রুলিবালায় নকশা করে যাদের সংসারে ফিরেছে সচ্ছলতা

  আব্বাস আলী ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রুলিবালায় নকশা করে যাদের সংসারে ফিরেছে সচ্ছলতা
রুলিবালায় নকশা তুলছিলেন রনসিঙ্গার গ্রামের গৃহবধূ সুচরিতা। ছবি: যুগান্তর

হাতুড়ি, ছোট ছোট সেনি দিয়ে পিতলের রুলিবালায় নকশা তুলছিলেন রনসিঙ্গার গ্রামের গৃহবধূ সুচরিতা। রুলিবালা অর্থাৎ চুড়িতে নকশা তুলে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন তিনি।

বছর তিনেক আগে তার সংসারের অবস্থা এমন ছিল না। সাংসারিক কাজ করে অবসর সময়টুকু তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্প করে কাটিয়ে দিতেন।

এ প্রসঙ্গে সুচরিতা বলেন, সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে সকাল-সন্ধ্যা পিতলের রুলিবালায় নানা ধরনের কারুকার্য তুলি। অনেক ব্যস্ত সময় কাটাই। প্রতিদিন পাঁচ জোড়া রুলিবালায় নকশা করে ২০০ টাকা মজুরি পাই।

এই আয় থেকে বছর দুয়েক থেকে মাসে ২ হাজার টাকার মুদারাবা মাসিক কিস্তি (ডিপিএস) খুলেছি। মেয়ে সুমাইয়া গ্রামের স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। স্বামী এনামুল সরদার ‘স’ মিলে কাজ করেন। আমাদের দু’জনের উপার্জনে সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে।

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার সদরে রনসিঙ্গার গ্রাম। এ গ্রামের বাজারে সাবেক সেনাসদস্য এমদাদুল হক গড়ে তুলেছেন রুলিবালার কারখানা। রুলিবালার কারণে গ্রামটি এখন কারিগর গ্রাম নামে পরিচিত।

এ গ্রামের প্রায় ১৫০ নারী রুলিবালার কাজ করছেন। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাজ করেন তারা। এ ছাড়া উপজেলার খট্টেশ্বর, পশ্চিম বালুভরা, রানীনগরবাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে আরও প্রায় শতাধিক নারীরা রুলিবালার নকশা তোলার কাজ করেন।

রনসিঙ্গার গ্রামের আরেক গৃহবধূ হাসনাহেনা বলেন, রুলিবালার ওপর নকশা করতে গ্রামেই ২০ দিনের প্রশিক্ষণ নিই। গত চার বছর ধরে এ কাজ করছি। এখানকার প্রতিটি বাড়ির মেয়েরা রুলিবালায় নকশা করেন।

এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫০-২০০ টাকা পারিশ্রমিক থাকে। এখন বাচ্চাদের নিয়ে একটু ভালোভাবে খেয়ে পরে দিন কাটাতে পারছি।

রানীনগর উপজেলার রুলিবালা কারখানার মালিক এমদাদুল হকের মতে, সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর নাটোর, সৈয়দপুর ও পার্বতীপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলায় প্রায় ছয় মাস রুলিবালা তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ নেন।

২০১৪ সালে স্ত্রী রুমাকে তিনি রুলিবালার কাজ শেখান। এরপর বাড়িতে ১০ জন নারী শ্রমিক নিয়ে কারখানায় কাজ শুরু করেন। এখন উপজেলায় প্রায় ৩৫০ জন নারী কারিগর রুলিবালার সঙ্গে সম্পৃক্ত। কারখানায় কাজ করে ১৮৫ জন নারী শ্রমিক। কাজের মান ভেদে নারী শ্রমিকদের ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা বেতন দেয়া হয়।

এ ছাড়া প্রতি জোড়া ভেদে ৭০-৮০ টাকা করেও মজুরি দেয়া হয়। রুলিবালা বাজারে বিক্রি করা হয় রং ছাড়া ১৫০-১৬০ টাকা এবং রংসহ বিক্রি হয় ২৫০-৩০০ টাকা জোড়া।

এসব রুলিবালা ঢাকার তাঁতিবাজার, সিলেট, বগুড়া, নাটোর ও নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া কুরিয়া সার্ভিসের মাধ্যমে অনেকে অর্ডার করে থাকেন। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে তা পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×