হাট পরিষ্কার করে সংসার চালায় মাদারীপুরের কৈতুরী বেগম

  আয়শা সিদ্দিকা আকাশী ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাদারীপুরের কৈতুরী বেগম
মাদারীপুরের কৈতুরী বেগম

স্বামী প্রতিবন্ধী। দুই মাইয়া। বড় মাইয়াও প্রতিবন্ধী। ছোটটা ভালা। স্বামী তেমন কাম করতে পারে না। তাই কাম কইর‌্যা খাইতে হয়। গ্রামের মানুষ আমি। কি করমু। হাটবাজার পরিষ্কার কইর‌্যা টাহ্যা পাই। তাই হাট পরিষ্কার করার কাম করি। স্বামীও এই কামে আমারে সহযোগিতা করেন।

সপ্তাহে দুই দিন হাট পরিষ্কার কইর‌্যা যা পাই তাই দিয়া কোনোরকম সংসার চালাই। কিন্তু আমাগো এ পরিশ্রমের কোনো দাম নেই। কেউ আমাগো মূল্যায়ন করে না। আমাগো এ লড়াই শুধুই বাঁচার জন্য। এভাবেই কথাগুলো বললেন মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়ার মাহমুদসি গ্রামের কৈতুরী বেগম (৩০)।

মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়ার মাহমুদসি গ্রামের কৈতুরী বেগম। শারীরিক প্রতিবন্ধী নেছারউদ্দিন কাজীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ঘর আলো করে আসে দুই মেয়ে। বড় মেয়ে নাদিরা। বয়স তেরো। শারীরিক প্রতিবন্ধী। ছোট মেয়ে সাদিয়া। বয়স সাত বছর। চার সদস্যের সংসার।

খাওয়া-দাওয়াসহ সব খরচ জোগানো সম্ভব হয় না স্বামী নেছার উদ্দিন কাজীর। তাই সংসারের হাল ধরতে কাজের সন্ধানে বের হন কৈতুরী বেগম। গ্রামে তেমন কোনো কাজ পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে হাট পরিষ্কারের কাজ নেয় কৈতুরী বেগম।

কৈতুরী বেগমের মতে, গ্রামে সপ্তাহে মঙ্গল ও শুক্রবার হাট বসে। এ হাট কুনিয়ার হাট নামে পরিচিত। সপ্তাহে দু’দিন হাট পরিষ্কার করে কিছু টাকা পান। সেই টাকায় সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়েদের পড়াশোনার জন্য ব্যয় করেন। মেয়েরা স্কুলে পড়ে। হাট পরিষ্কারের কাজ করায় তার কোনো সম্মান নেই। যেদিন কাজ করেন সেদিন টাকা পান। না করলে টাকা পান না।

মাদারীপুরের নারী উন্নয়ন সংগঠন নকশি কাঁথার সদস্য ফারজানা আক্তার মুন্নি বলেন, গ্রামের নারীরা সমাজে অনেক ধরনের কাজ করেন। কিন্তু তাদের কাজের তেমন মূল্যায়ন হয় না। নারীদের এসব কাজকে আমাদের সম্মান জানানো দরকার। এ ব্যাপারে মাদারীপুর মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কণা বলেন, আসলে আমাদের সমাজে নারীরা অনেক কাজ করেন। কিন্তু তাদের সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। এটা সত্যিই দুঃখজনক। নারীদের প্রতিটি কাজের মূল্যায়ন ও সম্মান করা উচিত।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর