জ্ঞান অর্জনই শান্তির উৎস

অ্যালিস ওয়ালটন

  সাব্বিন হাসান ২০ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যালিস নামেই সারা দুনিয়ার ব্যবসা খাতে স্বনামধন্য। পুরো নাম অ্যালিস ওয়ালটন। জন্ম ৭ অক্টোবর, ১৯৫৯। বিত্তশালী পরিবারে জন্ম নেয়া অ্যালিস পারিবারিক ব্যবসার সুনাম বাড়িয়েছেন। বড় করে তুলেছেন ব্যবসার পরিসর। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাস করছেন পরিবারের সঙ্গেই। অর্থনীতি বিষয়ে অনার্স আর মাস্টার্স করেন। জীবনে চাকরি শুরু করেছেন ব্যাংকিং খাতে। বিনিয়োগ বিষয়ে তার আগ্রহ আর অভিজ্ঞতা আজকের ওয়ালটনের ব্যবসা পরিসর বাড়াতে দারুণ সহায়কের কাজ করেছে।

বাবা স্যাম ওয়ালটন। মা হেলেন ওয়ালটন। পরিবারে আরও আছে তিন ভাই। রব ওয়ালটন, জন ওয়ালটন আর জিম ওয়ালটন। ২০০৫ সালে ওয়ালটনের পারিবারিক জীবনে একটি দুর্ঘটনা ঘটে যায়। অ্যালিসের ভাই জিম ওয়ালটন একটি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। ভাইয়ের এ অকাল মৃত্যুতে অ্যালিস অনেকটা মুষড়ে পড়েন। এ শোক কাটিয়ে উঠতে তার বেশ সময় লাগে।

অ্যালিস খুব সাধারণ একটি ‘এফ-১৫০’ গাড়ি ব্যবহার করেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনীর কাতারে থাকা এ মানুষ কেন এত সাধারণ গাড়িতে চড়েন এমন প্রশ্নের উত্তরে অ্যালিসের সরল স্বীকারোক্তি তার বাবা এ মডেলের গাড়িতে চড়তেন। তাই তিনি এ গাড়িতে চড়তে ভালোবাসেন।

খুব ছোটবেলা থেকেই শিল্প-সাহিত্যের প্রতি ছিল তার অদম্য আগ্রহ। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি পিকাসোর একটি চিত্রকর্ম কিনে নেন। সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস’র তালিকায় দ্বিতীয় শীর্ষ নারী ধনী হয়েছেন অ্যালিস ওয়ালটন। এ মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় তিনি ১৮তম আসন দখলে রেখেছেন। তিনি ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের একমাত্র মেয়ে।

বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ডলার। এখন তিনি ব্যবসার তুলনায় শিল্প সংগ্রহেই বেশি আগ্রহী। ২০১১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসে ‘ক্রিস্টাল ব্রিজেস মিউজিয়াম অব আমেরিকান আর্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন। তার সংগৃহীত শিল্পের মূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার। তার ভাই রব ও জিম ওয়ালটনও বড় মাপের শিল্প সংগ্রাহক।

মার্কিন ধনকুবের স্যাম ওয়ালটনের মেয়ে হিসেবে অ্যালিস ওয়ালটন ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় বরাবরই শীর্ষ আসন অলংকরণ করে আসছেন। স্যান অনটোনিওর ট্রিনিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যালিস অর্থনীতি ও ফিন্যান্স বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে কর্মজীবনের সূচনা। শিল্পমোদী হিসেবে তার সুনাম বিশ্বজোড়া। অ্যালিস বিশ্বের খ্যাতনামা বেশ কয়েকটি জাদুঘর ও চিত্র সংগ্রহশালার পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে অ্যালিস অনবদ্য এক নাম।

ওয়ালটন পরিবারের সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ ১৫ হাজার ১৫০ থেকে ১৭ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার। এই পরিবারটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী পরিবার। এমনকি এটি কিছু দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী পরিবারও বলা চলে। চলতি বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের হিসাব বলছে, এ পরিবারটি শীর্ষে আছেন শুধু দুই জনের কারণে। তারা হলেন পরিবারের বড় সদস্য জিম ও অ্যালিস ওয়ালটন। যাদের প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬৪০ কোটি ডলার। আর এই দু’জন ধনী ব্যক্তি ফোর্বসের বার্ষিক বিলিয়নেয়ারের তালিকায় ১৬ ও ১৭তম অবস্থানে আছেন। পরিবারটি খুচরা বিক্রেতা কোম্পানি ওয়ালমার্টের মালিক।

প্রসঙ্গত, ১৯৬২ সালে আরাকানসাস অঙ্গরাজ্যে স্যাম ওয়ালটন ‘ওয়ালমার্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি আয়ের দিক থেকে এ মুহূর্তে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কোম্পানি। এই বছরের জানুয়ারির তথ্য অনুসারে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২ হাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৩৫৫ খুচরা দোকান আছে এই কোম্পানির। যার ফলে বর্তমানে এক অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছে এই পরিবারটি।

পরিস্থিতি যেমনই হোক জীবনকে এগিয়ে নিতে হবে। অর্থবিত্ত সবকিছু নয়। মানুষের কল্যাণে কাজ করার মধ্যে দারুণ এক তৃপ্তি আছে বলে তিনি মনে করেন। জীবনের দৃষ্টিকোণ বদলে দিতে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ থাকা উচিত। অতীত ইতিহাস থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। কিন্তু আমরা ইতিহাস থেকে শিখতে চাই না। ইতিহাস হচ্ছে সবচেয়ে বড় শিক্ষক। শিল্প-সাহিত্যের সংস্পর্শে থাকলে মন-মানসিকতা ভালো থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তা ব্যবসা প্রসারে কাজে আসে।

মাল্টিন্যাশনাল ব্যবসা করতে হলে অন্য দেশের শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। এসব কথা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলেছেন অ্যালিস ওয়ালটন। ব্যক্তি জীবনে বেশ সাদামাটা হয়েই চলেন। তেমন কোনো শো অফ নেই তার। বর্তমানে বিশ্বের শৌখিন ব্যক্তিদের তালিকাতেও শীর্ষেই আছেন অ্যালিস। জীবনে এগিয়ে নিতে হবে মানবকল্যাণে- এ কথা বিশ্বাস করেন আর সেভাবেই জীবনের বাকিটা সময় কাটাতে চান অ্যালিস। তরুণদের উদ্দেশে তার অন্যতম কথা সংস্কৃতিমনা হওয়া। ইতিহাসকে জানা। নিজেকে জ্ঞানের আলোয় সুসমৃদ্ধ করা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×