গার্মেন্টকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রীতা ভৌমিক

সম্প্রতি রাজধানীর হোটেল লেকশোর-এ বেসরকারি সংস্থা এসএনভি আয়োজিত ‘ইমপ্রুভ ওয়ার্কিং কন্ডিশান : মেন্টাল হেলথ মেটারস’ শীর্ষক সেমিনারে গার্মেন্টকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কতটা জরুরি, গার্মেন্টের ওয়েলফেয়ার কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা ইত্যাদি বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম অন ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন-এর প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল হোসেন বলেন, গার্মেন্ট সেক্টরে গার্মেন্টকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটা উন্নত হলেও এখানে আরও কাজ করার অবকাশ রয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতা এ অগ্রগতিতে বাধা হিসেবে কাজ করছে।

এসএনভি’র আরএমজি টিম লিডার ফারাহথিবা রাহাত খান এর মতে, গার্মেন্টকর্মীদের ওয়েলডিং-এর বিষয়টি এলেই স্বাস্থ্য ইস্যু চলে আসে। কিন্তু গার্মেন্টকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কেউ কথা বলেন না।

কারণ একজন গার্মেন্টকর্মীর শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। মানসিক সমস্যা দেখা যায় না। তাই বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কাজের ক্ষেত্রে একজন গার্মেন্টকর্মী মানসিকভাবে সুস্থ কিনা। গার্মেন্টকর্মীদের কাজের চাপ, পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে মানসিক বিষণ্ণতায় ছেয়ে যায়। এক্ষেত্রে একজন গার্মেন্টকর্মীর মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মান খুবই খারাপ পর্যায়ে রয়েছে।

তা কাজের ক্ষেত্রেই হোক আর জীবনের ক্ষেত্রেই হোক না কেন? এ সমস্যা নিরসনে এসএনভি একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গার্মেন্টে ওয়েলফেয়ার পরামর্শদাতা যারা আছেন অর্থাৎ ওয়েলফেয়ার ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং কমপ্লায়েন্স ম্যানেজারদের এ বিষয়ে ইউসেপের সহযোগিতায় তের দিনের একটি কোর্স করানো হবে।

ওয়েলফেয়ার কর্মকর্তারা এ প্রশিক্ষণ, কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে জানতে পারবেন একজন গার্মেন্টকর্মীর মানসিক স্বাস্থ্য কতটা জরুরি তার কাজের ক্ষেত্রে, জীবনের ক্ষেত্রে। এর ফলে তারা গার্মেন্টে যে কোনো কর্মীর সমস্যা হলে বা কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে তা সুন্দরভাবে সামলাতে পারবেন। কীভাবে একজন কর্মী কাজের ওপর অভিযোগ করতে হবে।

কারণ তারা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানতে পারছেন কর্মীদের এ ইস্যুগুলো কীভাবে চালানো সম্ভব। এর ফলে গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ লাভবান হবে।

এসএনভি’র ইনক্লুসিভ বিজনেস অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ জামালউদ্দীনের মতে, শুধু ওয়েলফেয়ার কর্মকর্তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না। যারা সরাসরি গার্মেন্টকর্মীদের তত্ত্বাবধান করে তাদেরও এ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এর সঙ্গে গার্মেন্টকর্মীদের সচেতনতার দরকার যাতে তারা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বুঝতে পারেন। এ

সমস্যা সমাধানের জন্য এ-ও জানা দরকার, গার্মেন্টকর্মীরা কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। কাউন্সিলিংয়ের জন্য তারা কাদের কাছে যাবেন। বড় ধরনের সমস্যা হলে তারা কীভাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। এক্ষেত্রে বায়ার এবং গার্মেন্টের প্রতিনিধিদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন শ্রম অধিদফতরের পরিচালক এসএম এনামুল হক, লায়লা গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার বদিউজ্জামান, সাউথ এশিয়া অশান ইন্টারন্যাশনালের কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার, বাংলাদেশ ন্যাশনাল গার্মেন্ট ওয়ার্কাস এমপ্লয়ীজ লীগের সিরাজুল ইসলাম রনি প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সমকালের জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক আবু হেনা মুহিব।