চ্যালেঞ্জিং পেশায় মেয়েদের অবস্থান দৃঢ় হচ্ছে

পুলিশের এসি নাদিয়া জুঁই

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  হক ফারুক আহমেদ

একটা সময় ভাবাই হতো, মেয়ে মানে শিক্ষক, ব্যাংকার বা ডাক্তার হবে। এর বাইরের যে আরও পেশা আছে যেখানে মেয়েরা ভালো করতে পারে- সে ভাবনা ভাবা হতো না। বর্তমানে এ চিন্তা-ভাবনার কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। সব পেশাতেই চ্যালেঞ্জ আছে, মেয়ে হলে সেটা আরও বেশি। তবে যেসব পেশায় একটা সময় শুধু পুরুষদেরই প্রাধান্য দেয়া হতো, সেসব চ্যালেঞ্জিং পেশায় মেয়েদের অবস্থানও এখন অনেক দৃঢ়। তাদের সাফল্যগাথাও অনেক। তবে এটাও ঠিক, মেয়েদের তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দেয়ার জন্য অনেক বেশি শ্রম দিতে হয়। এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলেন পুলিশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘আইজিপি এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ’ প্রাপ্ত এসি নাদিয়া জুঁই। ডিএমপির খিলগাঁও জোনে থাকাকালীন বরিশালের মেয়ে নাদিয়া জুঁই এ খেতাব পান। বর্তমানে তিনি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত আছেন।

নাদিয়া জুঁই আরও বলেন, চ্যালেঞ্জিং পেশায় মেয়েরা যারা কাজ করতে ইচ্ছুক, যাদের মেধা আছে তাদের আরও বেশি দায়িত্ব দিলে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ রাখতে পারবেন। কারণ যে জায়গায় তার সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার সুযোগ রয়েছে, সেখানেই তাকে দায়িত্ব দেয়া দরকার। তা না হলে বোঝা সম্ভব নয়, তার মধ্যে এ কাজের দক্ষতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার নারীদের প্রতিনিধিত্ব করবে এ ধরনের মানসিকতা থেকে দু-একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সেটা না করে যদি সত্যিই যোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়, তাহলে নারীরা চ্যালেঞ্জিং পেশাগুলোসহ আরও অনেক পেশায় বেশি বেশি সুযোগ পাবেন।

বিসিএস ৩০তম ব্যাচের ক্যাডার নাদিয়া জুঁই বিশ্বাস করেন নারীর ক্ষমতায়নে। যিনি অনুপ্রেরণার আঁধার হিসেবে দেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তার মতে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করেন বলেই আজকের নারীরা অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে। তিনি যেমন এ সত্যিটি বিশ্বাস করেন তেমনি সত্যিকারার্থে নারীর ক্ষমতায়ন চান। পুলিশের নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অনেক নারী এসপি, ডিসির নাম ধরে প্রশংসা করেন। যেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়ও। এভাবেই নারীদের প্রতিনিধিত্বকে তিনি উৎসাহিত করেন সবসময়।

নাদিয়া জুঁই কর্মজীবনে বহুবার প্রশংসিত হয়েছেন মানুষকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা প্রদানের জন্য। ভয়, চাপ বা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে তিনি মানুষকে সেবা দিয়েছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাদক মানবসমাজের উন্নয়নে অন্তরায়। ঢাকার খিলগাঁও ও রামপুরা এলাকায় মাদক নির্মূলে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে নাদিয়া জুঁই জানান, তার পুলিশ স্টেশনে অর্থাৎ কর্মস্থলে একটি রেজিস্ট্রার বুক খোলা হয়। স্কুল-কলেজপড়–য়া শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত হলে বা মাদক নিয়ে ধরা পড়লে তাদের অভিভাবকসহ হাজিরা নেয়া হতো। যাতে তারা একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি করতে না পারে। অনেক অভিভাবক তার এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান। অভিভাবকরা এও বলেন, ‘এ পদক্ষেপে তাদের সন্তানরা মাদক থেকে সরে এসেছে।’ দেশের মানুষ এখনও পুলিশকেই তার সবচেয়ে কাছের মানুষ মনে করেন। যে কোনো বিপদেও তারা প্রথমে পুলিশকেই স্মরণ করে। যে কোনো সমস্যা বা জরুরি প্রয়োজনে পুলিশ ফার্স্ট রেসপন্ডার হিসেবে কাজ করে। খিলগাঁও জোনে নাইট শিফটে দায়িত্ব পালনের সময় প্রায়ই দেখেছেন আগুন লাগলেও মানুষ প্রথমে পুলিশকে ফোন দিতেন। বাসার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তখনও থানায় ফোন দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স কীভাবে পাবে সে ব্যাপারে সহযোগিতা চান। যে কোনো সমস্যা নিয়েই মানুষ থানায় আসুক না কেন সেটা ভালোভাবে শোনা একজন পুলিশ কর্মকর্তার প্রধান দায়িত্ব। হয়তো সমস্যাটি একেবারেই পারিবারিক বা পুলিশ সম্পর্কিত না বা পুলিশের তেমন কিছুই করার নেই, তারপরও কী বলতে চায় সেটা শোনা দরকার। যা তিনি করে থাকেন এবং পরামর্শও দেন।

কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি ধাপে নারীকে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। পুলিশের মতো পেশায় আরও বেশি। এ প্রসঙ্গে নাদিয়া জুঁই বলেন, আমাদের যারা সিনিয়র তারা অনেক কষ্ট করে নারীদের জন্য একটি জায়গা তৈরি করেছেন। পুলিশে নারীদের কাজের সুন্দর পরিবেশ ও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সমস্যা হল নারীদের নিজেদের অবস্থান তৈরি ও কাজের ক্ষেত্রে যোগ্যতা প্রমাণের জন্য অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। তাছাড়া পোস্টিং বা পদায়নের সময় নারীরা পরিবারের কথা চিন্তা করে কিছুটা পিছপা হয়। যে মেয়েটি বাইরে কাজ করে তাকে কিন্তু অফিসের কাজকর্ম ছাড়াও সাংসারিক কাজের পাশাপাশি অনেক কাজ করতে হয়। তবে দিন পাল্টাচ্ছে এখন কর্মজীবী নারীরা পরিবার, স্বামীর কাছে থেকে সহযোগিতা পাচ্ছেন। এখন শুধু প্রয়োজন কর্মক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির আরেকটু পরিবর্তন। আরও বেশি নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা।