শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে করোনার বিস্তার রোধে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট
jugantor
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে করোনার বিস্তার রোধে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট

  ড. খোন্দকার মেহেদী আকরাম  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে করোনার সংক্রমণ বিস্তার রোধে দরকার ‘ইনফেকশন মনিটরিং’, যা স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট কিট ব্যবহার করে সহজেই করা যায়। এ কোভিড টেস্ট কিট সহজলভ্য এবং ৩০ মিনিটের ভেতরেই কোনো মেশিন ছাড়াই ফলাফল জানা যায়।

র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট কিট প্রায় ৭২ শতাংশ স্পেসিফিক এবং ৯৫ শতাংশ সেনসিটিভ। এ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ড. খোন্দকার মেহেদী আকরাম

মাস্ক ও টেস্ট কিট

বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় দেড় বছর পর খুলে দেওয়া হয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমণও কমে গেছে ৫ শতাংশের নিচে। এ দুটি ঘটনাই দেশের জন্য অত্যন্ত সুখকর! পৃথিবীর আর কোনো দেশে একনাগাড়ে এত দীর্ঘ সময়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়নি। তবে গত দু’দিনে কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা করোনায় সংক্রমিত হয়েছে এবং একজন শিক্ষার্থী কোভিডে মারা গেছে বলেও খবর এসেছে।

স্কুল খোলার পর যে শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হবে তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছিল। যুক্তরাজ্যে এখন করোনা সংক্রমণের হার প্রায় ৩ শতাংশ এবং এ সংক্রমণের বেশিরভাগই হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সের শিশু। যুক্তরাষ্ট্রেও শিশুদের ভেতরে হঠাৎ করে সংক্রমণের হার বেড়ে গেছে। তাই বাংলাদেশেও শিশুরা করোনায় আক্রান্ত হবে, সেটাই স্বাভাবিক। এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ারও কোনো যৌক্তিকতা নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংক্রমণ শনাক্ত এবং বিস্তার রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্কুল চলাকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে অত্যন্ত জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি জায়গায় যখন সবাই মাস্ক পরে তখন সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায় প্রায় ৯৫ শতাংশ। এক্ষেত্রে সবাইকেই সঠিকভাবে সঠিক মাস্কটিই ব্যবহার করতে হবে। তিন স্তরের সার্জিক্যাল মাস্ক সবচেয়ে ভালো, পাতলা কাপড়ের তিন স্তরবিশিষ্ট মাস্কও কার্যকরী। কাপড়ের মাস্ক ধুয়ে বারবার ব্যবহার করা যায়-তাই সাশ্রয়ী। যেসব শিক্ষার্থী মাস্কের ব্যবস্থা করতে পারবে না, সরকার এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য কাপড়ের মাস্ক সরবরাহ করতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংক্রমণ বিস্তার রোধে দরকার ‘ইনফেকশন মনিটরিং’, যা স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট কিট ব্যবহার করে সহজেই করা যায়। এ কোভিড টেস্ট কিট সহজলভ্য এবং ৩০ মিনিটের ভেতরেই কোনো মেশিন ছাড়াই ফলাফল জানা যায়। র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট কিট প্রায় ৭২ শতাংশ স্পেসিফিক এবং ৯৫ শতাংশ সেনসিটিভ। যুক্তরাজ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কিট ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যাপকভাবে। সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণিকক্ষকে এক একটি ‘বাবল’ হিসাবে গণ্য করতে হবে এবং প্রতিটি বাবলের সংক্রমণ পরিস্থিতি মনিটর করতে হবে। একটি বাবলের শিক্ষার্থীরা আরেকটি বাবলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশতে পারবে না। ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলেও প্রতিটি শিক্ষককে মাসে অন্তত দু’বার র‌্যাপিড এন্টিজেন কোভিড টেস্ট করতে হবে স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই। সরকার এক্ষেত্রে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাপিড এন্টিজেন কোভিড টেস্ট কিট সবরারাহ করতে পারে।

টেস্ট কিটের সঙ্গে বাংলা নির্দেশনা সরবরাহ করা হলে ব্যবহারকরী নিজে নিজেই সঠিকভাবে কিটটি ব্যবহার করতে পারে। যুক্তরাজ্যে মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে এ টেস্ট কিট সরবারহ করা হয়েছে, যা দিয়ে তারা নিজেরাই সপ্তাহে দু’বার ঘরে বসেই কোভিড টেস্ট করছে। এ ছাড়া স্কুল এবং কলেজে রয়েছে পর্যাপ্ত কিট, যা দিয়ে কোভিড টেস্ট করা হচ্ছে প্রয়োজনমতো।

