ঈদ-আনন্দ ভাবনা

ঈদের সপ্তাখানেক আগেই বাড়ি যাবেন অনেক শিক্ষার্থী। লেখাপড়ার জন্য অনেকে পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। তেমনি কয়েকজন শিক্ষার্থী জানালেন, তারা কীভাবে ঈদ উদযাপন করবেন। লিখেছেন-

  মুশফিকুল হক মুকিত ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সবাই আনন্দ ভাগ করে নেব : সিরাজুম মুনিরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম বর্ষে পড়ছেন সিরাজুম মুনিরা। ঢাকায় বাবা-মা’র সঙ্গে থাকলেও সপরিবারে ঈদ করবেন রাজশাহী জেলার মোহনপুরের মেলান্দি গ্রামে। সেখানে চাচা-চাচি, ফুফা-ফুফুসহ কাজিনদের সঙ্গে ঈদ করবেন। সবাই মিলে হইহুল্লোড় করে ঈদ উদযাপন করার আনন্দই আলাদা। বাড়ির উঠোনে বসে দলবেঁধে হাতে মেহেদি পরবেন। খুবই সাধারণ সাদামাটা গ্রামীণ জীবন হলেও জীবনের স্পন্দন আছে এখানেই। আত্মীয়দের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনেছেন। বাবা-চাচা-ভাইয়েরা মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে এলে ফিরনি, পায়েস, সেমাই দিয়ে সবাই মিষ্টিমুখ করবেন। তবে মুনিরা ঈদের দিন মায়ের হাতের তেহারি খেতে চান। ঈদের পরে মুনিরার পরীক্ষা। এতে অবশ্য ঈদের আনন্দের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। সিরাজুম মুনিরার মতে, পরিবার ও আশপাশের সবাইকে নিয়ে ভ্যানে করে তুলসীক্ষেত্র এবং ব্রিজের ধারে বেড়াতে যাবেন। সেখানে নির্মল পরিবেশ, সবুজের সমারোহ, দিগন্তে নীল আকাশ আর জলরাশির ধারা মনকে প্রফুল্ল করে তোলে। এভাবেই সবার সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগ করে নেব।

মায়ের হাতের কাচ্চি খাব : সারা তাবাসসুম

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন সারা তাবাসসুম। গ্রামের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায়। ঢাকায় হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেন। তবে মন পড়ে থাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে। তার নানা-নানু কাজিনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার অনুভূতি একটু অন্যরকম। ঈদের ছুটিতে অনেকদিন পর গ্রামে যাবেন। এ প্রসঙ্গে সারা তাবাসসুম জানান, ঈদের দিন মায়ের হাতে বাহারি রান্নার স্বাদ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার আনন্দ অপরিসীম। ভাবতেই ভালো লাগছে। ঈদ উদযাপন উপলক্ষে বাড়িতে জমজমাট আয়োজন চলে। ঈদে মা, নানুর জন্য শাড়ি আর নানার জন্য ফতুয়া কিনেছেন। নিজের জন্যও কেনাকাটা করেছেন। কখন ছুটির ঘণ্টা বাজবে সেই অপেক্ষায় আছেন তিনি। তবে ঈদের পর পরীক্ষা সে নিয়ে তো একটু টেনশন রয়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি আগে করায় বাড়তি কোনো চাপ নেই। ঈদের সালামি ছাড়া ঈদ যেন অপূর্ণ থাকে। চাঁদরাত থেকে শুরু হয়ে যায় উৎসবের আমেজ। স্থানীয় অনেকে তারাবাতি ফোটায়, আতশবাজির আয়োজন করে। খুব আনন্দ লাগে তার। চাঁদরাতে কাজিনদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে হাতে মেহেদি পরবেন। ঈদের দিন মায়ের হাতের কাচ্চি খাবেন। বিকালে গদখালীর ফুলের বাগানে সবাই মিলে ঘুরতে যাবেন। ঈদ উপলক্ষে বিকালে গ্রামের মাঠে মেলা বসে। অনেক সুন্দর করে সাজানো হয় চারপাশ। জামা, জুতা, শাড়ি, বিভিন্ন প্রসাধনী, কসমেটিক্স এসবের ছোট দোকান বসে। বিভিন্ন খাবারের দোকান, পান মসলার দোকান, আচার, চাটনিও পাওয়া যায়। ছোটদের খেলার জন্য নাগরদোলা, খেলনার দোকানও থাকে। গ্রামের সবাই মেলায় ঘুরতে আসেন। আনন্দের মধ্য দিয়ে কাটবে তার ঈদ।

চাঁদ রাতে হাতে মেহেদি পরব : নুসরাত জাহান ঐশী

মেহেরপুরের মেয়ে নুসরাত জাহান ঐশী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার সুবাদে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের হলে থাকতে হয় তাকে। কিন্তু মন পড়ে থাকে পরিবারের কাছে। ঈদ করবেন মেহেরপুরে। রোজার মধ্যে পরীক্ষা চলছে। লেখাপড়ার চাপটা একটু বেশি। তাই ঈদের কেনাকাটার সময় হয়নি। তবে শেষ মুহূর্তে কিনে নেবেন। নুসরাত জাহান ঐশীর মতে, ঈদের আগে পরীক্ষা শেষ হল। ঈদটা আনন্দেই কাটবে। বাবা এসে বাড়ি নিয়ে যাবেন তাই কাউন্টার থেকে আগেই বাসের অগ্রিম টিকিট বুক করে রেখেছেন। পথে, যানবাহনে নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাবা তাকে নিয়ে যাবেন। কতদিন পর মাকে জড়িয়ে ধরব। ভাই, বোন, আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে জমিয়ে গল্প করব। চাঁদরাতে হাতে মেহেদি পরব। আম্মু চাঁদরাতে ঈদের মজাদার রান্নার আয়োজনে ব্যস্ত থাকবেন। মা’র হাতের গরুর মাংস, ভুনা খিচুড়ি আর মিষ্টি খাব। ঈদের দিন মেহেরপুরের বিখ্যাত স্থান মুজিবনগর আর আমঝুপি নীলকুঠিতে দর্শনার্থীদের বেশ ভিড় হয়। ঈদের দিন বাসায় থাকলেও ঈদের পরদিন ঘুরতে বের হব বললেন নুসরাত জাহান ঐশী।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×