চিকিৎসা জগতে বিপ্লব টেলিমেডিসিন

  সাইফুল ইসলাম খান ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মফস্বল শহর বা পল্লী অঞ্চলের একজন দরিদ্র অসহায় রোগী যার ঢাকা শহরে এসে পয়সা খরচ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর সামর্থ নেই অথবা কোন জটিল রোগী যাকে অনেক দূর থেকে যানজটে অস্থির ঢাকা শহরে পাঠাতে গেলে অনেক দেরি হয়ে যাবে- এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসার স্বার্থে টেলিভিশন স্ক্রিন এবং ক্যামেরার সামনে বসে দূর-দুরান্তের রোগীরা দূরে থেকেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে পারছেন। চিকিৎসাসেবার এ পদ্ধতিকে বলা হয় টেলিমেডিসিন সেবা।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখন ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারছেন টেলিমেডিসিনের বদৌলতে। টেলিমেডিসিনকে বাংলায় বলা হয় দূর চিকিৎসা। অর্থাৎ প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার একজন রোগী ইউনিয়নে থাকা টেলিমেডিসিন উদ্যোক্তার কাছে গিয়ে কম্পিউটার বা মোবাইলের মাধ্যমে অন্য শহর বা বিশ্বের যে কোনো জায়গায় থাকা এমবিবিএস বা তারও বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা-পরামর্শ নিতে পারেন।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি-২০১৭’ এ ‘ই-স্বাস্থ্য’ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করেছে এই টেলিমেডিসিন সেবা।

কীভাবে চলে টেলিমেডিসিন সেবা : একটি ইউনিয়নে একজন করে উদ্যোক্তা থাকেন। উদ্যোক্তাদের কাছে রোগীরা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত যে কোনো সময় গিয়ে এমবিবিএস বা তার থেকেও অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। উদ্যোক্তা অনলাইনের মাধ্যমে রোগীর নাম, বয়স নিবন্ধ করে স্কাইপের মাধ্যমে ডাক্তারের সঙ্গে রোগীকে সংযুক্ত করেন। প্রয়োজন হলে ডাক্তার উদ্যোক্তাকে রোগীর শরীরে স্টেথোস্কোপ ধরতে বলেন। ডাক্তার দূর থেকে তখন রোগীর হার্টবিট শুনতে পান। একইভাবে ইসিজির ফলাফলও ডাক্তার দেখতে পান। ডাক্তার সব দেখে-শুনে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। উদ্যোক্তার কাছে থাকা প্রিন্টারে সেই প্রেসক্রিপশন প্রিন্ট হয়ে রোগীর হাতে পৌঁছে যায়। এভাবে অনলাইনের মাধ্যমে গ্রামে বসেও রোগীরা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা নিতে পারেন। একজন রোগী টেলিমেডিসিন সেবা একবার গ্রহণ করলে পুনরায় ডাক্তার দেখানোর সময় তাকে আর নিবন্ধন করতে হবে না। কোড নাম্বার বললে রোগীর নাম, বয়স ও পূর্বের প্রেসক্রিপশন চলে আসবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের টেলিমেডিসিনবিষয়ক টিমের কো-অর্ডিনেটর এবং মেডিসিন বিভাগের টিম লিডার সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মাদ যায়েদ হোসেন ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগী দেখেন। ডা. যায়েদ বলেন, ‘স্বাস্থ্যবান্ধব বর্তমান সরকারের এ টেলিমেডিসিন প্রকল্পে ঢাকা মেডিকেল থেকে প্রতি সোমবার রোগী দেখা হচ্ছে। আমরা কয়েকজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পালাক্রমে নির্ধারিত সময়ে ক্যামেরার সামনে বসে অপর প্রান্তের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি।’

ঢাকা মেডিকেলে এ কার্যক্রমে ডা. যায়েদ হোসেনের সঙ্গে আরও আছেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. অপর্ণা দাস, সহযোগী অধ্যাপক ডা. পার্থ প্রতিম দাস এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. একেএম হুমায়ুন কবির। ঢাকা মেডিকেল ছাড়াও এখন পর্যন্ত টেলিমেডিসিন প্রকল্পে সারাদেশে ৯০টি কেন্দ্র চালু হয়েছে। জানা গেছে, সেবা গ্রহীতা মোট রোগীদের মধ্যে মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা ৭৫ ভাগ। আর ব্যবহারকারীদের মধ্য থেকে ১০% রোগী একাধিকবার টেলিমেডিসিন সেবা ব্যবহার করেছেন বলে জানা গেছে।

ডা. যায়েদ হোসেন আরও জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গাইনি, সার্জারি ও শিশু বিশেষজ্ঞরা ঢাকা মেডিকেল থেকে ক্যামেরার সামনে বসে টেলিমেডিসিন সেবা দেয়া হচ্ছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা অসংখ্য রোগীকে এ সেবা দিয়েছেন। যা খুবই কার্যকর বলে বিবেচিত হচ্ছে এবং দেশ বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। এটি স্বাস্থ্য সেক্টরে একটি মাইলফলক তথা নবযুগের সূচনা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×