নিজের অধিকারের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয় : রাশিদা তালেব

  সাব্বিন হাসান ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাশিদা তালিব
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য রাশিদা তালিব

সদ্য বিদায় নেয়া বছরের শেষভাগে হয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দু’জন নারী ইতিহাস রচনা করেছেন। তাদেরই একজন রাশিদা তালেব।

রাশিদা তালেব ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী ছিলেন। রাশিদা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসী-বিরোধী এবং মুসলিম-বিরোধী অবস্থানের সরাসরি সমালোচনা করে গণমাধ্যমের নজরে আসেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য হতে চলেছেন তিনি। মিসিগান রাজ্য থেকে বিজয়ী হয়েছেন রাশিদা তালেব।

বিশ্ব রাজনীতির আবহে রাশিদা নামেই এখন বিখ্যাত। পুরো নাম রাশিদা তালেব। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। জন্ম ২৪ জুলাই ১৯৭৬। বয়স ৪২ বছর। রাশিদা তালেব ডেট্রয়েটে জন্ম নেয়া ফিলিস্তিনি-আমেরিকান বাবা-মায়ের সন্তান।

তিনি মিসিগান অঙ্গরাজ্যের একটি আসন থেকে এবারে জয়ী হয়েছেন। তার জন্ম ওই রাজ্যেরই রাজধানী শহর ডেট্রয়েটে। দরিদ্র আর খেটে খাওয়া এক অভিবাসী ফিলিস্তিনি পরিবারের সদস্য রাশিদা। ১

৯৯৮ সালে বিয়ে করেন ফয়েজ তালিবকে। দুই সন্তানের মা। আদম তালিব এবং ইউসুফ তালিব। রাশিদার পরিবারে অনেক ভাইবোন।

১৪ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় রাশিদা। ২০০৮ সালে তিনি প্রথম মুসলিম নারী হিসাবে মিসিগান রাজ্য পরিষদে নির্বাচিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় নিজের উপস্থিতির জানান দেন।

তার ভাষ্যমতে, মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা নিষিদ্ধ করা ছাড়াও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কিছু রীতির বিরোধিতা করার জন্যই তিনি কংগ্রেস নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন।

দৃঢ়কণ্ঠে রাশিদা বলেন, আমি মোটেও কোনো ইতিহাস রচনার জন্য নির্বাচনে আসিনি। অবিচারের বিরুদ্ধে ন্যায় পেতে নির্বাচন করেছি আমি। আমাদের ছেলেদের জন্য করেছি, যাদের মনে তাদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তারা বুঝতে পারছে না তাদের অবস্থান কোথায়?

নিজের কথা বলতে গিয়ে রাশিদা বলেন, আমি কখনই দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখার মতো মানুষের মধ্যে পড়ি না।

কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। দূরে দাঁড়িয়ে থাকলে তা কোনো সমাধান এনে দেবে না। নিজের বিশ্বাসের ওপর আস্থা থাকতে হবে। তবেই কেবল নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

আমার ধর্মের ভাইবোনদের জন্য করেছি, যাদের মনে মুসলিম পরিচয় নিয়ে ঝড় উঠছে। তারা বুঝতে পারছে না কেন আর কী অপরাধে তাদের প্রতি এমন নিষেধাজ্ঞা। দূরে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখার মতো স্বভাব আমার নেই। তাই এসেছি।

ডেট্রয়েটের কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে রাশিদা নিজেকে শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার আন্দোলনের বক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় রিপাবলিকানদের একটি নির্বাচনী সভায় সরাসরি প্রবেশ করে রাশিদা মুখের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে নিজের সাহসের প্রমাণ দিয়েছিলেন। তাকে তখন জোর করে সেখান থেকে বের করে দেয় ট্রাম্পের নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, সবশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প বিশ্বের সব মুসলিম রাষ্ট্রের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।

বিশ্বের মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা নিষিদ্ধ। এমন ঘোষণায় রীতিমতো অস্থির করে তোলে রাশিদাকে। এছাড়াও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কিছু কট্টর রীতির সরাসরি বিরোধিতা করার জন্যই কংগ্রেস নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রধান কারণ।

নির্বাচনে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর সমর্থকদের উদ্দেশে রাশিদার কথাগুলো ছিল, আপনাদের অবস্থার উন্নতির জন্য যা কিছু সম্ভব তাই নিয়ে কাজ করব। শুধু সেবা দেয়ার জন্য নয়, সব ধরনের নিপীড়ন ও বর্ণবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে আপনাদের একজন হয়ে লড়াই করব।

কারণ আজকের যেমন পরিস্থিতি তার চেয়ে আরও ভালো পরিবেশ পাওয়ার অধিকার রাখেন আপনারা।

ট্রাম্পকে তিনি ‘গুন্ডা’ বলে অভিহিত করেন। আর সাফ জানিয়ে দেন তিনি আমার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত কিনা তা আমি জানি না। কিন্তু আমি পুরোপুরি প্রস্তুত।

নির্বাচনী জনসভার রাশিদা বলেন, ট্রাম্পের মুসলমানবিরোধী প্রচারণা এবং নারীর বিষয়ক করা প্রতিটি মন্তব্য নারীদের। বিশেষ করে মুসলিম নারীদের মধ্যে উচ্চপদে আসীন হওয়ার তাড়না তৈরি করেছে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের বহু নারীর জন্য ছিল নেতিবাচক।

মুসলিম নারী নয়, সব শ্রেণীর নারীই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে সহমত। রাশিদা তালিবের বিজয় শুধু নব্য প্রজন্মের মুসলিমদের নয়, বরং কর্পোরেট রাষ্ট্রযন্ত্রের মুসলিম নারীদের জীবনমান পরিবর্তনে অনন্য উদাহরণ।

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজের মতাদর্শের কথা সাফ জানিয়ে দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে যে সাহসের পরিচয় রাশিদা দিয়েছেন তা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। আর তা বিশ্বের শতকোটি নারীদের জন্যও অনুপ্রেরণার আলো ছড়াবে।

জয়তু রাশিদা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×