আইনি কাঠামোতে সুনির্দিষ্ট কোন দিকনির্দেশনা নেই

  শিল্পী নাগ ২০ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একদিকে নারীরা কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে এ সহিংসতা প্রতিরোধে আইনি কাঠামোতে নেই সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা। ফলে কর্মক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নারীর অংশগ্রহণ এবং উপস্থিতি। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন। সম্প্রতি একশনএইড বাংলাদেশের নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সম্প্রতি ঢাকার গুলশান শুটিং ক্লাবে ‘নারীবান্ধব নিরাপদ কর্মস্থল’ নামে একটি আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ প্রতিবেদন তুলে ধরে একশনএইড বাংলাদেশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন ‘কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা : প্রতিদিন প্রত্যেক কর্মক্ষেত্রে ঘটছে’ নামের গবেষণাপত্র উপস্থাপনকালে বলেন, বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা মানবাধিকারের সর্বাধিক লঙ্ঘনের মধ্যে একটি। এক শুমারি অনুযায়ী, ১৫ বছরের বেশি বয়সী ৩৫ শতাংশ নারী (বিশ্বব্যাপী ৮১৮ মিলিয়ন নারী) তাদের বাড়ি, কমিউনিটি অথবা কর্মক্ষেত্রে যৌন বা শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান এমপি বলেন, বাংলাদেশের নারী ও মেয়েশিশুরা কাঠামোগত বৈষম্য এবং সামাজিক রীতির কারণে বিভিন্ন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার সম্মুখীন হন। এটির সমাধান চায় বর্তমান সরকার। প্রয়োজনে আমরা বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেব।

বাংলাদেশে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং মানব উন্নয়নে অবদান রাখলেও কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা কর্মক্ষেত্রের উৎপাদনশীলতা এবং মুনাফাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাছাড়া কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা নারীর মর্যাদা এবং শারীরিক ও মানসিক কল্যাণে বাধা দেয়। ‘সজাগ নেটওয়ার্ক’ কতৃক পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্যে বলা হয়েছে, ২২ শতাংশ নারী পোশাককর্মীরা কর্মক্ষেত্রে অথবা কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে শারীরিক, মানসিক এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর বিশ্বাসের অভাবের কারণে তাদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ-ই নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ কমিটির কাছে প্রতিকার চায় না।

এ পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে দেশের বিদ্যমান আইনেরও বিশ্লেষণ করেছে একশনএইড বাংলাদেশ। এ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকে চিহ্নিত করার জন্য সামগ্রিক আইনি কাঠামোয় কার্যকরভাবে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিভিন্ন ধরন অনুযায়ী উল্লেখ নেই, যার মধ্যে অন্যতম যৌন হয়রানি। বিদ্যমান আইনে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি যৌন হয়রানিকে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সুপ্রিম কোর্ট ২০০৯ সালে একটি নির্দেশনা দেয়। এ নির্দেশনা প্রণয়নের নয় বছর পরও প্রতিষ্ঠানগুলো যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

এ প্রসঙ্গে একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, একদিকে আইনে যৌন হয়রানিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। অন্যদিকে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগেও রয়েছে গুরুতর অভাব। মামলার বিলম্বিত নিষ্পত্তি এবং তদন্ত কর্মকর্তা এবং পাবলিক প্রসিকিউটরদের অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা প্রায়ই বিচার পেতে ব্যর্থ হন। এর প্রভাব পড়ছে নারীর মনে, কাজে, সমাজে।

নিজেরা করির নির্বাহী পরিচালক খুশি কবির বলেন, আমাদের দেশে নারীকে দমন করা ও নির্যাতন করাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। আবার তার শ্রমকে মর্যাদা দেয়া হয় না। আইনের পাশাপাশি দরকার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×