একটি বাবলের কোনো শিক্ষার্থীর করোনার লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই ওই শিক্ষার্থীকে স্কুল-কলেজেই র‌্যাপিড এন্টিজেন কিট দিয়ে টেস্ট করতে হবে। টেস্ট রেজাল্ট পজেটিভ এলে গোটা বাবলকে ‘রেড বাবল’ হিসাবে গণ্য করে বাবলের সবাইকে বাড়তি মনিটরিংয়ের ভেতর রাখতে হবে। প্রয়োজনে বাবলের সবাইকে কোভিড টেস্ট করতে হবে। যাদের পজেটিভ আসবে তাদের ১০-১৪ দিনের আইসোলেশনে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে বাবলের বা শ্রেণির সবাইকে আইসোলেশনে রাখার প্রয়োজন নেই বা পুরো ক্লাস বন্ধ করে দেওয়ার দরকার নেই। কোনো শিক্ষার্থীর বাসায় কারও করোনার লক্ষণ দেখা দিলে সে শিক্ষার্থী ১০ দিন স্কুলে আসবে না। মেডিকেল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও স্ব-স্ব ক্যাম্পাসে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট কিটের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীকে মাসে অন্তত একবার কোভিড টেস্ট করতে হবে ক্যাম্পাসে অথবা লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টেস্ট করে নিশ্চিত হতে হবে যে সে আক্রান্ত কিনা।

মহামারিকালীন এভাবেই বিভিন্ন ধাপের টেস্ট পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষাদান কর্মসূচি চালু রাখা সম্ভব। আর এর জন্য দরকার পর্যাপ্ত পরিমাণে র‌্যাপিড এন্টিজেন কিট এবং মাস্ক। সরকার যেমন কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করছে সবার জন্য; ঠিক একইভাবে সরকারের উচিত র‌্যাপিড এন্টিজেন কিট এবং কাপড়ের মাস্ক সরবরাহের মাধ্যমে জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল রাখার ব্যবস্থা করা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভ্যাকসিন নয়, তাদের জন্য এখন সবচেয়ে দরকার মাস্ক এবং র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট কিট।

এ ছাড়াও বাসা থেকে স্কুল বা স্কুল থেকে বাসায় যেন সংক্রমণ বিস্তার করতে না পারে তার জন্য অভিভাবকরাও বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। যেমন, স্কুল-কলেজ থেকে ফেরার পর শিক্ষার্থীদের পরিধেয় বস্ত্র বা ইউনিফর্ম খুলে পৃথক স্থানে রাখতে হবে যাতে তা ঘরের অন্য সদস্যদের কাপড়-চোপড়ের সংস্পর্শে না আসে। স্কুল থেকে ফিরে হাত-মুখ ও শরীরের উš§ুক্ত অংশগুলো ভালোমতো সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। পরিবারে বয়োবৃদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ সদস্য থাকলে স্কুল থেকে ফেরার পর শিশুরা যেন বয়োবৃদ্ধের কাছে না যায় সেদিকটায় বিশেষ নজর দিতে হবে। শিশুরা করোনায় আক্রান্ত হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাইল্ড কোভিড এবং লক্ষণবিহীন কোভিডে ভোগে, তারা সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বৃদ্ধদের কোভিড হলে তা মারাÍক আকার ধারণ করতে পারে খুব সহজেই। সুতরাং যেসব পরিবারের শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে সেসব পরিবারের বয়োবৃদ্ধদের জরুরি ভিত্তিতে কোভিডের টিকা দিতে হবে।

কোভিড মহামারি এত সহসা শেষ হচ্ছে না। আমাদের করোনাভাইরাসকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচতে শিখতে হবে। এর জন্য দরকার সরকার, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিপর্যায়ে সম্মিলিত এবং বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যকরী পদক্ষেপ। যুক্তরাজ্যে গত আড়াই মাস ধরে দৈনিক গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে। তারপরও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। এটা সম্ভব হচ্ছে স্কুল-কলেজে বিশেষ কোভিড স্বাস্থ্যবিধির প্রয়োগ, মাস্ক পরিধান এবং র‌্যাপিড এন্টিজেন কিটের কার্যকরী ব্যবহারের মাধ্যমে। শুধু ভ্যাকসিন প্রয়োগের দিকে মনোনিবেশ না করে উপরোল্লিখিত পদ্ধতিগুলোর যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু রাখা সম্ভব।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে করোনার বিস্তার রোধে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট

 ড. খোন্দকার মেহেদী আকরাম 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে করোনার সংক্রমণ বিস্তার রোধে দরকার ‘ইনফেকশন মনিটরিং’, যা স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট কিট ব্যবহার করে সহজেই করা যায়। এ কোভিড টেস্ট কিট সহজলভ্য এবং ৩০ মিনিটের ভেতরেই কোনো মেশিন ছাড়াই ফলাফল জানা যায়।

র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট কিট প্রায় ৭২ শতাংশ স্পেসিফিক এবং ৯৫ শতাংশ সেনসিটিভ। এ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ড. খোন্দকার মেহেদী আকরাম

মাস্ক ও টেস্ট কিট

বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় দেড় বছর পর খুলে দেওয়া হয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমণও কমে গেছে ৫ শতাংশের নিচে। এ দুটি ঘটনাই দেশের জন্য অত্যন্ত সুখকর! পৃথিবীর আর কোনো দেশে একনাগাড়ে এত দীর্ঘ সময়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়নি। তবে গত দু’দিনে কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীরা করোনায় সংক্রমিত হয়েছে এবং একজন শিক্ষার্থী কোভিডে মারা গেছে বলেও খবর এসেছে।

স্কুল খোলার পর যে শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হবে তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছিল। যুক্তরাজ্যে এখন করোনা সংক্রমণের হার প্রায় ৩ শতাংশ এবং এ সংক্রমণের বেশিরভাগই হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সের শিশু। যুক্তরাষ্ট্রেও শিশুদের ভেতরে হঠাৎ করে সংক্রমণের হার বেড়ে গেছে। তাই বাংলাদেশেও শিশুরা করোনায় আক্রান্ত হবে, সেটাই স্বাভাবিক। এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ারও কোনো যৌক্তিকতা নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংক্রমণ শনাক্ত এবং বিস্তার রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্কুল চলাকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে অত্যন্ত জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি জায়গায় যখন সবাই মাস্ক পরে তখন সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায় প্রায় ৯৫ শতাংশ। এক্ষেত্রে সবাইকেই সঠিকভাবে সঠিক মাস্কটিই ব্যবহার করতে হবে। তিন স্তরের সার্জিক্যাল মাস্ক সবচেয়ে ভালো, পাতলা কাপড়ের তিন স্তরবিশিষ্ট মাস্কও কার্যকরী। কাপড়ের মাস্ক ধুয়ে বারবার ব্যবহার করা যায়-তাই সাশ্রয়ী। যেসব শিক্ষার্থী মাস্কের ব্যবস্থা করতে পারবে না, সরকার এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য কাপড়ের মাস্ক সরবরাহ করতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংক্রমণ বিস্তার রোধে দরকার ‘ইনফেকশন মনিটরিং’, যা স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট কিট ব্যবহার করে সহজেই করা যায়। এ কোভিড টেস্ট কিট সহজলভ্য এবং ৩০ মিনিটের ভেতরেই কোনো মেশিন ছাড়াই ফলাফল জানা যায়। র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট কিট প্রায় ৭২ শতাংশ স্পেসিফিক এবং ৯৫ শতাংশ সেনসিটিভ। যুক্তরাজ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কিট ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যাপকভাবে। সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণিকক্ষকে এক একটি ‘বাবল’ হিসাবে গণ্য করতে হবে এবং প্রতিটি বাবলের সংক্রমণ পরিস্থিতি মনিটর করতে হবে। একটি বাবলের শিক্ষার্থীরা আরেকটি বাবলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশতে পারবে না। ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলেও প্রতিটি শিক্ষককে মাসে অন্তত দু’বার র‌্যাপিড এন্টিজেন কোভিড টেস্ট করতে হবে স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই। সরকার এক্ষেত্রে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাপিড এন্টিজেন কোভিড টেস্ট কিট সবরারাহ করতে পারে।

টেস্ট কিটের সঙ্গে বাংলা নির্দেশনা সরবরাহ করা হলে ব্যবহারকরী নিজে নিজেই সঠিকভাবে কিটটি ব্যবহার করতে পারে। যুক্তরাজ্যে মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে এ টেস্ট কিট সরবারহ করা হয়েছে, যা দিয়ে তারা নিজেরাই সপ্তাহে দু’বার ঘরে বসেই কোভিড টেস্ট করছে। এ ছাড়া স্কুল এবং কলেজে রয়েছে পর্যাপ্ত কিট, যা দিয়ে কোভিড টেস্ট করা হচ্ছে প্রয়োজনমতো।

একটি বাবলের কোনো শিক্ষার্থীর করোনার লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই ওই শিক্ষার্থীকে স্কুল-কলেজেই র‌্যাপিড এন্টিজেন কিট দিয়ে টেস্ট করতে হবে। টেস্ট রেজাল্ট পজেটিভ এলে গোটা বাবলকে ‘রেড বাবল’ হিসাবে গণ্য করে বাবলের সবাইকে বাড়তি মনিটরিংয়ের ভেতর রাখতে হবে। প্রয়োজনে বাবলের সবাইকে কোভিড টেস্ট করতে হবে। যাদের পজেটিভ আসবে তাদের ১০-১৪ দিনের আইসোলেশনে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে বাবলের বা শ্রেণির সবাইকে আইসোলেশনে রাখার প্রয়োজন নেই বা পুরো ক্লাস বন্ধ করে দেওয়ার দরকার নেই। কোনো শিক্ষার্থীর বাসায় কারও করোনার লক্ষণ দেখা দিলে সে শিক্ষার্থী ১০ দিন স্কুলে আসবে না। মেডিকেল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও স্ব-স্ব ক্যাম্পাসে র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট কিটের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীকে মাসে অন্তত একবার কোভিড টেস্ট করতে হবে ক্যাম্পাসে অথবা লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টেস্ট করে নিশ্চিত হতে হবে যে সে আক্রান্ত কিনা।

মহামারিকালীন এভাবেই বিভিন্ন ধাপের টেস্ট পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষাদান কর্মসূচি চালু রাখা সম্ভব। আর এর জন্য দরকার পর্যাপ্ত পরিমাণে র‌্যাপিড এন্টিজেন কিট এবং মাস্ক। সরকার যেমন কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করছে সবার জন্য; ঠিক একইভাবে সরকারের উচিত র‌্যাপিড এন্টিজেন কিট এবং কাপড়ের মাস্ক সরবরাহের মাধ্যমে জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল রাখার ব্যবস্থা করা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভ্যাকসিন নয়, তাদের জন্য এখন সবচেয়ে দরকার মাস্ক এবং র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট কিট।

এ ছাড়াও বাসা থেকে স্কুল বা স্কুল থেকে বাসায় যেন সংক্রমণ বিস্তার করতে না পারে তার জন্য অভিভাবকরাও বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। যেমন, স্কুল-কলেজ থেকে ফেরার পর শিক্ষার্থীদের পরিধেয় বস্ত্র বা ইউনিফর্ম খুলে পৃথক স্থানে রাখতে হবে যাতে তা ঘরের অন্য সদস্যদের কাপড়-চোপড়ের সংস্পর্শে না আসে। স্কুল থেকে ফিরে হাত-মুখ ও শরীরের উš§ুক্ত অংশগুলো ভালোমতো সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। পরিবারে বয়োবৃদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ সদস্য থাকলে স্কুল থেকে ফেরার পর শিশুরা যেন বয়োবৃদ্ধের কাছে না যায় সেদিকটায় বিশেষ নজর দিতে হবে। শিশুরা করোনায় আক্রান্ত হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাইল্ড কোভিড এবং লক্ষণবিহীন কোভিডে ভোগে, তারা সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বৃদ্ধদের কোভিড হলে তা মারাÍক আকার ধারণ করতে পারে খুব সহজেই। সুতরাং যেসব পরিবারের শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে সেসব পরিবারের বয়োবৃদ্ধদের জরুরি ভিত্তিতে কোভিডের টিকা দিতে হবে।

কোভিড মহামারি এত সহসা শেষ হচ্ছে না। আমাদের করোনাভাইরাসকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচতে শিখতে হবে। এর জন্য দরকার সরকার, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিপর্যায়ে সম্মিলিত এবং বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যকরী পদক্ষেপ। যুক্তরাজ্যে গত আড়াই মাস ধরে দৈনিক গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে। তারপরও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। এটা সম্ভব হচ্ছে স্কুল-কলেজে বিশেষ কোভিড স্বাস্থ্যবিধির প্রয়োগ, মাস্ক পরিধান এবং র‌্যাপিড এন্টিজেন কিটের কার্যকরী ব্যবহারের মাধ্যমে। শুধু ভ্যাকসিন প্রয়োগের দিকে মনোনিবেশ না করে উপরোল্লিখিত পদ্ধতিগুলোর যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু রাখা সম্ভব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন