খাদ্য বিশুদ্ধকরণে কার্বন গ্রিন

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৬ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খাদ্য বিশুদ্ধকরণে কার্বন গ্রিন
খাদ্য বিশুদ্ধকরণে কার্বন গ্রিন

সুস্থ জীবনের প্রয়োজনে আমরা প্রতিদিন শাকসবজি ও ফলমূল খাই। কখনও কি ভেবে দেখেছি, যা খাচ্ছি তা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত? সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, কীভাবে খাবারগুলো কীটনাশক ও ফরমালিন দ্বারা দূষিত হচ্ছে। এ কারণে অনেকে ফলমূল খাওয়া ছেড়েই দিয়েছেন। তা হলে শিশুদের এ ঘাটতি পূরণ হবে কীভাবে? বিষযুক্ত খাবারের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য।

জনস্বাস্থ্যের এ ঝুঁকি কমাতে, বিষযুক্ত খাবারকে নিরাপদ করতে লাইফ অ্যান্ড হেলথ বাজারজাত করছে কার্বন গ্রিন। যা শাকসবজি ও ফলমূল থেকে ফরমালিন মুক্ত করা যাবে। এ বিষয় নিয়ে কথা হয় লাইফ অ্যান্ড হেলথ্ লিঃ এন চেয়ারম্যান, বাংলাদেশের ব্যাংকক হসপিটাল অফিসের উপদেষ্টা এবং থাইল্যান্ডের ব্যাংকক হসপিটালের ইন্টারনাল মেডিসিন স্পেশালিস্ট ডা. শক্তি রঞ্জন পালের সঙ্গে কথা বলেছেন তাওহিদ মামুন-

কীভাবে এবং কবে থেকে এ বিষয়ে ভাবনা এল?

বেশি ফলনের জন্য খাদ্যশস্যে ব্যবহার করা হয় কীটনাশক। দিন দিন কীটনাশক ব্যবহারের মাত্রা বাড়ছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১০ থেকে ১২ বছরে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যে কীটনাশকের ব্যবহার ৩২৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

আমাদের কাজ হল মানুষের লাইফ অ্যান্ড হেলথ নিয়ে, কী কী কারণে বিভিন্ন রোগ ছড়ায় যা জনস্বাস্থ্যকে এফেক্ট করে। দেখা গেল অনেক রোগের পেস্টিসাইজ হল ফরমালিন; যদিও এটা একমাত্র কারণ নয় কিন্তু এটা বড় একটা কারণ। ফরমালিন মুক্ত করার জন্য সরকার অনেক পদক্ষেপ নিচ্ছে কিন্তু তারপরও এর প্রভাব কমছে না। সাত বছর গবেষণা এবং পরীক্ষা করে দেখা গেল একমাত্র কার্বন গ্রিনই পারে এ বিষ থেকে আমাদের মুক্ত করতে। তাই আমরা নিরাপদ ও কম খরচে কীটনাশক এবং ফরমালিন দূষণের প্রতিকার হিসেবে নিয়ে এসেছি কার্বন গ্রিন।

কীটনাশক ও ফরমালিনযুক্ত খাবার আমাদের কী কী ক্ষতি করতে পারে?

সচেতনতার অভাবে বিভিন্ন রোগে ভুগছি। এর প্রভাবে ক্যান্সার, হাঁপানি, ডায়াবেটিস, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, গর্ভপাত, এন্ডোমেট্রিওসিস, জন্মগত ত্র“টি, অটিজম, আলঝেইমার রোগ, পুরুষত্বহীনতা, পারকিনসন্স ডিজিজসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। অর্গানোফসফেটের কারণে হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের সমস্যা হয়। কার্বামেট্স ও পাইরিথ্রয়ড্স শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার হওয়ার কারণ।

কার্বন গ্রিনের কার্যকারিতা ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কিছু বলুন?

এটি সোডিয়াম-বাই-কার্বোনেট, খাদ্যদ্রব্যের গায়ে লেগে থাকা বিষ দূর করে। এক্টিভেটেড কার্বন বিষ ও সোডিয়াম-বাই-কার্বোনেটের অবশেষ শুষে নয়। তবে ইনজেকশন বা অন্যভাবে খাদ্যদ্রব্যের ভেতরে থাকা বিষ এই প্রক্রিয়ায় বিষমুক্ত করা যাবে না।

সোডিয়াম-বাই-কার্বনেট এবং অত্যন্ত সক্রিয় কার্বনের সঠিক অনুপাতের সংমিশ্রণে কার্বন গ্রিন তৈরি হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান এসজিএস, এনআইএফ এবং ওএমআইসি এর পরীক্ষাগারে কীটনাশকযুক্ত খাদ্যদ্রব্য ও শাকসবজিতে নির্দিষ্ট মাত্রায় কার্বন গ্রিন প্রয়োগে খাদ্যদ্রব্য ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত বিষমুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) দ্বারা পরীক্ষিত এবং বিএসটিআই অনুমোদিত।

কার্বন গ্রিন কতটা ফরমালিন মুক্ত করবে?

অনেকেই ভিনেগার মিশ্রিত পানিতে চুবিয়ে, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গোনেট মিশ্রিত পানিতে ধুয়ে ও লবণ মিশ্রিত পানিতে ধুয়ে দূষণমুক্ত করার চেষ্টা করে। এসব প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য মাত্র ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কীটনাশক ও ফরমালিনমুক্ত হয়- যা খাওয়ার জন্য নিরাপদ নয়। কার্বন গ্রিন ব্যবহারে ৯২ থেকে ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত কীটনাশক ও ফরমালিনমুক্ত হয়।

কার্বন গ্রিন ব্যবহারের পর দূষণ মুক্তির প্রমাণ কী?

আমরা যদি কার্বন গ্রিন দিয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে ফলমূল, শাক-সবজি পরিষ্কার করি তাহলে এসব খেতে আর আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। খোলাবাজার থেকে ফরমালিন ও কীটনাশকযুক্ত ফলমূল কিনলে দেখি অনেক ক্ষেত্রেই তা দীর্ঘদিনেও পচে না। কিন্তু কার্বন গ্রিন ব্যবহার করলে ওই একই ফল তিন থেকে চার দিনে পচে যাবে। এতে প্রমাণিত হয় যে কার্বন গ্রিন কাজ করে।

এটি কোথা থেকে আমদানি করছেন এবং বাংলাদেশে উৎপাদন করার চিন্তা আছে কিনা?

কার্বন গ্রিন থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করছি এবং এটি থাইল্যান্ডে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশে উৎপাদন করার চিন্তা আছে তবে এখনই না।

কার্বন গ্রিন ব্যবহারে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা বা এটা কতটা নিরাপদ?

এটা শতভাগ নিরাপদ এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই কারণ সোডিয়াম বাই-কার্বোনেট বা বেকিং সোডা বিভিন্ন খাদ্য তৈরিতে নিরাপদ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিহীন উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এক্টিভেটেড কার্বন : সক্রিয় কার্বন হল একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা আলট্রা কার্বন নামেও পরিচিত, এটি নিরাপদ ও উপকারী একটি পদার্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কার্বন গ্রিন এ দুটি উপাদানের সঠিক অনুপাতের সংমিশ্রণে তৈরি। কার্বণ গ্রিন খাদ্যবস্তুর উপরিভাগে লেগে থাকা বিভিন্ন কীটনাশক নিরাপদ মাত্রায় কমিয়ে আনতে সক্ষম ও মানুষের জন্য নিরাপদ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×