ফলের রাজা আম
jugantor
ফলের রাজা আম

  আখতারুন নাহার আলো  

২১ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিবছর মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাজারে বিভিন্ন জাতের সুমিষ্ট আম পাওয়া যায়। আমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ, সি ও ক্যালসিয়াম আছে। এর বিটা ক্যারোটিন এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। এতে প্রচুর আঁশ আছে বলে পরিপাকতন্ত্রের ওপর ভালো কাজ করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। বিটা-ক্যারোটিন ত্বক ও চোখের জন্য উপকারী। নিয়মিত আম খেলে ভিটামিন-এ এবং ক্যালরির চাহিদা পূরণ হয়। প্রতিটি আমে ক্যালরির পরিমাণ প্রায় ১৫০, শর্করা ৩৩.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৮ মিলিগ্রাম, লৌহ ২.৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-এ ৫০০০ মাইক্রোগ্রাম, আঁশ আছে ৭ গ্রামের মতো। পটাশিয়াম ১৯৬ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৩০২ মিলিগ্রাম, লাইকোপেন ২২.৩ মিলিগ্রাম। আম খুবই জনপ্রিয় ফল হলেও ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন কতখানি আম খেতে পারবেন সেই চিন্তায়। আম খেলে ওজন বাড়বে কিনা সেটা নিয়েও অনেকে দুশ্চিন্তা করেন।

* আম ও শর্করা : আমে প্রচুর শর্করা আছে বলে ডায়াবেটিক রোগীদের হিসাব করে খাওয়া উচিত। আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জি.আই) ৬০-৮৫। এ জন্য আম বেশি খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়তে পারে। পাকা মিষ্টি আম একজন ডায়াবেটিক রোগী প্রতিদিন ছোট একটা বা মাঝারি মাপের আমের অর্ধেকটা খেতে পারেন। অন্যান্য শর্করাজাতীয় খাবার কমিয়ে এ সময় খাদ্য তালিকায় আম যুক্ত করা যায়।

* আম ও কিডনি রোগ : কিডনি রোগীদের রক্তে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই পটাশিয়ামযুক্ত ফল না খাওয়াই ভালো। কিডনি রোগীরা আম খাওয়ার ব্যাপারে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন।

* আম ও হৃদরোগ : পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের উৎস হিসাবে আম অনস্বীকার্য। তাই ডায়াবেটিক ও কিডনির সমস্যা না থাকলে হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখার জন্য আম খাওয়া ভালো।

* আম ও দৈহিক ওজন : আমে ক্যালরির পরিমাণ কম নয়। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের আম সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। যদি একটু বেশি পরিমাণে খেতে চান তাহলে সেই পরিমাণ ক্যালরি অন্যান্য খাবার থেকে বাদ দেবেন।

* কাঁচা আম : এতে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ থাকে। ফল পাকার সঙ্গে সঙ্গে এ স্টার্চ গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, মল্টোজ ও সুক্রোজে পরিণত হয়। কাঁচা আমে পেকটিন বেশি থাকে। গ্যালিক অ্যাসিডের জন্য কাঁচা আম খেতে টক লাগে। কাঁচা আম দিয়ে আচার, মোরব্বা, চাটনি, শরবত তৈরি করা যায়। গরমের সময় কাঁচা আম বাটা পানি, লবণ, চিনি বরফ কুচি ও পুদিনাপাতা দিয়ে শরবত করে খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং পুষ্টিও লাভ হয়। এটি লিভারের টনিক হিসাবে কাজ করে।

পাকা আম দ্রুত হজম ও শোষণ হয়। আমাশয় হলে কচি আমপাতার রস গরম করে দুই-তিন চা চামচ খেলে উপকার হয়। এ ছাড়া বহুমূত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য কচি পাতা শুকিয়ে গুঁড়া করে খাওয়া যেতে পারে।

লেখক : চিফ নিউট্রিশন অফিসার ও বিভাগীয় প্রধান (অব.), বারডেম। সভাপতি, ডায়াবেটিস নিউট্রিশনিস্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী ও অ্যাডভান্স হাসপাতাল, ঢাকা

