মাদারীপুরের কণা কাজ করছেন বাল্যবিয়ে বন্ধে

  আয়শা সিদ্দিকা আকাশী ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাদারীপুরের কণা কাজ করছেন বাল্যবিয়ে বন্ধে
মাহামুদা আক্তার কণা

বর, বরের বাবাসহ স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি থানায় বসা। বাল্যবিয়ে যাতে বন্ধ না হয়, সেজন্য তারা বারবার অনুরোধ করছেন। তাদের কথায় কাজ না হওয়ায় একটা পর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

মাদারীপুরের জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহামুদা আক্তার কণা তার অবস্থান থেকে এতটুকুও নড়েন না। একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বর ও বরের বাবাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এর কিছুদিন পরে আরেকটি বাল্যবিয়ে বন্ধের ঘটনা ঘটে। ১নং শকুনী এলাকায় একটি বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে ছুটে যান মাহামুদা আক্তার কণা। সেই বিয়েও বন্ধ করে জরিমানা করা হয়। এভাবেই একের পর এক বাল্যবিয়ে বন্ধ করছেন মাদারীপুরের মাহামুদা আক্তার কণা।

সবাই তাকে কণা আপা বলে ডাকেন। আর এমন উদাহরণ রয়েছে অসংখ্য। যা একজন নারীকে বাল্যবিয়ে বন্ধের ব্যাপারে কাজ করার জন্য উৎসাহ জোগাবে।

চেনা নেই জানা নেই যে কেউ ফোন করে বা অফিসে গিয়ে বাল্যবিয়ের তথ্য দিলেই কোনো অবহেলা নেই। সরাসরি কিংবা অফিসের লোক পাঠিয়ে বন্ধ করে দেয় সেই বিয়ে। অনেক সময় নানা ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি দেখান হলেও দমে যাননি মাহামুদা আক্তার কণা। প্রভাবশালীদের চাপের মুখেও তিনি বন্ধ করেছেন বাল্যবিয়ে। সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে বন্ধ করাই তার একমাত্র লক্ষ্য।

মাদারীপুরের যেখানেই বাল্যবিয়ের কথা শুনছেন সেখানেই ছুটে যান মাহামুদা আক্তার কণা। একটাই উদ্দেশ্য যে কোনো উপায়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা। আর বর-কনের অভিভাবক ও আয়োজকদের সাজার ব্যবস্থা করেন। যাতে সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়।

এ প্রসঙ্গে মাহামুদা আক্তার কণা বলেন, মাদারীপুর জেলার বাল্যবিয়ে বন্ধের জন্য কাজ করছি। এ জেলাকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করতে চাই। তবে বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে পড়তে হয় নানা ধরনের হুমকিসহ বিভিন্ন সমস্যায়। তবুও থেমে নেই আমার মাদারীপুরের বাল্যবিয়ে বন্ধের উদ্যোগ।

মাদারীপুর জেলায় নারী উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন মাহমুদা আক্তার কণা। এলাকায় সবাই তাকে কণা নামেই ডাকে। তার শ্বশুরবাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার শ্রীনদী ইউনিয়নের শিরখাড়ায়। স্বামী ইলিয়াস হোসেন বাদল। বাবার বাড়ি রাজৈরের ইশিবপুর সাতবাড়িয়া এলাকায়। বাবা সিরাজুল হক মিয়া মাদারীপুরের এ.আর হাওলাদার জুটমিলের ম্যানেজার। এই সূত্রে মাদারীপুরের সঙ্গে তার একটা যোগসূত্র রয়েছে। চাকরির সুবাদে তিনি পটুয়াখালী, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, শিবচর, রাজৈরসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন। বর্তমানে মাদারীপুরের জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সমাজের অবহেলিত, নির্যাতিত নারীদের পাশে তিনি সব সময় দাঁড়িয়েছেন। তবে বাল্যবিয়ে বন্ধে তিনি সোচ্চার। এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৬০০ বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রায় ৫০০ নারীকে সালিশ মীমাংসার মাধ্যমে সুস্থ জীবন দিয়েছেন। পুলিশের মাধ্যমে অর্ধশতাধিক ধর্ষকের শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন।

পারিবারিক জীবনে তার স্বামী ব্যবসায়ী। বড় মেয়ে নাজিয়া সুলতানা পানী নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেক্সটার শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পানী বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। মেজ ছেলে নুরুস সাবা রাবিক ও ছোট ছেলে নুরস সাব্বির কলেজে পড়ে। তার এ পথচলায় মাদারীপুরের অনেক নারী আজ উদ্বুদ্ধ। তাকে দেখে অনেকেই নারী নির্যাতন বন্ধের ব্যাপারে এগিয়ে এসেছেন। স্বেচ্ছায় কাজ করছেন বাল্যবিয়ে বন্ধে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×