তাদের ঈদে আনন্দ নেই

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আমির হোসেন আমু

পশুর নদীর পাড়ে মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কানইনগর গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের মানুষদের বাস। মে মাসের ঘূর্ণিঝড় ফণী তাদের জীবনকেও লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডবে তাসলিমের কুঁড়েঘর ভেঙে গেছে।

ফণীর তাণ্ডবে তার ঘরের চালা উড়িয়ে নিয়েছে তাতে দুঃখ নেই কমলা বেগমের। তার সন্তানরা সুস্থ আছে, এতেই তিনি খুশি। ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানার আগেই দু’সন্তানকে আশ্রয় কেন্দ্রে রেখে এসেছিলেন। একমাত্র আয়ের ভরসা ছোট কাঠের নৌকাটা যাতে ভেসে না যায় এই দুর্যোগের মধ্যেও নৌকার দড়ি ধরে বসেছিলেন। কিন্তু ঝড়ের তাণ্ডবে নিমিষেই গুঁড়িয়ে গেছে তার আয়ের উৎস ছোট নৌকাটি। আর সেই থেকেই নদীতে নামতে পারছেন না। ভেঙে যাওয়া নৌকা তীরে টেনে ধার দেনা করে সংস্কারের কাজ করছেন। দিনের আলোতে নৌকা সংস্কারের কাজ করেন। আর রাতের আঁধারে কমলা নেমে পড়েন নদীতে পোনা মাছ ধরতে। একদিকে পেট চালাতে হবে অপরদিকে নৌকা মেরামত করে আবারও দ্রুত তাকে নামতে হবে নদীতে। হাড়ভাঙা এত পরিশ্রম করার পরও তার ইচ্ছা ছিল নিয়মিত রোজা রাখার। কিন্তু ঘরে খাবার নেই, তাই রোজা রাখবেন নাকি নিজের ও সন্তানদের জন্য দুমুঠো খাবার জোগাড় করবেন। তার মধ্যে ঈদের কেনাকাটা কোথা থেকে করবেন।

এ প্রসঙ্গে কমলা বলেন, ‘কার কাছে যামু হাত পাতমু! এ্যহন আর পাইরা উঠছি না, কয়টা টাহা অইলে নাও’ডা (নৌকা) গাইনী-পুটিন, আলকাতরা লাগাইয়া গাঙ্গে লইয়া নামতে পারি।

একই এলাকার খাস জমিতে ছোট খুপরিঘরে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে বাস নাসরিন বেগমের। মাটি থেকে প্রায় দু’ফুট উঁচুতে গোলপাতা দিয়ে তৈরি তার খুপরিঘর। জোয়ারের পানি চলে আসে টংঘরের নিচে। নদীতে জোয়ারের সময় দু’সন্তান নিয়ে টংয়ে উঠে পড়েন নাসরিন। স্বামী মোস্তফা খাঁর সঙ্গে মাছ ধরেন। ঘূর্র্ণিঝড় ফণীর ছোবলে তার টংঘরটি ঠিক থাকলেও ভেসে গেছে পোনা মাছ ধরার জাল। তবে প্রলয়ঙ্করী এ ঝড়ের কথা শুনেও আশ্রয় কেন্দ্রে যায়নি নাসরিন। তিনি বললেন, আশ্রয় কেন্দ্রের অবস্থা খুবই খারাপ। যখন তখন ভেঙে পড়তে পারে। তাই ঝড়ের রাতে নিজের টংয়ের খুপরিতে কাটিয়েছি। ঈদে বাচ্চাদের একটু সেমাই আর নতুন কাপড় পরাতে পারলেই আমি খুশি। তাসলিম, কমলা আর নাসরিনের মতো প্রতিনিয়ত জীবন সংগ্রামে লড়াই করে টিকে আছে মোংলার পশুর নদীর তীরবর্তী এলাকার হতদরিদ্র পরিবারগুলো।