হেপাটাইটিস থেকে সুরক্ষা আপনার হাতেই
jugantor
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত গোলটেবিলে বক্তারা
হেপাটাইটিস থেকে সুরক্ষা আপনার হাতেই

  যুগান্তর প্রতিবেদন   

৩০ জুলাই ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি লিভারের রোগী রয়েছে। এদের মধ্যে কারও কারও রোগ শনাক্ত হয়ে চিকিৎসা চলছে। অনেকেই লিভারের ভাইরাস তাদের শরীরে নীরবে বহন করছেন। এ সম্পর্কে তথ্যজ্ঞান থাকলে ও সচেতন হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা লিভারের রোগ থেকে দূরে থাকতে পারি। এমন বাস্তবতায় ১৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষ্যে ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার ডিজিজেস বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে ও বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের সহযোগিতায় এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনটির মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক যুগান্তর। এ আয়োজনে দেশের খ্যাতনামা লিভার বিশেষজ্ঞরা লিভার রোগ চিকিৎসার বর্তমান বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

‘সি’ ভাইরাসকে নীরব ঘাতকও বলা হয়

“হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস সম্পর্কে আমাদের জনগণের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সচেতনতা কম। যদি এ ভাইরাস প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায় তবে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ। একে নীরব ঘাতকও বলা হয়। কারণ, এটি শরীরে ঢুকে ২০-২৫ বছর পর্যন্ত নীরবে কোনো লক্ষণ ছাড়াই অবস্থান করে। এ পর্যায়ে যদি চিকিৎসা করা না হয় তাহলে টাইমবোমার মতো এক সময় এর বিস্ফোরণে আমাদের শরীরকেও কাবু করে ফেলতে পারে। লিভার সিরোসিস ও ক্যানসারের অন্যতম কারণ এই সি ভাইরাস। সি ভাইরাস প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে ঢুকলে ৯০-৯৫ জন রোগী এর বাহক বা ক্যারিয়ার হয়ে যায়। সি যেহেতু আরএনএ ভাইরাস, তাই এর চিকিৎসা দরকার। আমাদের দেশে এ চিকিৎসা সহজলভ্য। বাইরের দেশ থেকে একশ ভাগের এক ভাগ মূল্যে দেশেই এর চিকিৎসা সম্ভব। বিদেশ থেকে রোগীরা আমাদের দেশ থেকে ওষুধ কিনে নিয়ে যায়। রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার মাধ্যমে আগামীতে পৃথিবী থেকে সি ভাইরাস নির্মূল করা সম্ভব-এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি।”

- ডা. সেলিমুর রহমান

অধ্যাপক (প্রাক্তন), হেপাটোলজি বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রেসিডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার ডিজিজেস বাংলাদেশ।

ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ট্রেনিং বাড়াতে হবে

“২০৩০ সালের মধ্যে লিভারের রোগ নির্মূলের যে অঙ্গীকার তা বাস্তবায়ন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের হতে পারে। দেশে লিভার বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ১০০-এর সামান্য ওপরে। এ জন্য লিভার রোগের ডায়াগনোসিস সেভাবে হচ্ছে না এবং হলেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিকিৎসকরা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ না হওয়ার জন্য প্রটোকল অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে পারছে না। মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানসম্মত ট্রেনিং দিলে তারা রোগীদের সর্বোচ্চমানের চিকিৎসা দিতে পারবে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ বাড়ালেও চিকিৎসা খরচ যদি সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে হয় তাহলেও লক্ষ্য অর্জনে আমরা ব্যর্থ হব। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে হেপাটাইসি ‘বি’-এর টিকা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, তাহলে ‘বি’ ভাইরাসের ব্যাপকতা থেকে আমরা অনেকটা মুক্ত থাকব। এছাড়া আমরা দেশের ব্লাডব্যাংক সেন্টারগুলোর গুণগত মান মনিটরিং করতে পারছি না। এ কারণেও ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও কাক্সিক্ষত মানে পৌঁছাতে পারছি না। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, অন্যদিকে বর্জ্যরে মাধ্যমে লিভারের ভাইরাস মানবদেহে বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।”

- অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান

সাবেক ভিসি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

অপচিকিৎসা লিভারের রোগকে জটিল করে তোলে

“যে কোনো দিবসের প্রধান লক্ষ্য থাকে জনগণকে সে রোগ সম্পর্কে সচেতন করা ও চিকিৎসা নিতে উদ্বুদ্ধ করা। আমরা এমন এক সময় এ দিবস পালন করছি যেখানে বাংলাদেশে প্রতি ১০ জনের ১ জন জানেন না তিনি হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাসে আক্রান্ত! রোগ ডায়াগোনোসিস হলেও অনেকেই চিকিৎসা নিতে চান না, কারণ তারা মনে করেন এর কোনো চিকিৎসা নেই। এরাই আবার হারবাল চিকিৎসা বা বিভিন্ন টোটকা ফোটকা নিয়ে রোগকে আরও জটিল করে তুলছেন। জাপান, চীনেও রোগীরা এ ধরনের নন ট্রাডিশনাল চিকিৎসা যাকে আমরা অপচিকিৎসা বলি তা গ্রহণ করছে। দেখতে পাই সমাজে অনেক ট্যাবু বা ভ্রান্ত বিশ্বাস আছে। যেমন হেপাটাইটিস বি বা সি’তে কেউ আক্রান্ত হলে তার খাবার টেবিল পর্যন্ত আলাদা করে দেওয়া হয়। তাকে বিয়েও দেওয়া হয় না বা কেউ বিয়ে করতেও চায় না। এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। বৈজ্ঞানিকভাবে এ ধরনের ভ্রান্ত ধারণার কোনো সত্যতাও নেই।”

- অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল

ডিভিশনাল প্রধান, ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলোজি ডিভিশন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

ফ্যাটিলিভার ডিজিজ হেপাটাইটিসের প্রধান কারণ

“যে কোনো কারণে লিভারের যে প্রদাহ হয় তাকে হেপাটাইটিস বলে। বিশ্বব্যাপী বর্তমানে হেপাটাইটিসের প্রধান কারণ ফ্যাটিলিভার ডিজিজ যাকে ন্যাস (NASH) বা নন অ্যালকোহলিক স্টিয়াটো হেপাটাইটিসও বলে। এ ফ্যাটি লিভার ডিজিজ আমরা কিন্তু খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন করে সহজেই প্রতিরোধ করতে পারি। আমাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে, হেপাটাইটিসকে কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা। জানতে হবে, ‘এ’ ও ‘ই’ ভাইরাস দূষিত পানি ও খাদ্য থেকে ছড়ায়। পক্ষান্তরে বি ও সি ভাইরাস থেকে দীর্ঘমেয়াদি লিভারের অসুখ ও লিভার সিরোসিস হয়, এ বিষয়টি জানসাধারণের মধ্যে প্রচার করতে হবে। এখনো বিশ্বে প্রতিবছর দশ লাখ রোগী লিভারের জটিলতায় মারা যায়। তাই এর প্রতিরোধে পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং করা জরুরি। হেপাটাইটিস ‘বি’-এর পরীক্ষা করুন এবং নেগেটিভ এলে টিকা গ্রহণ করুন।”

-ডা. ফারুক আহমেদ

সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, হেপাটোলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ।

গর্ভবতী পজিটিভ হলে নবজাতক নিয়েও আশঙ্কা থাকে

“গর্ভবতীর হেপাটাইটিস বি বা সি শনাক্ত হলে তার চিকিৎসাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তাকে নিয়মিত ফলোআপে রাখতে হবে। এ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করিয়েই ডেলিভারি করাতে হবে। গর্ভবতী পজিটিভ হলে যেহেতু নবাজাতকেরও এ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাই শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যে এন্টিবডি ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইনজেকশন দিতে হবে। ১২ ঘণ্টা পর টিকা দিলে তার কোনো কার্যকারিতা থাকে না। গর্ভাবস্থায় এন্টি ভাইরাল ওষুধ দিয়ে ভাইরাল লোড কমিয়ে আনতে হবে। নিরাপদ ডেলিভারির জন্য প্রেগনেন্সির আগের ভাইরাল মার্কার পরীক্ষাগুলো করিয়ে নিতে হবে। এ ভাইরাস যেহেতু রক্ত বা রক্তজাত উপাদানের মাধ্যমে ছড়ায় তাই গর্ভবতীকে রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে অবশ্যই রক্তদাতার রক্তের স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। গর্ভবতীর এ ভাইরাসে আক্রান্ত, কিন্তু রোগ যদি অনির্ণীত থাকে তবে অনাগত সন্তানের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে, তাই পরিকল্পিত গর্ভধারণ কাম্য।”

-অধ্যাপক ডা. এম এ রহিম

হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

বি ভাইরাসে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীর লক্ষণ থাকে না

“বি ভাইরাস দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস সৃষ্টি করে। ৬ মাসের বেশি লিভার ডিজিজ থাকলে তাকে ক্রনিক হেপাটাইটিস বলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ রোগীদের কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে, মৃদু জন্ডিস থাকতে পারে। বি-তে আক্রান্ত ৭০ ভাগ রোগীর পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা শুরু করা না যায় তবে এর জটিলতা বেড়ে যায়। যেমন- লিভার ক্যানসার, পেটে পানি এসে ফুলে যাওয়া, রক্ত বমি বা পেটের শিরা ফুলে যাওয়া। বিদেশে যাওয়ার আগে বা কোনো সার্জারির আগে এইচবিএসএজি নামক রক্ত পরীক্ষা করলে জানা যায় রোগী ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। এ রোগের চিকিৎসা আমাদের দেশে রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এ রোগে ব্যবহৃত ট্যাবলেটের দামও সুলভ। এ ছাড়া ইনজেকশনও রয়েছে। প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন রয়েছে যা আমাদের দেশেই প্রস্তুত হয়।”

-ডা. মো. ফজল করিম

সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, হেপাটোলজি বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ।

প্রত্যেক নবজাতক যেন বি ভাইরাসের টিকা পায়

“জন্মের পরপরই নবজাতককে যে টিকা দেওয়া হয় তাই বার্থডোজ ভ্যাকসিনেশন। যে গর্ভবর্তীর হেপাটাইটিস বি পজিটিভ তাদের অনাগত সন্তানদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগের পজিটিভ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এদের মধ্যে আবার শতকরা ২৫ ভাগের ১০-২০ বছর পর লিভার ক্যানসার ও লিভার সিরোসিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কোনো নবজাতকই যেন ‘বি’ ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়া থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। এ ক্ষেত্রে মসজিদ, মন্দির, বিভিন্ন উপাসনালয়, স্কুলের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি করে এ টিকা দেওয়ার ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ হলো, প্রত্যেক নবজাতক যেন বি ভাইরাসের টিকা পায়; এক্ষেত্রে মা পজিটিভ বা নেগেটিভ যাই হোক না কেন। এখন পর্যন্ত আমরা শুধু পজিটিভ মায়েদের সন্তানদের ক্ষেত্রেই এ টিকা দিয়ে আসছি। গণটিকাদান কর্মসূচিতে রক্ত পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং করে বি ভাইরাস নেগেটিভ এলে এ টিকা মায়েদেরও দিতে হবে।”

-ডা. জাহাঙ্গীর আলম সরকার

সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

শতভাগ বি ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনতে হবে

“তৃণমূল পর্যায়ে বি ও সি ভাইরাস নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পাঠ্যসূচিতে হেপাটাইটিস প্রতিরোধ নিয়ে লেখা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গ্লাভস, সিরিঞ্জ, মাস্ক থেকে যেহেতু এ ভাইরাসগুলো ছাড়ায় তাই মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এদের ধ্বংস করতে হবে। ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আরও জোরদার করতে হবে। দেশের একটি অঞ্চলকে মডেল হিসাবে ধরে পুরো দেশকে শতভাগ বি ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনতে হবে। তাহলে হেপাটাইটিসের রোগী কমে আসবে। আমাদের দেশে যেহেতু ভ্যাকসিন উৎপাদন হচ্ছে, এর দাম কীভাবে আরও সুলভ করা যায় সে ব্যাপারেও নজর দিতে হবে। ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামকে আনন্দমুখর করার জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জন্মের পর পরই সবাইকে হেপাটাইটিস ‘বি’-এর ভ্যাকসিন দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে লিভার বিশেষজ্ঞরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছি।”

-ডা. শেখ মোহাম্মদ নূর-ই আলম ডিউ

সহযোগী অধ্যাপক, হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

‘ই’ ভাইরাসের ভ্যাকসিন সহজলভ্য করা প্রয়োজন

“বন্যা পরবর্তী নিরাপদ ও সুপেয় পানির অভাব, মল-মূত্রের সঙ্গে ওয়াসার পানি মিশে গেলে অর্থাৎ সুয়ারেজ সিস্টেম ভালো না হলে এ পানিতে অবস্থিত ‘এ’ ও ‘ই’ ভাইরাস আমাদের সংক্রমিত করতে পারে। এ রোগীরা ব্যথার, ঘুমের ওষুধ এবং প্যারাসিটামল খেতে পারবে না। তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত ও গুরুপাক খাবার এ সময় না খাওয়াই উত্তম। এসব রোগীদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়, যেমন- যাদের উচ্চমাত্রায় জন্ডিস হয়েছে এবং ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হার্ট ডিজিজ, কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বা ইমিউনোসাপ্রেসিভ ড্রাগ খাচ্ছেন তারা জন্ডিসে আক্রান্ত হলে মুখে কিছু খেতে না পারলে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন। ‘ই’ ভাইরাসের ভ্যাকসিন সহজলভ্য করা প্রয়োজন।”

-ডা. প্রভাত কুমার পোদ্দার

সহযোগী অধ্যাপক, হেপাটোলোজি বিভাগ

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ।

এ রোগে আক্রান্তদের শনাক্তের সংখ্যা বাড়াতে হবে

“২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূলে জাতিসংঘের যে আহ্বান তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশও অঙ্গীকারাবদ্ধ। এটি অর্জনের জন্য পাঁচটি পদক্ষেপ নিতে হবে। ১. এক বছরের কম বয়সি বাচ্চাদের হেপাটাইসি বি ভ্যাকসিন শতভাগ দিতে হবে। ২. মা থেকে শিশুতে ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে হবে। ৩. নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন করতে হবে। ৪. ড্রাগ, নিডল বা সুঁচের মাধ্যমে যারা ড্রাগ বা নেশা করে, তাদের সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। ৫. হেপাটাইটিসে আক্রান্তদের শনাক্তের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং তাদের চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। এছাড়া জন্মের পরপরই শিশুদের ‘বি’ ভ্যাকসিন দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। ইপিআই সিডিউলে শিশুদের ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে প্যান্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিনের মাধ্যমে বি ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়।”

-ডা. ফয়েজ আহমেদ খন্দকার

সহযোগী অধ্যাপক, হেপাটোলজি বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ

গ্রামীণ জনগণ টেস্ট করতে খুব বেশি আগ্রহী নয়

“ক্রনিক হেপাটাইটিস বি ভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য এইচবিএসএজি নামক রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। আমাদের দেশে সর্বত্র এ পরীক্ষা বিদ্যমান। তবে মানসম্মত কিটের সমস্যা রয়েছে। আমরা দেখছি, শহরাঞ্চলে ‘এ’ ও ‘ই’ ভাইরাসের প্রকোপ ও শনাক্ত হয় বেশি। গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে এটি ততটা শনাক্ত না হওয়ার কারণ হচ্ছে, জনগণ টেস্ট করতে খুব আগ্রহী নয়। এ ভাইরাস নির্ণয়ে দেশের সর্বত্র টেস্ট সহজলভ্যও নয়। আমরা জুনিয়র চিকিৎসকদের লিভার রোগ নির্ণয়, প্রটোকল অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিনিয়ত ট্রেনিং দিয়ে আসছি। তবে এ উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে, সাইনবোর্ড, শিক্ষামূলক ভিডিও বানাতে হবে।”

-ডা. মো. আশরাফুল আলম

সহযোগী অধ্যাপক, হেপাটোলজি বিভাগ, শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

হেপাটাইটিস বি-এর ওষুধের শুল্ক মওকুফ জরুরি

“কারা লিভারের রোগে আক্রান্ত ও তাদের সংস্পর্শে আরও কারা আক্রান্ত হতে পারে সেটি চিহ্নিত করতে হবে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) হেপাটাইটিস নির্মূল করার জন্য বিভিন্ন সেমিনার ও জনসচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করে আসছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকাশক্তদের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। বাংলাদেশ সরকার হেপাটাইটিস সি-এর ওষুধ ও হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাকসিনের ওপর শুল্ক মওকুফ করেছে। কিন্তু একটি বিশাল জনগোষ্ঠী হেপাটাইটিস বি-এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত মুখে খাওয়ার ওষুধের ওপর যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে এটি মওকুফ করা গেলে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় ১৬ শতাংশের মতো সাশ্রয় হবে। এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক অঙ্গিকার ও অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।”

-ডা. কামরুল হাসান মিলন

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন

লিভারের রোগের চিকিৎসায় বীকন বাংলাদেশে পথিকৃৎ

“লিভারের রোগের চিকিৎসার ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে বাংলাদেশে বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস পথিকৃৎ। আমরা বিশ্বে আবিষ্কৃত ১৪টি আধুনিক মলিকিউলের ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করছি। আমরা যেহেতু ১১৪টি দেশে ড্রাগ রপ্তানি করি তাই নতুন মলিকিউলের ওষুধগুলো দেশে উৎপাদন করতে আমরা অঙ্গিকারাবদ্ধ। হেপাটাইটিস বি-এর মুখে খাওয়ার তিনটি ওষুধ গত এক যুগের বেশি সময় ধরে আমরা দেশে বাজারজাত করেছি। কিন্তু এ ওষুধগুলোর ওপর ভ্যাট থাকায় দীর্ঘমেয়াদি এ চিকিৎসার ব্যয় অনেক। যদি শতকরা ১৫ ভাগ ভ্যাটও কমানো যায় তাহলে চিকিৎসা ব্যয় ১৬ শতাংশ কমবে। হেপাটাইটিস ‘বি’র চিকিৎসায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ন্যাসভ্যাক নামক ওষুধ বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ও কিউবান কোম্পানি একযোগে কাজ করছে।”

-এসএম মাহমুদুল হক পল্লব

এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, বীকন ফারমাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

আলোচনায় বক্তাদের সুপারিশ

* লিভারের রোগ চিকিৎসায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।

* দেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য দক্ষ জনবল ও অবকাঠামো তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে।

* ইপিআই কর্মসূচিতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

* হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় ওষুধের ওপর শুল্ক হ্রাস করা জরুরি।

* গর্ভবতী হওয়ার আগে হেপাটাইটিসের ভাইরাল মার্কার পরীক্ষা সর্বত্র সহজলভ্য হওয়া দরকার।

* হেপাটাইটিস সি নিরাময়যোগ্য রোগ। প্রয়োজন প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ।

* দেশের অন্তত একটি গ্রাম বা উপজেলায় ১০০ ভাগ হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিনেশনের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

* তৃণমূল পর্যায়ে লিভারের সব ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।

* তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এইচবিএসএজি পরীক্ষার জন্য মানসম্মত কীটের ব্যবস্থা করতে হবে।

* লিভার বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

* কবিরাজি, ঝাড়ফুঁক, টোটকা জাতীয় অপচিকিৎসা রোধে জনগণকে সচেতন করতে হবে।

* জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের যথোপযুক্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে।

* দেশে সুয়ারেজ সিস্টেম উন্নত করতে হেপাটাইটিস রোগীর সংখ্যা কমে আসবে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

* দেশে কার্যকরী হেলথ কেয়ার প্ল্যানও জরুরি।

* চিকিৎসা খরচ সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আনতে হবে।

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত গোলটেবিলে বক্তারা

হেপাটাইটিস থেকে সুরক্ষা আপনার হাতেই

 যুগান্তর প্রতিবেদন  
৩০ জুলাই ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি লিভারের রোগী রয়েছে। এদের মধ্যে কারও কারও রোগ শনাক্ত হয়ে চিকিৎসা চলছে। অনেকেই লিভারের ভাইরাস তাদের শরীরে নীরবে বহন করছেন। এ সম্পর্কে তথ্যজ্ঞান থাকলে ও সচেতন হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা লিভারের রোগ থেকে দূরে থাকতে পারি। এমন বাস্তবতায় ১৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষ্যে ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার ডিজিজেস বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে ও বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের সহযোগিতায় এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনটির মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক যুগান্তর। এ আয়োজনে দেশের খ্যাতনামা লিভার বিশেষজ্ঞরা লিভার রোগ চিকিৎসার বর্তমান বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

‘সি’ ভাইরাসকে নীরব ঘাতকও বলা হয়

“হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস সম্পর্কে আমাদের জনগণের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সচেতনতা কম। যদি এ ভাইরাস প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায় তবে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ। একে নীরব ঘাতকও বলা হয়। কারণ, এটি শরীরে ঢুকে ২০-২৫ বছর পর্যন্ত নীরবে কোনো লক্ষণ ছাড়াই অবস্থান করে। এ পর্যায়ে যদি চিকিৎসা করা না হয় তাহলে টাইমবোমার মতো এক সময় এর বিস্ফোরণে আমাদের শরীরকেও কাবু করে ফেলতে পারে। লিভার সিরোসিস ও ক্যানসারের অন্যতম কারণ এই সি ভাইরাস। সি ভাইরাস প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে ঢুকলে ৯০-৯৫ জন রোগী এর বাহক বা ক্যারিয়ার হয়ে যায়। সি যেহেতু আরএনএ ভাইরাস, তাই এর চিকিৎসা দরকার। আমাদের দেশে এ চিকিৎসা সহজলভ্য। বাইরের দেশ থেকে একশ ভাগের এক ভাগ মূল্যে দেশেই এর চিকিৎসা সম্ভব। বিদেশ থেকে রোগীরা আমাদের দেশ থেকে ওষুধ কিনে নিয়ে যায়। রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার মাধ্যমে আগামীতে পৃথিবী থেকে সি ভাইরাস নির্মূল করা সম্ভব-এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি।”

- ডা. সেলিমুর রহমান

অধ্যাপক (প্রাক্তন), হেপাটোলজি বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রেসিডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার ডিজিজেস বাংলাদেশ।

ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ট্রেনিং বাড়াতে হবে

“২০৩০ সালের মধ্যে লিভারের রোগ নির্মূলের যে অঙ্গীকার তা বাস্তবায়ন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের হতে পারে। দেশে লিভার বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ১০০-এর সামান্য ওপরে। এ জন্য লিভার রোগের ডায়াগনোসিস সেভাবে হচ্ছে না এবং হলেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিকিৎসকরা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ না হওয়ার জন্য প্রটোকল অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে পারছে না। মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানসম্মত ট্রেনিং দিলে তারা রোগীদের সর্বোচ্চমানের চিকিৎসা দিতে পারবে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ বাড়ালেও চিকিৎসা খরচ যদি সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে হয় তাহলেও লক্ষ্য অর্জনে আমরা ব্যর্থ হব। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে হেপাটাইসি ‘বি’-এর টিকা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, তাহলে ‘বি’ ভাইরাসের ব্যাপকতা থেকে আমরা অনেকটা মুক্ত থাকব। এছাড়া আমরা দেশের ব্লাডব্যাংক সেন্টারগুলোর গুণগত মান মনিটরিং করতে পারছি না। এ কারণেও ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও কাক্সিক্ষত মানে পৌঁছাতে পারছি না। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, অন্যদিকে বর্জ্যরে মাধ্যমে লিভারের ভাইরাস মানবদেহে বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।”

- অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান

সাবেক ভিসি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

অপচিকিৎসা লিভারের রোগকে জটিল করে তোলে

“যে কোনো দিবসের প্রধান লক্ষ্য থাকে জনগণকে সে রোগ সম্পর্কে সচেতন করা ও চিকিৎসা নিতে উদ্বুদ্ধ করা। আমরা এমন এক সময় এ দিবস পালন করছি যেখানে বাংলাদেশে প্রতি ১০ জনের ১ জন জানেন না তিনি হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাসে আক্রান্ত! রোগ ডায়াগোনোসিস হলেও অনেকেই চিকিৎসা নিতে চান না, কারণ তারা মনে করেন এর কোনো চিকিৎসা নেই। এরাই আবার হারবাল চিকিৎসা বা বিভিন্ন টোটকা ফোটকা নিয়ে রোগকে আরও জটিল করে তুলছেন। জাপান, চীনেও রোগীরা এ ধরনের নন ট্রাডিশনাল চিকিৎসা যাকে আমরা অপচিকিৎসা বলি তা গ্রহণ করছে। দেখতে পাই সমাজে অনেক ট্যাবু বা ভ্রান্ত বিশ্বাস আছে। যেমন হেপাটাইটিস বি বা সি’তে কেউ আক্রান্ত হলে তার খাবার টেবিল পর্যন্ত আলাদা করে দেওয়া হয়। তাকে বিয়েও দেওয়া হয় না বা কেউ বিয়ে করতেও চায় না। এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। বৈজ্ঞানিকভাবে এ ধরনের ভ্রান্ত ধারণার কোনো সত্যতাও নেই।”

- অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল

ডিভিশনাল প্রধান, ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলোজি ডিভিশন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

ফ্যাটিলিভার ডিজিজ হেপাটাইটিসের প্রধান কারণ

“যে কোনো কারণে লিভারের যে প্রদাহ হয় তাকে হেপাটাইটিস বলে। বিশ্বব্যাপী বর্তমানে হেপাটাইটিসের প্রধান কারণ ফ্যাটিলিভার ডিজিজ যাকে ন্যাস (NASH) বা নন অ্যালকোহলিক স্টিয়াটো হেপাটাইটিসও বলে। এ ফ্যাটি লিভার ডিজিজ আমরা কিন্তু খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন করে সহজেই প্রতিরোধ করতে পারি। আমাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে, হেপাটাইটিসকে কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা। জানতে হবে, ‘এ’ ও ‘ই’ ভাইরাস দূষিত পানি ও খাদ্য থেকে ছড়ায়। পক্ষান্তরে বি ও সি ভাইরাস থেকে দীর্ঘমেয়াদি লিভারের অসুখ ও লিভার সিরোসিস হয়, এ বিষয়টি জানসাধারণের মধ্যে প্রচার করতে হবে। এখনো বিশ্বে প্রতিবছর দশ লাখ রোগী লিভারের জটিলতায় মারা যায়। তাই এর প্রতিরোধে পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং করা জরুরি। হেপাটাইটিস ‘বি’-এর পরীক্ষা করুন এবং নেগেটিভ এলে টিকা গ্রহণ করুন।”

-ডা. ফারুক আহমেদ

সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, হেপাটোলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ।

গর্ভবতী পজিটিভ হলে নবজাতক নিয়েও আশঙ্কা থাকে

“গর্ভবতীর হেপাটাইটিস বি বা সি শনাক্ত হলে তার চিকিৎসাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তাকে নিয়মিত ফলোআপে রাখতে হবে। এ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করিয়েই ডেলিভারি করাতে হবে। গর্ভবতী পজিটিভ হলে যেহেতু নবাজাতকেরও এ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাই শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যে এন্টিবডি ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইনজেকশন দিতে হবে। ১২ ঘণ্টা পর টিকা দিলে তার কোনো কার্যকারিতা থাকে না। গর্ভাবস্থায় এন্টি ভাইরাল ওষুধ দিয়ে ভাইরাল লোড কমিয়ে আনতে হবে। নিরাপদ ডেলিভারির জন্য প্রেগনেন্সির আগের ভাইরাল মার্কার পরীক্ষাগুলো করিয়ে নিতে হবে। এ ভাইরাস যেহেতু রক্ত বা রক্তজাত উপাদানের মাধ্যমে ছড়ায় তাই গর্ভবতীকে রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে অবশ্যই রক্তদাতার রক্তের স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। গর্ভবতীর এ ভাইরাসে আক্রান্ত, কিন্তু রোগ যদি অনির্ণীত থাকে তবে অনাগত সন্তানের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে, তাই পরিকল্পিত গর্ভধারণ কাম্য।”

-অধ্যাপক ডা. এম এ রহিম

হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

বি ভাইরাসে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীর লক্ষণ থাকে না

“বি ভাইরাস দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস সৃষ্টি করে। ৬ মাসের বেশি লিভার ডিজিজ থাকলে তাকে ক্রনিক হেপাটাইটিস বলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ রোগীদের কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে, মৃদু জন্ডিস থাকতে পারে। বি-তে আক্রান্ত ৭০ ভাগ রোগীর পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা শুরু করা না যায় তবে এর জটিলতা বেড়ে যায়। যেমন- লিভার ক্যানসার, পেটে পানি এসে ফুলে যাওয়া, রক্ত বমি বা পেটের শিরা ফুলে যাওয়া। বিদেশে যাওয়ার আগে বা কোনো সার্জারির আগে এইচবিএসএজি নামক রক্ত পরীক্ষা করলে জানা যায় রোগী ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। এ রোগের চিকিৎসা আমাদের দেশে রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এ রোগে ব্যবহৃত ট্যাবলেটের দামও সুলভ। এ ছাড়া ইনজেকশনও রয়েছে। প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন রয়েছে যা আমাদের দেশেই প্রস্তুত হয়।”

-ডা. মো. ফজল করিম

সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, হেপাটোলজি বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ।

প্রত্যেক নবজাতক যেন বি ভাইরাসের টিকা পায়

“জন্মের পরপরই নবজাতককে যে টিকা দেওয়া হয় তাই বার্থডোজ ভ্যাকসিনেশন। যে গর্ভবর্তীর হেপাটাইটিস বি পজিটিভ তাদের অনাগত সন্তানদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগের পজিটিভ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এদের মধ্যে আবার শতকরা ২৫ ভাগের ১০-২০ বছর পর লিভার ক্যানসার ও লিভার সিরোসিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কোনো নবজাতকই যেন ‘বি’ ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়া থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। এ ক্ষেত্রে মসজিদ, মন্দির, বিভিন্ন উপাসনালয়, স্কুলের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি করে এ টিকা দেওয়ার ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ হলো, প্রত্যেক নবজাতক যেন বি ভাইরাসের টিকা পায়; এক্ষেত্রে মা পজিটিভ বা নেগেটিভ যাই হোক না কেন। এখন পর্যন্ত আমরা শুধু পজিটিভ মায়েদের সন্তানদের ক্ষেত্রেই এ টিকা দিয়ে আসছি। গণটিকাদান কর্মসূচিতে রক্ত পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং করে বি ভাইরাস নেগেটিভ এলে এ টিকা মায়েদেরও দিতে হবে।”

-ডা. জাহাঙ্গীর আলম সরকার

সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

শতভাগ বি ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনতে হবে

“তৃণমূল পর্যায়ে বি ও সি ভাইরাস নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পাঠ্যসূচিতে হেপাটাইটিস প্রতিরোধ নিয়ে লেখা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গ্লাভস, সিরিঞ্জ, মাস্ক থেকে যেহেতু এ ভাইরাসগুলো ছাড়ায় তাই মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এদের ধ্বংস করতে হবে। ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আরও জোরদার করতে হবে। দেশের একটি অঞ্চলকে মডেল হিসাবে ধরে পুরো দেশকে শতভাগ বি ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনতে হবে। তাহলে হেপাটাইটিসের রোগী কমে আসবে। আমাদের দেশে যেহেতু ভ্যাকসিন উৎপাদন হচ্ছে, এর দাম কীভাবে আরও সুলভ করা যায় সে ব্যাপারেও নজর দিতে হবে। ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামকে আনন্দমুখর করার জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জন্মের পর পরই সবাইকে হেপাটাইটিস ‘বি’-এর ভ্যাকসিন দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে লিভার বিশেষজ্ঞরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছি।”

-ডা. শেখ মোহাম্মদ নূর-ই আলম ডিউ

সহযোগী অধ্যাপক, হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

‘ই’ ভাইরাসের ভ্যাকসিন সহজলভ্য করা প্রয়োজন

“বন্যা পরবর্তী নিরাপদ ও সুপেয় পানির অভাব, মল-মূত্রের সঙ্গে ওয়াসার পানি মিশে গেলে অর্থাৎ সুয়ারেজ সিস্টেম ভালো না হলে এ পানিতে অবস্থিত ‘এ’ ও ‘ই’ ভাইরাস আমাদের সংক্রমিত করতে পারে। এ রোগীরা ব্যথার, ঘুমের ওষুধ এবং প্যারাসিটামল খেতে পারবে না। তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত ও গুরুপাক খাবার এ সময় না খাওয়াই উত্তম। এসব রোগীদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়, যেমন- যাদের উচ্চমাত্রায় জন্ডিস হয়েছে এবং ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হার্ট ডিজিজ, কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বা ইমিউনোসাপ্রেসিভ ড্রাগ খাচ্ছেন তারা জন্ডিসে আক্রান্ত হলে মুখে কিছু খেতে না পারলে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন। ‘ই’ ভাইরাসের ভ্যাকসিন সহজলভ্য করা প্রয়োজন।”

-ডা. প্রভাত কুমার পোদ্দার

সহযোগী অধ্যাপক, হেপাটোলোজি বিভাগ

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ।

এ রোগে আক্রান্তদের শনাক্তের সংখ্যা বাড়াতে হবে

“২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূলে জাতিসংঘের যে আহ্বান তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশও অঙ্গীকারাবদ্ধ। এটি অর্জনের জন্য পাঁচটি পদক্ষেপ নিতে হবে। ১. এক বছরের কম বয়সি বাচ্চাদের হেপাটাইসি বি ভ্যাকসিন শতভাগ দিতে হবে। ২. মা থেকে শিশুতে ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে হবে। ৩. নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন করতে হবে। ৪. ড্রাগ, নিডল বা সুঁচের মাধ্যমে যারা ড্রাগ বা নেশা করে, তাদের সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। ৫. হেপাটাইটিসে আক্রান্তদের শনাক্তের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং তাদের চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। এছাড়া জন্মের পরপরই শিশুদের ‘বি’ ভ্যাকসিন দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। ইপিআই সিডিউলে শিশুদের ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে প্যান্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিনের মাধ্যমে বি ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়।”

-ডা. ফয়েজ আহমেদ খন্দকার

সহযোগী অধ্যাপক, হেপাটোলজি বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ

গ্রামীণ জনগণ টেস্ট করতে খুব বেশি আগ্রহী নয়

“ক্রনিক হেপাটাইটিস বি ভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য এইচবিএসএজি নামক রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। আমাদের দেশে সর্বত্র এ পরীক্ষা বিদ্যমান। তবে মানসম্মত কিটের সমস্যা রয়েছে। আমরা দেখছি, শহরাঞ্চলে ‘এ’ ও ‘ই’ ভাইরাসের প্রকোপ ও শনাক্ত হয় বেশি। গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে এটি ততটা শনাক্ত না হওয়ার কারণ হচ্ছে, জনগণ টেস্ট করতে খুব আগ্রহী নয়। এ ভাইরাস নির্ণয়ে দেশের সর্বত্র টেস্ট সহজলভ্যও নয়। আমরা জুনিয়র চিকিৎসকদের লিভার রোগ নির্ণয়, প্রটোকল অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিনিয়ত ট্রেনিং দিয়ে আসছি। তবে এ উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে, সাইনবোর্ড, শিক্ষামূলক ভিডিও বানাতে হবে।”

-ডা. মো. আশরাফুল আলম

সহযোগী অধ্যাপক, হেপাটোলজি বিভাগ, শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

হেপাটাইটিস বি-এর ওষুধের শুল্ক মওকুফ জরুরি

“কারা লিভারের রোগে আক্রান্ত ও তাদের সংস্পর্শে আরও কারা আক্রান্ত হতে পারে সেটি চিহ্নিত করতে হবে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) হেপাটাইটিস নির্মূল করার জন্য বিভিন্ন সেমিনার ও জনসচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করে আসছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকাশক্তদের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। বাংলাদেশ সরকার হেপাটাইটিস সি-এর ওষুধ ও হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাকসিনের ওপর শুল্ক মওকুফ করেছে। কিন্তু একটি বিশাল জনগোষ্ঠী হেপাটাইটিস বি-এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত মুখে খাওয়ার ওষুধের ওপর যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে এটি মওকুফ করা গেলে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় ১৬ শতাংশের মতো সাশ্রয় হবে। এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক অঙ্গিকার ও অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।”

-ডা. কামরুল হাসান মিলন

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন

লিভারের রোগের চিকিৎসায় বীকন বাংলাদেশে পথিকৃৎ

“লিভারের রোগের চিকিৎসার ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে বাংলাদেশে বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস পথিকৃৎ। আমরা বিশ্বে আবিষ্কৃত ১৪টি আধুনিক মলিকিউলের ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করছি। আমরা যেহেতু ১১৪টি দেশে ড্রাগ রপ্তানি করি তাই নতুন মলিকিউলের ওষুধগুলো দেশে উৎপাদন করতে আমরা অঙ্গিকারাবদ্ধ। হেপাটাইটিস বি-এর মুখে খাওয়ার তিনটি ওষুধ গত এক যুগের বেশি সময় ধরে আমরা দেশে বাজারজাত করেছি। কিন্তু এ ওষুধগুলোর ওপর ভ্যাট থাকায় দীর্ঘমেয়াদি এ চিকিৎসার ব্যয় অনেক। যদি শতকরা ১৫ ভাগ ভ্যাটও কমানো যায় তাহলে চিকিৎসা ব্যয় ১৬ শতাংশ কমবে। হেপাটাইটিস ‘বি’র চিকিৎসায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ন্যাসভ্যাক নামক ওষুধ বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ও কিউবান কোম্পানি একযোগে কাজ করছে।”

-এসএম মাহমুদুল হক পল্লব

এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, বীকন ফারমাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

আলোচনায় বক্তাদের সুপারিশ

* লিভারের রোগ চিকিৎসায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।

* দেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য দক্ষ জনবল ও অবকাঠামো তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে।

* ইপিআই কর্মসূচিতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

* হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় ওষুধের ওপর শুল্ক হ্রাস করা জরুরি।

* গর্ভবতী হওয়ার আগে হেপাটাইটিসের ভাইরাল মার্কার পরীক্ষা সর্বত্র সহজলভ্য হওয়া দরকার।

* হেপাটাইটিস সি নিরাময়যোগ্য রোগ। প্রয়োজন প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ।

* দেশের অন্তত একটি গ্রাম বা উপজেলায় ১০০ ভাগ হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিনেশনের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

* তৃণমূল পর্যায়ে লিভারের সব ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।

* তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এইচবিএসএজি পরীক্ষার জন্য মানসম্মত কীটের ব্যবস্থা করতে হবে।

* লিভার বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

* কবিরাজি, ঝাড়ফুঁক, টোটকা জাতীয় অপচিকিৎসা রোধে জনগণকে সচেতন করতে হবে।

* জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের যথোপযুক্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে।

* দেশে সুয়ারেজ সিস্টেম উন্নত করতে হেপাটাইটিস রোগীর সংখ্যা কমে আসবে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

* দেশে কার্যকরী হেলথ কেয়ার প্ল্যানও জরুরি।

* চিকিৎসা খরচ সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আনতে হবে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন