কঠিন সময়ের শক্তি বন্ধুত্ব : ফারাহ খান

  সাব্বিন হাসান ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফারাহ নামেই বিশ্বের সিনেমা দুনিয়ায় সুখ্যাতি। পুরো নাম ফারাহ খান। জন্ম ৯ জানুয়ারি ১৯৬৫। নিজেকে পরিচিত করেছেন ভারতীয় নৃত্য পরিকল্পনাকারী, চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেত্রী আর জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে। শতাধিক হিন্দি ছবিতে নৃত্য পরিকল্পনা করেছেন। কাজ করছেন চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও। এ ছাড়া কিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রকল্প যেমন মেরি গোল্ড, অ্যান অ্যাডভেঞ্চার ইন ইন্ডিয়া, মনসুন ওয়েডিং এবং চাইনিজ চলচ্চিত্র পারহ্যাপ্স লাভ- এ কাজ করেছেন।

মা মেনাকা চিত্রনাট্যকার হানি ইরানি এবং সাবেক শিশুশিল্পী ডেইজি ইরানির বোন। ভাই কমেডিয়ান অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র পরিচালক সাজিদ খান। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর থেকে ফারাহ এবং সাজিদ দু’জনই আলাদাভাবে বেড়ে ওঠেন। ২০০৪ সালের ৯ ডিসেম্বর বিয়ে করেন ‘ম্যায় হুঁ না’ সিনেমার পরিচালক শিরিশ কুন্দেরকে। বিয়ের পর তারা পরস্পর একই সিনেমায় কাজ করেছেন। যেমন জান-ই-মান, ওম শান্তি ওম এবং তিস মার খান। তিন যমজ সন্তানের মা ফারাহ। এক ছেলে এবং দুই মেয়ে।

ফারাহ মুম্বাইয়ের সেন্ট জেভিয়ার’স কলেজে সমাজতত্ত্ব নিয়ে পড়েন। মাইকেল জ্যাকসনের থ্রিলার থেকে তিনি দারুণ উৎসাহ পান। যদিও তিনি এ গানের সঙ্গে নাচতে পারতেন না। এটি তার জীবনের লক্ষ্য হয়ে ওঠে। এরপর নিজের চেষ্টায়ই নাচ শেখেন। পরে একটি নৃত্যদল প্রতিষ্ঠা করেন। সুপরিচিত নৃত্য পরিকল্পনাকারী সারোজ খান জো জিতা ওহি সিকান্দার সিনেমার কাজ ছেড়ে দিলে ফারাহ সেই সিনেমার কাজ করার সুযোগ পেয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি সিনেমার গানের নৃত্য পরিকল্পনায় কাজ করেন। তিনি ‘কাভি হা কাভি না’ সিনেমায় কাজের সময় শাহরুখ খানের সঙ্গে পরিচিত হন। এরপর তারা অনেক ভালো বন্ধু হয়ে ওঠেন।

মনসুন ওয়েডিং, ভ্যানিটি ফেয়ার এবং বম্বে ড্রিমস সিনেমায় ফারাহ খানের কাজ নৃত্য পরিকল্পনাকারী পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়। বম্বে ড্রিমস সিনেমায় তিনি অ্যান্থনি ভান লাস্টের সঙ্গে যৌথভাবে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি পাঁচবার ফিল্ম ফেয়ার সেরা নৃত্য পরিকল্পনাকারী পুরস্কার জিতেছেন।

রেড চিলি ইন্টারটেইনমেন্ট প্রযোজিত ফারাহ খান এর প্রথম পরিচালিত সিনেমা ম্যায় হুঁ না। তিনি দ্বিতীয় নারী পরিচালক হিসেবে ফিল্ম ফেয়ার সেরা পরিচালক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। পরিচালক হিসেবে তার দ্বিতীয় সিনেমা শাহরুখ খান অভিনীত ওম শান্তি ওম। যা মুক্তির পর সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা। তিস মার খান তার পরিচালিত তৃতীয় সিনেমা। ২০১২ সালে বেলা বাংশালী সেহগাল পরিচালিত শিরি ফারহাদ কি তো নিকাল পাড়ি সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক করেন।

তিনি তারকালাপ অনুষ্ঠান তেরে মেরে বিচ ম্যায়’র উপস্থাপক এবং টেলিভিশন গানের প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান ইন্ডিয়ান আইডল ১ এবং ২, জো জিতা ও সুপারস্টার, এন্টারটেইনমেন্ট কে লিয়ে কুচ ভি কারেগা, ডান্স ইন্ডিয়া ডান্স মাস্টারসের এবং স্টার প্লাস চ্যানেলের নাচ প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান জাস্ট ডান্সের বিচারক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান।

ফারাহ এবং তার স্বামী যৌথভাবে তাদের তিন যমজ সন্তানের সম্মানার্থে থি’স কোম্পানি নামে একটি সিনেমা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। ২০১২ সালে তিনি স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার সিনেমার ইসক ওয়ালা লাভ এবং রাধ’আ গানের নৃত্য পরিকল্পনা করেন। ২০১৩ সালে তিনি জাম্পিং ঝাপাকের নৃত্য পরিকল্পনা করেন। বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের নৃত্য পরিচালক থেকে সফল চলচ্চিত্র পরিচালক হয়ে ওঠা, তাদের বন্ধুত্বের কথা কমবেশি সবারই জানা। ওম শান্তি ওম ছবির সাফল্যের পর তাদের বন্ধুত্বের গভীরতা বেড়ে যায়।

‘রা-ওয়ান’ ছবির চিত্রনাট্য রচয়িতা কনিকা দিল্লনের প্রথম উপন্যাস ‘বম্বে ডাক ইস এ ফিস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে শাহরুখ খান কথা প্রসঙ্গে ফারাহ খানের প্রশংসায় বলেন, ফারাহ’র মতো সৃজনশীল, আÍবিশ্বাসী ও দৃঢ় চিত্তের মানুষ আমি কমই দেখেছি। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সব সময়ই চমৎকার। শাহরুখের চমৎকার এ মন্তব্য শুনে ফারাহ খান বলেন, আমি জানি আমার প্রতি শাহরুখের ধারণা বরাবরই উঁচু এবং আমি তার কথা বিশ্বাস করি।

যদিও ব্যক্তিগতভাবে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন প্রিয় এ দুই বন্ধু। বলিউডে গুঞ্জন আছে, ফারাহ আর শাহরুখ ভবিষ্যতে আর কখনও একসঙ্গে কাজ করবেন না। অবশ্য এ প্রশ্নের উত্তর দর্শকরা ভবিষ্যতেই পেয়ে যাবেন।

সব সময়ই হাসতে আর হাসাতে পছন্দ করেন ফারাহ। জীবনের কঠিন সময়গুলোতে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পরামর্শ দেন। সবারই ভেতরে কিছু না কিছু প্রতিভা আছে। সেই প্রতিভার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করার প্রতি মনোযোগী হতে বলেন সবাইকে। বিশেষ করে তরুণদের। জীবনের কোনো অবস্থাতেই তরুণদের ভেঙে পড়া যাবে না। কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে আর তা থেকে বেরিয়ে আসতে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে। মানুষের প্রতি ব্যবহারিক গুণ বাড়াতে হবে। জীবনে ভালো বন্ধুর খুব প্রয়োজন আছে। জীবনের কঠিন সময়ে বন্ধুত্ব ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। নিজের চ্যালেঞ্জিং জীবনের কথা বলতে গিয়ে এসব কথাই বারবার বলেন ফারাহ খান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter