সবজি চাষে লাইলীর ভাগ্যবদল

  গুলসান আরা এমি ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সবজি চাষে লাইলীর ভাগ্যবদল

শসা ক্ষেত থেকে শসা তুলছিলেন লাইলী বেগম। তাকে সহযোগিতা করছিলেন স্বামী আবদুল গফুর। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে শসা ক্ষেতের যত্ন করেন।

ক্ষেতে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে জৈব সার ব্যবহার করেন। এতে ফলনও ভালো হয়েছে। পাশাপাশি বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করে সবজির বাজারও তৈরি করেছেন। সবজি বিক্রি করে তাদের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে।

একটা সময় তাদের সংসারের অবস্থা এমন ছিল না। দিনমজুর স্বামীর একার আয়ে নুন আনতে পানতা ফুরাত। পরিবারের ছয় জনের খাবার জোগাতে হিমশিম খেতে হতো লাইলী বেগমকে। এ প্রসঙ্গে লাইলী বেগম বলেন, সংসারের অভাব দূর করতে দিনমজুর স্বামীকে বিদেশ পাঠানোর চেষ্টা করি।

বছর দুয়েক আগে ধার দেনা করে পাঁচ লাখ টাকা সংগ্রহ করে দালালকে দিই। দালাল সব টাকা মেরে দেয়। দালালের খপ্পরে পড়ে স্বামীর বিদেশ যাওয়া ভেস্তে যায়। ঋণের দায়ে চারিদিকে অন্ধকার দেখি। সে সময়ে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে নিজেদের জমিতে সবজি আবাদ শুরু করি।

মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আমার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। এখন এলাকায় আমি একজন সফল সবজি চাষী হিসেবে পরিচিত। বিষমুক্ত শাক-সবজি আবাদ করে সংসারের সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। এ বছর মাত্র এক বিঘা জমিতে দেশীয় উন্নত জাতের শসা আবাদ করেছি। মাত্র তিনমাসে ওই জমিতে রেকর্ড পরিমাণ শসা উৎপাদন হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকার শসা বিক্রি করেছি। বাজারে এর চাহিদাও বেশি রয়েছে।

কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যেই চাষাবাদ নিয়ে তাদের নানা পরামর্শ দেন। এখন আর অন্যের জমিতে তার স্বামীকে দিনমজুর খাটতে হয় না। স্থানীয় কৃষি অধিদফতর থেকে তারা বিভিন্ন সময় শাক-সবজি আবাদের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ওই প্রশিক্ষণ এখন তাদের চাষাবাদে বেশ উপকার দিচ্ছে।

স্থানীয় ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুল হক খান বলেন, নিয়মিত তিনি কৃষাণী লাইলী বেগম ও তার স্বামীকে পরামর্শ দেন। তাদের এ সবজি বাগান দেখে আশপাশের অনেকেই সবজি চাষের প্রতি উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, আইপিএম কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় কৃষাণী লাইলী বেগমের জমিতে শসা প্রদর্শনী করা হয়েছে। এতে জৈব কৃষি ও জৈবিক বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফায়জুল ইসলাম ভূঁইয়ার মতে, কৃষাণী লাইলীর জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। সেক্সফেরোমন ফাঁদের মাধ্যমে পোকা দমনের ব্যবস্থা ছিল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×