ফলের রাজা আম

 আখতারুন নাহার আলো 
২১ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিবছর মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাজারে বিভিন্ন জাতের সুমিষ্ট আম পাওয়া যায়। আমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ, সি ও ক্যালসিয়াম আছে। এর বিটা ক্যারোটিন এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। এতে প্রচুর আঁশ আছে বলে পরিপাকতন্ত্রের ওপর ভালো কাজ করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। বিটা-ক্যারোটিন ত্বক ও চোখের জন্য উপকারী। নিয়মিত আম খেলে ভিটামিন-এ এবং ক্যালরির চাহিদা পূরণ হয়। প্রতিটি আমে ক্যালরির পরিমাণ প্রায় ১৫০, শর্করা ৩৩.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৮ মিলিগ্রাম, লৌহ ২.৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-এ ৫০০০ মাইক্রোগ্রাম, আঁশ আছে ৭ গ্রামের মতো। পটাশিয়াম ১৯৬ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৩০২ মিলিগ্রাম, লাইকোপেন ২২.৩ মিলিগ্রাম। আম খুবই জনপ্রিয় ফল হলেও ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন কতখানি আম খেতে পারবেন সেই চিন্তায়। আম খেলে ওজন বাড়বে কিনা সেটা নিয়েও অনেকে দুশ্চিন্তা করেন।

* আম ও শর্করা : আমে প্রচুর শর্করা আছে বলে ডায়াবেটিক রোগীদের হিসাব করে খাওয়া উচিত। আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জি.আই) ৬০-৮৫। এ জন্য আম বেশি খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়তে পারে। পাকা মিষ্টি আম একজন ডায়াবেটিক রোগী প্রতিদিন ছোট একটা বা মাঝারি মাপের আমের অর্ধেকটা খেতে পারেন। অন্যান্য শর্করাজাতীয় খাবার কমিয়ে এ সময় খাদ্য তালিকায় আম যুক্ত করা যায়।

* আম ও কিডনি রোগ : কিডনি রোগীদের রক্তে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই পটাশিয়ামযুক্ত ফল না খাওয়াই ভালো। কিডনি রোগীরা আম খাওয়ার ব্যাপারে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন।

* আম ও হৃদরোগ : পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের উৎস হিসাবে আম অনস্বীকার্য। তাই ডায়াবেটিক ও কিডনির সমস্যা না থাকলে হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখার জন্য আম খাওয়া ভালো।

* আম ও দৈহিক ওজন : আমে ক্যালরির পরিমাণ কম নয়। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের আম সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। যদি একটু বেশি পরিমাণে খেতে চান তাহলে সেই পরিমাণ ক্যালরি অন্যান্য খাবার থেকে বাদ দেবেন।

* কাঁচা আম : এতে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ থাকে। ফল পাকার সঙ্গে সঙ্গে এ স্টার্চ গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, মল্টোজ ও সুক্রোজে পরিণত হয়। কাঁচা আমে পেকটিন বেশি থাকে। গ্যালিক অ্যাসিডের জন্য কাঁচা আম খেতে টক লাগে। কাঁচা আম দিয়ে আচার, মোরব্বা, চাটনি, শরবত তৈরি করা যায়। গরমের সময় কাঁচা আম বাটা পানি, লবণ, চিনি বরফ কুচি ও পুদিনাপাতা দিয়ে শরবত করে খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং পুষ্টিও লাভ হয়। এটি লিভারের টনিক হিসাবে কাজ করে।

পাকা আম দ্রুত হজম ও শোষণ হয়। আমাশয় হলে কচি আমপাতার রস গরম করে দুই-তিন চা চামচ খেলে উপকার হয়। এ ছাড়া বহুমূত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য কচি পাতা শুকিয়ে গুঁড়া করে খাওয়া যেতে পারে।

লেখক : চিফ নিউট্রিশন অফিসার ও বিভাগীয় প্রধান (অব.), বারডেম। সভাপতি, ডায়াবেটিস নিউট্রিশনিস্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী ও অ্যাডভান্স হাসপাতাল, ঢাকা

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন