মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার চিকিৎসায় ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন সার্জারি
jugantor
মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার চিকিৎসায় ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন সার্জারি

  সুস্থ থাকুন ডেস্ক  

১১ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার বা পারকিনসন্স হলো চলার সময় ভারসাম্য রক্ষা সংক্রান্ত এক ধরনের রোগ, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে কম্পন, ধীরগতিতে নড়াচড়া, অনমনীয় পেশি ও হাঁটার অসুবিধার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। মস্তিষ্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু কোষের ক্রমাগত মৃত্যু ও অবক্ষয়ের কারণে এ রোগটি হয়, যা ডোপামিন নামে পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উৎপন্ন করে। ডোপামিন উৎপাদনে এই বাধা অনেক রকমের উপসর্গের সূত্রপাত ঘটায়।

ডাইস্টোনিয়া এক ধরনের মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার। এতে রোগীর পেশিগুলো অনিচ্ছাকৃতভাবে সংকুচিত হয়ে যায়, যার ফলে পুনরাবৃত্তিমূলক নড়াচড়া হয়। এ রোগ শরীরের একটি একক অংশ (ফোকাল ডাইস্টোনিয়া), বা শরীরের দুই বা ততোধিক অংশ (সেগমেন্টাল ডাইস্টোনিয়া), বা পুরো শরীরকে (সাধারণ ডাইস্টোনিয়া) প্রভাবিত করতে পারে।

ডিবিএস হলো পারকিনসন্স, ডাইস্টোনিয়া ও এসেনশিয়াল ট্রেমোর্স-এর মতো মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার চিকিৎসার জন্য একটি প্রমাণিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট এলাকায় ইলেক্ট্রোড ইমপ্ল্যান্ট করা হয়, যার মাধ্যমে মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার চিকিৎসার জন্য ইলেকট্রিক্যাল ইম্পালস পাঠানো হয়। এ চিকিৎসা শুধু ওইসব রোগীর জন্য, যারা ওষুধ দিয়ে তাদের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ১ কোটিরও বেশি মানুষ পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত। এটাও বলা হয়ে থাকে যে পারকিনসন্স রোগের প্রকোপ বয়সের সঙ্গে বৃদ্ধি পায়, তবে আনুমানিক প্রায় চার শতাংশ মানুষ ৫০ বছর বয়সের আগেই এ রোগে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়াও, নারীদের তুলনায় পুরুষদের পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা দেড় গুণ বেশি।

পারকিনসন্স রোগ শনাক্ত করার জন্য বর্তমানে কোনো চূড়ান্ত ডায়গনস্টিক পরীক্ষা নেই; তাই রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রধানত ক্লিনিকাল বিষয়, লক্ষণ, চিকিৎসার ইতিহাস, স্নায়ুবিক ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করা হয়। তাই, রোগীদের জন্য প্রধান লক্ষণগুলো শনাক্ত করা ও দ্রুত রোগ নির্ণয়ের জন্য পেশাগত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি ঢাকায় এ ধরনের রোগের তিনটি সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারগুলো গড়ে ৪৫ বছর বয়সি তিনজন রোগীর ওপর করা হয়েছে, যার মধ্যে দু’জন পারকিনসন্স রোগে ও আরেকজন সাধারণ ডাইস্টোনিয়ায় আক্রান্ত। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি এবং ভারতের গুরুগ্রাম, দিল্লি এনসিআর-এ অবস্থিত মেদান্তা ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী পরিচালক ডা. অনির্বাণ দ্বীপ ব্যানার্জী, এই দু’জন চিকিৎসক মূলত অস্ত্রোপচারগুলো সম্পন্ন করেন। তাদের এনআইএনএস-এর একদল নিউরোলজিস্ট।

এ বিষয়ে ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি বলেন, ‘এ থেরাপিগুলো এখন বাংলাদেশে সহজলভ্য। আমরা ভবিষ্যতে এ ধরনের অত্যাধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে আরও বেশি রোগীদের উপকৃত করার ব্যাপারে আশাবাদী।’ ডা. অনির্বাণ দ্বীপ ব্যানার্জী বলেন, ‘ডিবিএস বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘস্থায়ী স্নায়বিক জটিলতার চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। এ পদ্ধতিটি পারকিনসন্স রোগ ও ডাইস্টোনিয়ার মতো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন রোগগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষণগুলোর উপশমে সাহায্য করে।’

মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার চিকিৎসায় ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশন সার্জারি

 সুস্থ থাকুন ডেস্ক 
১১ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার বা পারকিনসন্স হলো চলার সময় ভারসাম্য রক্ষা সংক্রান্ত এক ধরনের রোগ, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে কম্পন, ধীরগতিতে নড়াচড়া, অনমনীয় পেশি ও হাঁটার অসুবিধার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। মস্তিষ্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু কোষের ক্রমাগত মৃত্যু ও অবক্ষয়ের কারণে এ রোগটি হয়, যা ডোপামিন নামে পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উৎপন্ন করে। ডোপামিন উৎপাদনে এই বাধা অনেক রকমের উপসর্গের সূত্রপাত ঘটায়।

ডাইস্টোনিয়া এক ধরনের মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার। এতে রোগীর পেশিগুলো অনিচ্ছাকৃতভাবে সংকুচিত হয়ে যায়, যার ফলে পুনরাবৃত্তিমূলক নড়াচড়া হয়। এ রোগ শরীরের একটি একক অংশ (ফোকাল ডাইস্টোনিয়া), বা শরীরের দুই বা ততোধিক অংশ (সেগমেন্টাল ডাইস্টোনিয়া), বা পুরো শরীরকে (সাধারণ ডাইস্টোনিয়া) প্রভাবিত করতে পারে।

ডিবিএস হলো পারকিনসন্স, ডাইস্টোনিয়া ও এসেনশিয়াল ট্রেমোর্স-এর মতো মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার চিকিৎসার জন্য একটি প্রমাণিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট এলাকায় ইলেক্ট্রোড ইমপ্ল্যান্ট করা হয়, যার মাধ্যমে মুভমেন্ট ডিজঅর্ডার চিকিৎসার জন্য ইলেকট্রিক্যাল ইম্পালস পাঠানো হয়। এ চিকিৎসা শুধু ওইসব রোগীর জন্য, যারা ওষুধ দিয়ে তাদের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ১ কোটিরও বেশি মানুষ পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত। এটাও বলা হয়ে থাকে যে পারকিনসন্স রোগের প্রকোপ বয়সের সঙ্গে বৃদ্ধি পায়, তবে আনুমানিক প্রায় চার শতাংশ মানুষ ৫০ বছর বয়সের আগেই এ রোগে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়াও, নারীদের তুলনায় পুরুষদের পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা দেড় গুণ বেশি।

পারকিনসন্স রোগ শনাক্ত করার জন্য বর্তমানে কোনো চূড়ান্ত ডায়গনস্টিক পরীক্ষা নেই; তাই রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রধানত ক্লিনিকাল বিষয়, লক্ষণ, চিকিৎসার ইতিহাস, স্নায়ুবিক ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করা হয়। তাই, রোগীদের জন্য প্রধান লক্ষণগুলো শনাক্ত করা ও দ্রুত রোগ নির্ণয়ের জন্য পেশাগত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি ঢাকায় এ ধরনের রোগের তিনটি সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারগুলো গড়ে ৪৫ বছর বয়সি তিনজন রোগীর ওপর করা হয়েছে, যার মধ্যে দু’জন পারকিনসন্স রোগে ও আরেকজন সাধারণ ডাইস্টোনিয়ায় আক্রান্ত। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি এবং ভারতের গুরুগ্রাম, দিল্লি এনসিআর-এ অবস্থিত মেদান্তা ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী পরিচালক ডা. অনির্বাণ দ্বীপ ব্যানার্জী, এই দু’জন চিকিৎসক মূলত অস্ত্রোপচারগুলো সম্পন্ন করেন। তাদের এনআইএনএস-এর একদল নিউরোলজিস্ট।

এ বিষয়ে ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি বলেন, ‘এ থেরাপিগুলো এখন বাংলাদেশে সহজলভ্য। আমরা ভবিষ্যতে এ ধরনের অত্যাধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে আরও বেশি রোগীদের উপকৃত করার ব্যাপারে আশাবাদী।’ ডা. অনির্বাণ দ্বীপ ব্যানার্জী বলেন, ‘ডিবিএস বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘস্থায়ী স্নায়বিক জটিলতার চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। এ পদ্ধতিটি পারকিনসন্স রোগ ও ডাইস্টোনিয়ার মতো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন রোগগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষণগুলোর উপশমে সাহায্য করে।’

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন