বাইরে গেলে যাতে মাস্ক পরে থাকে, ঠিকভাবে হাত ধোয়, হাঁচি কাশি এটিকে যাতে মেনে চলে। শিশু মাস্ক পরতে না চাইলে ধমক দেওয়া বা রাগারাগি করা অনুচিত, বরং ধৈর্য ধরে বারবার বোঝাতে হবে।

* মা বা বাবার করোনা হলে সঙ্গে শিশুর ও করোনা পরীক্ষা করানো উচিত, আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে শিশুকে দূরে রাখতে হবে।

* শিশুদের জাঙ্ক ফুড খাওয়া কমিয়ে পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস গড়ুন। ভিটামিন সি, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে দিন। ফলমূল, সামুদ্রিক মাছ, ডিম, দুধ খাওয়াবেন। বাদাম, পনির, মাংস, তিল, কুমড়া, লাউ, সবুজ মটরশুঁটিতে জিঙ্ক, ভিটামিন বি, আয়রনসহ নানা খনিজ রয়েছে যা ইমিউনিটি বুস্ট করতে সাহায্য করবে।

* ব্রেস্টফিডিং শিশুর ক্ষেত্রে মা যদি আক্রান্ত হয় তবে অবশ্যই প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর আগে হাত ভালো করে ধুতে হবে, মাকে মাস্ক পরতে হবে এবং সম্ভব হলে ব্রেস্ট, নিপল ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

* টডলার এবং প্রি স্কুল বয়সি শিশুদের আসলে কিছু বোঝানো সম্ভবপর নয়, এ ক্ষেত্রে নিজেদেরই সতর্ক থাকতে হবে, প্রয়োজনে বাসায় নিজেরা মাস্ক পরে থাকতে হবে।

* শিশুর জ্বর হলেই করোনা ভেবে ভয় পাওয়া যাবে না। নিয়মিত জ্বর থার্মোমিটার দিয়ে মাপুন, পালস্ অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেন স্যাচুরেশান মাপুন। অন্যান্য উপসর্গ আছে কিনা লক্ষ রাখুন। ডায়রিয়া থাকলে স্যালাইন দিন, জ্বর ১০০ ডিগ্রির ওপরে উঠলে প্যারাসিটামল দিতে পারেন তবে মনে রাখবেন শিশুদের জন্য বয়স ও ওজন ভিত্তিতে প্যারাসিটামলের ডোজ ভিন্ন ভিন্ন। অক্সিজেন স্যাচুরেশান ৯৪ শতাংশ এর কম হলে অথবা খুব বেশি ডায়রিয়ায় শিশু নিস্তেজ ভাব হয়ে গেলে শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে।

সর্বোপরি, করোনায় শিশুর যত্নে সতর্ক থাকতে হবে পরিবারের অন্য সদস্যদেরই।

লেখক : এমবিবিএস, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন