বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তায় মুখগহ্বরের রোগ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ডা. মো. ফারুক হোসেন

ছবি- সংগৃহীত

যদি ছয় মাস বা তার অধিক সময়ব্যাপী কারো দুশ্চিন্তা স্থায়ী হয়ে থাকে তাহলে বুঝতে হবে তিনি সার্বিক দুশ্চিন্তাযুক্ত ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত। এ পরিস্থিতিতে মুখের অভ্যন্তরে প্রদাহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। দুশ্চিন্তা যেন আপনার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ না করে।

যদি করে তবে মুখের অসুখ কিংবা কোনো অসুখই আপনার সহজে ভালো হবে না। দুশ্চিন্তা ক্রমাগত চলতে থাকলে রোগী এক সময় বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হবেন। বিষণ্ণতাগ্রস্ত রোগীদের সচরাচর যে সমস্যায় ভুগতে হয় তা হল শুষ্ক মুখ। সাধারণত ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্ণতানাশক ওষুধ সেবনের কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়।

এছাড়া ওরাল ক্যান্ডিডোসিস হতে পারে এবং দন্তক্ষয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। শুষ্ক মুখের কারণে লালার প্রবাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকার কারণে দন্তক্ষয় থেকে শুরু করে মুখের নানাবিধ রোগ দেখা দেয়।

বিষণ্ণতায় মুখে যেসব সমস্যা হয় : ক. ব্যতিক্রমধর্মী মুখের ব্যথা,

খ. বার্নিং মাউথ সিনড্রোম- রোগী মুখে ও জিহ্বায় জ্বালাপোড়ার অভিযোগ করে থাকেন,

গ. টেস্পেরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট বা চোয়ালে ব্যথা হতে পারে। যারা অনবরত মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন তাদের শরীরে কর্টিসলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যার কারণে মাড়ি ও শরীরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আর মাড়ি রোগ বেশি পরিমাণে হলে হৃদযন্ত্রেও সহজেই সংক্রমণ বিস্তার লাভ করতে পারে। মানসিক চাপ বা বিষণ্ণতার কারণে শতকরা পঞ্চাশ ভাগ মানুষ ঠিকভাবে বা নিয়মিতভাবে দাঁত ব্রাশ বা ফ্লস করে না। বিষণ্ণতা, মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার কারণে শরীর ও মুখের যত্ন ঠিকভাবে নেয়া সম্ভব হয় না। অনেক ক্ষেত্রে বিষণ্ণতাগ্রস্ত রোগীদের মাঝে ধূমপান, অ্যালকোহল সেবনের মতো বদ অভ্যাস গড়ে ওঠে।

এ রোগীদের কেউ কেউ নিজের অজান্তেই দাঁত কিড়মিড় করতে পারে, যা ব্রুকসিজম নামে পরিচিত। অনবরত মানসিক চাপ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অবদমিত বা অকার্যকর করে বা করার চেষ্টা করে থাকে।

মানসিক চাপে ক্যাটেকোলামাইন নামক হরমোন বৃদ্ধি পায়। মানসিক চাপের কারণে সাপ্রেসর টি সেলের লেভেল বৃদ্ধি পায়, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অবদমিত করে থাকে বা ব্যাহত করে।

যখন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার এ অংশটি বা শাখাটি অকার্যকর হয় তখন মানুষের শরীরে ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায় যেমন ঠাণ্ডা এবং ফ্লু দেখা দিতে পারে। মানসিক চাপের কারণে রক্তে হিস্টামিন নিঃসরিত হয়ে থাকে যার কারণে এলার্জি সৃষ্টি হতে পারে।

আমরা যেন একটি দুশ্চিন্তা সমাধান করতে গিয়ে আরেকটি দুশ্চিন্তায় জড়িয়ে না পড়ি। সমাজে কেউ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হলে তাকে যেন কেউ কোনো বিদ্রূপ না করে এবং সহযোগিতার হাত বাড়ায়।

লেখক : মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ, ইমপ্রেস ওরাল কেয়ার, ইব্রাহিমপুর, ঢাকা [email protected]