অসচেতনতার কারণে পাচারের শিকার হয় মেয়েরা

  খালেদা বেগম ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উখিয়া উপজেলার টেকনাফ গ্রামের এক তরুণীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়। মেয়েটিকে ৭০ হাজার টাকায় দিল্লির একটি পতিতালয়ে বিক্রির সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়ায় রক্ষা পান তিনি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ-ভারতের কূটনীতিক ও সীমান্ত কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ৩১ আগস্ট বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয় তরুণীকে। শুধু চাকরি দেয়ার নামেই নয়, প্রেম বা বিয়ের ফাঁদে ফেলে প্রায়ই কিশোরী এবং তরুণীদের বিদেশে পাচার করা হয়ে থাকে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা নড়াইলের এক তরুণীকে বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই শ্বশুরবাড়ির লোকেরা দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে ভারতীয় পুলিশের সহায়তায় বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি ভাগ্য বিড়ম্বিত মেয়েটিকে দেশে ফিরিয়ে আনে। মুম্বাইয়ের পতিতালয়ে দীর্ঘ চার বছরের অন্ধকার জীবনে তরুণী আক্রান্ত হয় মরণব্যাধি এইডসে।

অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার বেশিরভাগ নারী সামাজিক কারণে তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করেন না। অনেকে আবার বিদেশে যাওয়ার খরচ হিসেবে নেয়া ঋণ শোধ করার জন্য, পেছনে ফেলে যাওয়া দরিদ্র পরিবারের খরচ জোগাতে বছরের পর বছর নির্যাতন মেনে নিয়েই ইচ্ছার বিরুদ্ধে সব যন্ত্রণা সয়ে সেখানেই রয়ে যায়। এহেন অমানবিক কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে কিছু প্রতারক ও ট্রাভেল এজেন্সির দালালচক্র।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার নারী ও শিশু বিদেশে পাচার হচ্ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার, নারী ও শিশু কল্যাণ সংগঠনের প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলার বাসিন্দারা পাচারের শিকার হচ্ছে বেশি।

মানবপাচার বিশেষ করে নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ কল্পে বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পর্যায়ে এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রের সরকার এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল সম্প্রতি প্রণীত পাচারবিরোধী আইন ‘দি হিউম্যান ট্রাফিকিং ডিটারেন্স অ্যান্ড সাপ্রেশন অর্ডিন্যান্স ২০১১’।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×