করোনা নিয়ন্ত্রণে নতুন রোল মডেল
jugantor
মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ ভ্যাক্সিনেশন
করোনা নিয়ন্ত্রণে নতুন রোল মডেল

  ডা. সুপ্রিয় পাল  

৩১ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অতি সম্প্রতি স্পেনের মাদ্রিদ শহরের কার্লোস থ্রি হেলথ ইনস্টিটিউট ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত পৃথক গবেষণার (কম-কোভ ভ্যাক্সিন ট্রায়াল) ফলাফল থেকে জানা যায়, দুটি আলাদা ধরনের কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে প্রয়োগের ফলে মানবদেহে শক্তিশালী করোনা প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। গবেষকরা এক্ষেত্রে এস্ট্রাজেনেকার ১ম ডোজ ভ্যাক্সিনপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকদের দেহে ৪ থেকে ১২ সপ্তাহের ব্যবধানে ফাইজারের ২য় ডোজ ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করে এ ফলাফল পেয়েছেন। অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এ ফলাফল করোনা অতিমারি নিয়ন্ত্রণ এবং ভ্যাক্সিন সংকট দূরীকরণে নতুন আশা সঞ্চার করেছে।

ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইতালি এবং সংযুক্ত আরব-আমিরাত এ পদ্ধতি প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে। এতে অতি শিগ্গির ভালো ফলাফল জানা যাবে। বিজ্ঞানীরা এ পদ্ধতির নাম দিয়েছেন ‘মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ ভ্যাক্সিনেশন’। বর্তমানে প্রচলিত ভ্যাক্সিনেশন পদ্ধতিতে একই ধরনের ভ্যাক্সিন নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে প্রয়োগ করতে হয়। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, নতুন পদ্ধতিটি সাধারণভাবে প্রচলিত ভ্যাক্সিনেশনের কার্যকারিতার চেয়েও অধিক কার্যকরী। প্রচলিত ভ্যাক্সিনেশন পদ্ধতিতে তৈরি হওয়া এন্টিবডির থেকেও প্রায় ৩৭ গুণ পর্যন্ত বেশি এন্টিবডি তৈরি হওয়া সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। স্পেন এবং জার্মানি ইতোমধ্যেই এস্ট্রাজেনেকার ১ম ডোজ ভ্যাক্সিনপ্রাপ্তদের দেহে ফাইজার বা মডার্নার যে কোনো একটির ২য় ডোজ ভ্যাক্সিন প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল তাদের মধ্যে একজন যিনি এ পদ্ধতিতে ২য় ডোজ হিসাবে মডার্নার ভ্যাক্সিন নিয়েছেন।

অবশ্য গত সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী ডা. সৌম্য স্বামীনাথান সতর্ক করেছেন, পর্যাপ্ত তথ্যউপাত্ত ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড় ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ ভ্যাক্সিনেশনের ব্যবহার করা ঠিক হবে না। অর্থাৎ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মতামত দিলে তবেই একটি ভ্যাকসিনের পর অপর আরেকটি ভ্যাকসিন দ্বিতীয় ডোজ হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। এস্ট্রাজেনেকা ও ফাইজারের ভ্যাক্সিন ব্যবহারের তথ্য-উপাত্ত এখন পর্যন্ত রয়েছে। জার্মানি ২য় ডোজ মডার্নার ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রেও ভালো ফলাফল পাচ্ছে।

এ ছাড়া গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, এ পদ্ধতিতে টিকা গ্রহণের পর বেশ কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (মাথাব্যথা, জ্বর, গা ব্যথা ইত্যাদি) পরিলক্ষিত হয়েছে, যা প্রচলিত ভ্যাক্সিনেশন পদ্ধতির চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করলে দ্রুত ঠিক হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত কোনোরকম মারাত্মক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করেছেন, এ পদ্ধতির মাধ্যমে ভ্যাক্সিন সংকট বা সাপ্লাই জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব এবং নিুমধ্যবিত্ত বা নিুবিত্ত দেশগুলোর জন্য এটি হতে পারে ভ্যাক্সিন রোল মডেল।

লেখক : করপোরেট সেফটি অফিসার (ফার্মাকোভিজিল্যান্স), বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ট্রেইনি রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট, CRIDA

মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ ভ্যাক্সিনেশন

করোনা নিয়ন্ত্রণে নতুন রোল মডেল

 ডা. সুপ্রিয় পাল 
৩১ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অতি সম্প্রতি স্পেনের মাদ্রিদ শহরের কার্লোস থ্রি হেলথ ইনস্টিটিউট ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত পৃথক গবেষণার (কম-কোভ ভ্যাক্সিন ট্রায়াল) ফলাফল থেকে জানা যায়, দুটি আলাদা ধরনের কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে প্রয়োগের ফলে মানবদেহে শক্তিশালী করোনা প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। গবেষকরা এক্ষেত্রে এস্ট্রাজেনেকার ১ম ডোজ ভ্যাক্সিনপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকদের দেহে ৪ থেকে ১২ সপ্তাহের ব্যবধানে ফাইজারের ২য় ডোজ ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করে এ ফলাফল পেয়েছেন। অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এ ফলাফল করোনা অতিমারি নিয়ন্ত্রণ এবং ভ্যাক্সিন সংকট দূরীকরণে নতুন আশা সঞ্চার করেছে।

ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইতালি এবং সংযুক্ত আরব-আমিরাত এ পদ্ধতি প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে। এতে অতি শিগ্গির ভালো ফলাফল জানা যাবে। বিজ্ঞানীরা এ পদ্ধতির নাম দিয়েছেন ‘মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ ভ্যাক্সিনেশন’। বর্তমানে প্রচলিত ভ্যাক্সিনেশন পদ্ধতিতে একই ধরনের ভ্যাক্সিন নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে প্রয়োগ করতে হয়। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, নতুন পদ্ধতিটি সাধারণভাবে প্রচলিত ভ্যাক্সিনেশনের কার্যকারিতার চেয়েও অধিক কার্যকরী। প্রচলিত ভ্যাক্সিনেশন পদ্ধতিতে তৈরি হওয়া এন্টিবডির থেকেও প্রায় ৩৭ গুণ পর্যন্ত বেশি এন্টিবডি তৈরি হওয়া সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। স্পেন এবং জার্মানি ইতোমধ্যেই এস্ট্রাজেনেকার ১ম ডোজ ভ্যাক্সিনপ্রাপ্তদের দেহে ফাইজার বা মডার্নার যে কোনো একটির ২য় ডোজ ভ্যাক্সিন প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল তাদের মধ্যে একজন যিনি এ পদ্ধতিতে ২য় ডোজ হিসাবে মডার্নার ভ্যাক্সিন নিয়েছেন।

অবশ্য গত সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী ডা. সৌম্য স্বামীনাথান সতর্ক করেছেন, পর্যাপ্ত তথ্যউপাত্ত ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড় ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ ভ্যাক্সিনেশনের ব্যবহার করা ঠিক হবে না। অর্থাৎ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মতামত দিলে তবেই একটি ভ্যাকসিনের পর অপর আরেকটি ভ্যাকসিন দ্বিতীয় ডোজ হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। এস্ট্রাজেনেকা ও ফাইজারের ভ্যাক্সিন ব্যবহারের তথ্য-উপাত্ত এখন পর্যন্ত রয়েছে। জার্মানি ২য় ডোজ মডার্নার ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রেও ভালো ফলাফল পাচ্ছে।

এ ছাড়া গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, এ পদ্ধতিতে টিকা গ্রহণের পর বেশ কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (মাথাব্যথা, জ্বর, গা ব্যথা ইত্যাদি) পরিলক্ষিত হয়েছে, যা প্রচলিত ভ্যাক্সিনেশন পদ্ধতির চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করলে দ্রুত ঠিক হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত কোনোরকম মারাত্মক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করেছেন, এ পদ্ধতির মাধ্যমে ভ্যাক্সিন সংকট বা সাপ্লাই জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব এবং নিুমধ্যবিত্ত বা নিুবিত্ত দেশগুলোর জন্য এটি হতে পারে ভ্যাক্সিন রোল মডেল।

লেখক : করপোরেট সেফটি অফিসার (ফার্মাকোভিজিল্যান্স), বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ট্রেইনি রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট, CRIDA

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন