মৌসুমি ফলের পুষ্টিগুণ
jugantor
মৌসুমি ফলের পুষ্টিগুণ

  আখতারুন নাহার আলো  

১৪ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এখন আবহাওয়া বেশ উষ্ণ হয়ে উঠেছে। দেহে ঘাম হচ্ছে প্রচুর। ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যাচ্ছে দেহের প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ পদার্থ। এ কারণে সব সময় একটা ক্লান্তি অনুভূত হয়। গরমের সময় পাওয়া যায় সব রসালো ফল। এ ফলই আমাদের শরীরে পানির জোগান দেয় ও খনিজ লবণের ঘাটতি মেটায়। বেশ কয়েকটি ফল এ সময় দেখা যায়। যেমন- তরমুজ, বাঙ্গি, কচি তাল, লিচু, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি।

তরমুজ : এই ফলে ক্যালরির মাত্রা কম তবে পুষ্টিগুণ বেশি। এতে লৌহ ও ভিটামিনের পরিমাণ বেশি আছে বলে রক্তস্বল্পতা, রাতকানা রোগ ও মূত্র সংক্রামণ রোধ করতে সাহায্য করে। কিডনি সবল রাখতেও তরমুজের রস সাহায্য করে। এ ছাড়া টাইফয়েডের রোগীকে বারবার তরমুজের রস দিলে জ্বরের মাত্রা কমে আসে। তরমুজের রস ও মাল্টার রস একত্রে মধু ও বরফ দিয়ে খেলে উপাদেয় হয়।

বাঙ্গি : ক্যারেটিন যুক্ত এই ফলটি বেশ মিষ্টি স্বাদযুক্ত। বাঙ্গির জুস ওজন হ্রাস, মূত্র ও মূত্রথলির প্রদাহ কমায়, কোষ্ঠবদ্ধতা, এসিডিটি ও পেপটিক আলসারে কার্যকর।

কচি তাল : একে তালের শাঁসও বলা হয়। এ ফলটি বেশ সুস্বাদু ও শীতল। এর সুবিধা এই যে, ডায়াবেটিক রোগীদের খেতে কোনো বাধা নেই। এতে ৯২.৩ গ্রাম জলীয় অংশ আছে।

লিচু : এটি তৃষ্ণা নিবারক, শরীরকে শীতল ও সতেজ রাখে। লিচুতে ক্যালসিয়াম আছে ভালো পরিমাণে।

আম : কাঁচা আমে শর্করা ও পেপটিনের পরিমাণ বেশি থাকে। আমের আকারের ওপর এর ক্যালোরি নির্ভর করে। পাকা আমে ৬০ শতাংশ বিটা ক্যারোটিন থাকে। ক্যারোটিনের উপস্থিতির জন্য চোখ ও ত্বকের জন্য আম খুবই উপকারী। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে কার্যকর। কাঁচা আমের শরবত লিভারের টনিক হিসাবে কাজ করে।

কাঁঠাল : কাঁঠাল শক্তিবর্ধক হিসাবে কাজ করে। এটি হজম হতে দেরি হয় বলে বেশি খেলে পেটে গ্যাস হয়। কাঁঠাল খাওয়ার পর যদি একটি বিচি চিবিয়ে খাওয়া হয়, তাহলে হজমে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় না। ক্যারোটিন সমৃদ্ধ এই ফলটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে।

সতর্কতা : যে কোনো ফল অনেক বেশি খাওয়া উচিত নয়। এতে যেমন হজমে সমস্যা হয়, তেমনি ডায়াবেটিস থাকলে ফ্রুক্টোজের জন্য রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তাই সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

লেখক : চিফ নিউট্রিশন অফিসার ও বিভাগীয় প্রধান (অব.), বারডেম। সভাপতি, ডায়াবেটিস নিউট্রিশনিস্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী ও অ্যাডভান্স হাসপাতাল, ঢাকা

মৌসুমি ফলের পুষ্টিগুণ

 আখতারুন নাহার আলো 
১৪ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এখন আবহাওয়া বেশ উষ্ণ হয়ে উঠেছে। দেহে ঘাম হচ্ছে প্রচুর। ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যাচ্ছে দেহের প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ পদার্থ। এ কারণে সব সময় একটা ক্লান্তি অনুভূত হয়। গরমের সময় পাওয়া যায় সব রসালো ফল। এ ফলই আমাদের শরীরে পানির জোগান দেয় ও খনিজ লবণের ঘাটতি মেটায়। বেশ কয়েকটি ফল এ সময় দেখা যায়। যেমন- তরমুজ, বাঙ্গি, কচি তাল, লিচু, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি।

তরমুজ : এই ফলে ক্যালরির মাত্রা কম তবে পুষ্টিগুণ বেশি। এতে লৌহ ও ভিটামিনের পরিমাণ বেশি আছে বলে রক্তস্বল্পতা, রাতকানা রোগ ও মূত্র সংক্রামণ রোধ করতে সাহায্য করে। কিডনি সবল রাখতেও তরমুজের রস সাহায্য করে। এ ছাড়া টাইফয়েডের রোগীকে বারবার তরমুজের রস দিলে জ্বরের মাত্রা কমে আসে। তরমুজের রস ও মাল্টার রস একত্রে মধু ও বরফ দিয়ে খেলে উপাদেয় হয়।

বাঙ্গি : ক্যারেটিন যুক্ত এই ফলটি বেশ মিষ্টি স্বাদযুক্ত। বাঙ্গির জুস ওজন হ্রাস, মূত্র ও মূত্রথলির প্রদাহ কমায়, কোষ্ঠবদ্ধতা, এসিডিটি ও পেপটিক আলসারে কার্যকর।

কচি তাল : একে তালের শাঁসও বলা হয়। এ ফলটি বেশ সুস্বাদু ও শীতল। এর সুবিধা এই যে, ডায়াবেটিক রোগীদের খেতে কোনো বাধা নেই। এতে ৯২.৩ গ্রাম জলীয় অংশ আছে।

লিচু : এটি তৃষ্ণা নিবারক, শরীরকে শীতল ও সতেজ রাখে। লিচুতে ক্যালসিয়াম আছে ভালো পরিমাণে।

আম : কাঁচা আমে শর্করা ও পেপটিনের পরিমাণ বেশি থাকে। আমের আকারের ওপর এর ক্যালোরি নির্ভর করে। পাকা আমে ৬০ শতাংশ বিটা ক্যারোটিন থাকে। ক্যারোটিনের উপস্থিতির জন্য চোখ ও ত্বকের জন্য আম খুবই উপকারী। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে কার্যকর। কাঁচা আমের শরবত লিভারের টনিক হিসাবে কাজ করে।

কাঁঠাল : কাঁঠাল শক্তিবর্ধক হিসাবে কাজ করে। এটি হজম হতে দেরি হয় বলে বেশি খেলে পেটে গ্যাস হয়। কাঁঠাল খাওয়ার পর যদি একটি বিচি চিবিয়ে খাওয়া হয়, তাহলে হজমে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় না। ক্যারোটিন সমৃদ্ধ এই ফলটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে।

সতর্কতা : যে কোনো ফল অনেক বেশি খাওয়া উচিত নয়। এতে যেমন হজমে সমস্যা হয়, তেমনি ডায়াবেটিস থাকলে ফ্রুক্টোজের জন্য রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তাই সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

লেখক : চিফ নিউট্রিশন অফিসার ও বিভাগীয় প্রধান (অব.), বারডেম। সভাপতি, ডায়াবেটিস নিউট্রিশনিস্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী ও অ্যাডভান্স হাসপাতাল, ঢাকা

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন