লক্ষ্য ঠিক তো সব ঠিক

শীর্ষ ধনী বেটেনকোর্ট মেয়ার্স

  সাব্বিন হাসান ১৩ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমানে বেটেনকোর্ট মেয়ার্স নামেই ব্যবসা দুনিয়ায় বিখ্যাত। পুরো নাম ফ্রাঁসোয়া বেটেনকোর্ট মেয়ার্স। জন্ম ১০ জুলাই, ১৯৫৩। বলতে গেলে সোনা নয়, হীরার চামচ নিয়েই জন্মেছেন। প্যারিসে বসবাস করেন মেয়ার্স। তিনি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান বেটেনকোর্ট শুয়েলার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। ব্যবসায়ী পরিচয়ের বাইরে মেয়ার্স একজন লেখকও। তিনি গ্রিক দেবতাদের নিয়ে বহুমুখী লেখা লিখেছেন। বাইবেলের ওপরও ভাষ্য লিখে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সবশেষ বিখ্যাত মার্কিন ব্যবসাকেন্দ্রিক সাময়িকী ফোর্বস’র ২০১৯ সালের শীর্ষ ধনীর তালিকায় ১৫ নম্বরে স্বীকৃতি পেয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বেটেনকোর্ট মেয়ার্স। মূলত বিশ্বের নারীদের মধ্যে শীর্ষ ধনীর স্বীকৃতি তাকে বিশেষ আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

তিনি নিজে এ অর্থ অর্জন করেননি। বিখ্যাত ফরাসি প্রসাধন ব্র্যান্ড লরিয়েলের কর্ণধার এখন তিনি। একই সঙ্গে পারিবারিক হোল্ডিং কোম্পানিরও চেয়ারম্যান। তার সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার ৯৩০ কোটি ডলার।

১৯০৭ সালে লরিয়েল প্রতিষ্ঠা করেন ইউজেন শুয়েলার। তারই সুযোগ্য নাতনি হচ্ছেন বেটেনকোর্ট মেয়ার্স। ১৯৯৭ সালে তিনি লরিয়েলের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন। মা লিলিয়ান বেটেনকোর্ট মারা যান ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। মেয়ার্সের কোনো ভাইবোন নেই। ব্যক্তি জীবনে দুই সন্তানের মা মেয়ার্স। একজন অ্যানড্রি বেটেনকোর্ট। অন্যজন লিলিয়ান বেটেনকোর্ট। স্বামী জেন পিয়েরি মেয়ার্স। ধীরস্থির স্বভাবের মেয়ার্স শান্তিতেই ঘর সংসার সামলে চলেছেন। মায়ের মৃত্যুর পরই গত বছর তিনি প্রথম শীর্ষ ধনীর তালিকায় চলে আসেন। ১৯৮৭ সাল থেকে ফোর্বস বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকা প্রকাশ করে আসছে। তখন থেকেই লিলিয়ান সেই তালিকায় প্রতি বারই জায়গা করে নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত বছর বেটেনকোর্ট মেয়ার্সের সম্পদের পরিমাণ ১৭ শতাংশ বা ৭১০ কোটি ডলার বেড়েছে। নারী প্রসাধনী লরিয়েল ব্র্যান্ডের রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা হওয়ায় তার সম্পদ এতটা বেড়ে উঠেছে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আয় হয় ৩ হাজার ৬০ কোটি ডলার। লরিয়েলের ৩৩ শতাংশের সরাসরি অংশীদার বেটেনকোর্ট মেয়ার্স ও তার পরিবার। শুরু থেকে ধনী নারীদের তালিকায় এলেও এবারই প্রথম শীর্ষ ধনী নারী হয়েছেন। আর হৈচৈ হচ্ছে মূলত এ কারণেই। গত এক দশকে ওয়ালটন আর বেটেনকোর্ট পরিবারের নারীরাই শীর্ষ ধনী হয়ে এসেছেন। এটা যেন রীতিতে পরিণত হয়েছে। মূলত বেটেনকোর্ট মেয়ার্স ২০১৮ সালের মার্চ মাসেই গতবারের শীর্ষ ধনী অ্যালিস ওয়ালটনকে টপকে যান।

গত এক দশকে নেতৃত্ব দিয়ে লরিয়েল ব্র্যান্ডকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করেছেন মেয়ার্স। ফরাসিভিত্তিক নারী প্রসাধনী পণ্য হিসেবে লরিয়েল আজ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বজুড়ে লরিয়েল তার দাপুটে অবস্থান ধরে রেখেছেন। পারিবারিক জীবনে বেশ কিছু কঠিন চড়াই-উতরাই সামলে নিয়েছেন মেয়ার্স। অর্থবিত্তশালী পরিবারের অন্তরালে কঠিন রাজনীতিরও মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তবে দৃঢ়চিত্তে সবকিছু সামলে নিয়ে এগিয়ে গেছেন। শুরু থেকেই লরিয়েল ব্র্যান্ডের সুনাম ধরে রাখার পাশাপাশি ব্যবসাকে আরও বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ সামলেছেন। এতবড় একটি ব্র্যান্ডের নেতৃত্ব দেয়া তো সহজ কাজ নয়। পারিবারিক এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদের পরিমাণ বাড়িয়ে নিজের যোগ্যতা আর দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এখনও প্রতিদিনই নিত্যনতুন ভাবনায় সমৃদ্ধ করে চলেছেন লরিয়েল।

ধর্ম নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন তিনি। লেখক হিসেবেও সুখ্যাতি আছে। গণমাধ্যমকে খুব বেশি এড়িয়ে চলেন তিনি। মূলত মায়ের মৃত্যুর পরই একমাত্র সন্তান হিসেবে মায়ের সব সম্পত্তিই তিনি পেয়ে যান। ফলে রাতারাতি বিশ্বের ধনীদের কাতারে চলে আসেন।

বাজার গবেষক এবং সমালোচকরা মনে করেন, প্রশাসনিক দক্ষতা না থাকলে লরিয়েল ব্র্যান্ড এতটা দাপুটে হয়ে উঠতে পারত না। নিজেকে একটু আড়লে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নানাবিধ বিষয় নিয়ে তিনি লেখালেখি করেন। ইতিমধ্যেই লিখেছেন তিনটি বই। ধর্ম গবেষণায় তার আগ্রহ অনেক বেশি। এ নিয়ে কাজও করছেন দীর্ঘদিন ধরে। নিজের ছেলেদের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করে তুলেছেন। সামাজিক বিভিন্ন কাজে তিনি এগিয়ে আসেন। বিশেষ করে নারীদের জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়গুলোকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন।

আধুনিক সভ্যতার প্রতিটি নারী প্রসাধনী পণ্যের তালিকায় লরিয়েল যেন থাকতেই হবে। সময়ের সঙ্গে নারীদের চাহিদা বদলের কথা মাথায় রেখেই পণ্য সম্ভাবে অভিনব সব ধারণা আর রঙের সমাহার বাড়াতে পেছন থেকে লরিয়েলকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।

আজকের দুনিয়ায় ভাগ্য আর যোগ্যতার অনন্য উদাহরণ এখন বেটেনকোর্ট মেয়ার্স। সমালোচকরা অনেক কথা বললেও তাকে আলোচনায় রাখতেই হয়। বিশ্বাসকেই সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখেন তিনি। সাফল্য ধরে রাখা সাফল্য অর্জনের চেয়ে কঠিন কাজ বলে মনে করেন তিনি। তরুণদের উদ্দেশে তার অন্যতম পরামর্শ উদ্যমী হয়ে যে কোনো কাজ করতে হবে। তাহলে জীবনের পথ সবসময়ই সঠিক লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাবে। ব্যক্তির সৌন্দর্যকে তিনি উদ্যমের প্রতীক বলেও মনে করেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×