নাকের অ্যালার্জি হাঁচি-সর্দি

 ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী 
১০ জুন ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনবরত হাঁচি বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর টানা ১০-১৫টা হাঁচি, নাক চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, কারও কারও চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং সঙ্গে চোখ চুলকানো-এগুলো সবই নাকের অ্যালার্জির লক্ষণ। এসব সমস্যা নিয়ে প্রায়ই চেম্বারে রোগীদের আসতে দেখা যায়। মেডিকেলের পরিভাষায় এসব উপসর্গকে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বলা হয়। এই অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়ে অ্যালার্জির উপসর্গ কিছু দমানো যায়, কিন্তু সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া যায় না। অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে হলে অ্যালার্জির কারণ জানতে হবে।

ষনিয়ন্ত্রণের উপায়

▶ যাদের নাকের এলার্জি সর্দিজনিত সমস্যা আছে তারা ফ্রীজের ঠান্ডা পানীয়, আইসক্রিম খাবেন না, যথাসম্ভব ঠান্ডা লাগাবেন না।

▶ কোল্ড অ্যালার্জি সমস্যায় প্রয়োজনে কুসুম গরম পানিতে গোসল ও অজু করুন।

▶ ঘরের বাইরে বের হলে কিংবা ধুলাবালিময় পরিবেশে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করুন; কারণ মাটির চুলায় রান্নার সময় ধোয়া, গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোয়া, সিগারেটের ধোয়া, শিল্পকারখানার বিভিন্ন উপাদানও অ্যালার্জির আরেকটি কারণ।

▶ বারোমাস হাঁচি-সর্দি সমস্যায় দিনে অন্তত একবার গরম পানির ভাপ নাক দিয়ে টানুন ও মুখ দিয়ে ছাড়ুন। স্যালাইন বা ০.৯ শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড সমৃদ্ধ নাকের ড্রপ দিয়ে নাক পরিষ্কার করতে পারেন। ফার্মেসিতে এগুলো সলো, এন-সল ও হ্যাপিসল-সহ বিভিন্ন নামে পাওয়া যায়। এগুলো নাকে থাকা অ্যালার্জি উদ্রেককারী জিনিসগুলো পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

▶ বেশি গরমে কাজ করবেন না কিংবা একসঙ্গে টানা এসির মধ্যে থাকবেন না।

▶ নির্দিষ্ট কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকলে সে খাবার পরিহার করুন। সাধারণত ধারণা করা হয় গরুর মাংস, ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ, বেগুন, হাঁসের ডিম, বোয়াল মাছ, ডাল- এসব খাবার খেলে অ্যালার্জি হয়। তবে একথা সবার ক্ষেত্রে ঠিক নয়। ব্যক্তি বিশেষে নিদিষ্ট খাবারে অ্যালার্জির সমস্যা থাকতে পারে।

▶ যারা ডাস্ট অ্যালার্জি জনিত সমস্যায় ভুগছেন তারা ঘরের মেঝেতে কার্পেট ব্যবহার করবেন না। বিছানার চাদর, পর্দা, মেঝে নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।

▶ ঘরের চারপাশ খোলামেলা রাখুন ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ পরিহার করুন।

যার যে জিনিস থেকে অ্যালার্জি হচ্ছে সে জিনিস পরিহার করার মাধ্যমে, চিকিৎসকের পরামর্শ মতে দীর্ঘমেয়াদে অ্যালার্জির ওষুধ সেবন বা প্রয়োগ এবং অ্যালার্জি ভ্যাকসিন নেওয়ার মাধ্যমে এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া অনেকটাই সম্ভব। মনে রাখতে হবে নাকের অ্যালার্জির সঠিক চিকিৎসা না হলে শতকরা পঁচিশ ভাগ রোগীর অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থেকে হাঁপানি রোগ হতে পারে।

লেখক : নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেড-নেক সার্জন, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন