ভালো কাজের মূল্যায়ন হবেই

উরসুলা ভন ডার লিয়েন

  সাব্বিন হাসান ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উরসুলা নামেই বিশ্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার তুঙ্গে। পুরো নাম উরসুলা ভন ডার লিয়েন। জন্ম ৮ অক্টোবর, ১৯৫৮। রাজনীতিবিদ হিসেবেই তিনি সর্বাধিক সমাদৃত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইতিহাসে উরসুলাই প্রথম নারী হিসেবে ইউরোপীয় কমিশনের নতুন প্রেসিডেন্ট মনোনীত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। সপ্তাহব্যাপী ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ পদ ইউরোপীয় কমিশনের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যে ব্যাপক দর-কষাকষি চলে। চূড়ান্ত পর্বে প্রস্তাবিত প্রার্থীদের বাদ দিয়ে একেবারে নতুন প্রার্থী হিসেবে উরসুলা ভন ডার লিয়েনের নাম উঠে আসে। রচিত হয় ইইউ’র নতুন ইতিহাস।

তিনি নিদারসাক্সেন রাজ্যের পরিবারবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মূল পেশায় চিকিৎসক। সাত সন্তানের মা। চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চতর শিক্ষা ছাড়াও লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিকস থেকে রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।

ইউরোপীয় কমিশনের দুই মেয়াদের প্রেসিডেন্ট জোঁ ক্লদে ইউঙ্কার অবসরে যাচ্ছেন। সেই কারণে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রশ্ন সামনে আসে। অবশেষে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সভায় ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট পদসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও কিছু উচ্চ পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়।

ইউরোপীয় কমিশনের পরবর্তী প্রধান হিসেবে জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা ভন ডার লিয়েনকে মনোনীত করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। টানা সম্মেলন শেষে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী উরসুলাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলেছে, এখন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন পেলে তিনিই হবেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে উরসুলাকে ৫৭১ সদস্যের ইইউ পার্লামেন্টের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন পেতে হবে। তাহলেই কমিশনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোঁ ক্লদের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। সব ঠিক থাকলে আগামী ৩১ অক্টোবর নিজের পদ ছাড়বেন জোঁ ক্লদে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পর ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনের আগেই আমরা পুরো প্যাকেজের বিষয়ে একমত হয়েছি। শীর্ষ পদের মনোনয়নের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমতা রাখা হয়েছে। উরসুল লিয়েনের মনোনয়ন নিশ্চিত হলেও জোট গঠন ইস্যুতে তাকে সমর্থন দেয়া থেকে জার্মানি বিরত থাকে। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তাকে সমর্থন করেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল।

জার্মানির ক্ষমতাসীন জোট সরকারের বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের খুব কাছের মানুষ বলেই সবার কাছে পরিচিত। ৬০ বছর বয়সী এই রাজনীতিক ২০১০ সাল থেকে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট দলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তিনটি প্রধান প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত। এগুলো হল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বা পার্লামেন্টের সদস্যরা মূলত জোটের দেশগুলোর জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জোটের বিভিন্ন বিষয়ে আইনপ্রণেতা হিসেবে কাজ করে। জোটের বাজেটের বিষয়েও ইইউ পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে হয়।

ইউরোপীয় কমিশন জোটের প্রশাসনিক বিষয় এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল সদস্য রাষ্ট্রের সরকারগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটি। ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরাই তাদের ইচ্ছামতো ভোট দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টসহ অন্য মনোনীত প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে থাকেন।

উরসুলা ভন ডার লিয়েন এর বাবা ছিলেন জামার্নির সরকারি কর্মকর্তা। সে সুবাদে বাবা রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। বলতে গেলে রাজনৈতিক আবহেই বেড়ে উঠেন উরসুলা। ধীরে ধীরে নিজেও রাজনৈতিক অঙ্গনে জড়িয়ে পড়েন। তার রক্তেই রাজনীতি কাজ করত। এসব কারণে প্রাণনাশের ভয়ে লন্ডনে তাকে ছদ্মনামেও দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। তবুও রাজনীতি থেকে বিচ্যুত হননি তিনি। বরং দ্বিগুণ শক্তিতে নিজেকে জানান দিলে বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাবান নারী অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের নজরে আসেন। একমাত্র উরসুলাই একজন মন্ত্রী যিনি অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সব মেয়াদেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। অত্যন্ত বিচক্ষণ এবং দূরদর্শী একজন নেতা তিনি। সাধারণ মানুষের কাছে তুমুল জনপ্রিয়। এক কথায় জনবান্ধব নেতা।

ব্যক্তি দর্শনের কারণে নিজের দলের মুখোমুখি দাঁড়াতেও পিছপা হন না। দৃঢ়চিত্তে সামলে নেন যে কোনো কূটনৈতিক পরিস্থিতি। নিজের দেশকে বিভিন্ন যুদ্ধের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করেন। বলতে গেলে সম্মুখ অবস্থানে থেকে নিজের দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা করে থাকেন।

সব সময়ই হাসিমুখে দেখা যায় তাকে। জীবনকে একটা লড়াই মনে করেন। জেনে-বুঝে ভালো কাজ করলে তার মূল্যায়ন হয় বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। জীবন নিয়ে মোটেও উচ্চাভিলাষী নন। তবে নিজের যোগ্যতা বাড়ানোর দিকে সব সময়ই মনোযোগী হতে বলেন। নিজের মেধাকে সর্বোত্তম জায়গায় উপস্থাপন করতে হবে। তাহলেই সমাজ, রাষ্ট্র, বিশ্ব এমনকি নিজেও উপকৃত হওয়া যায়। কাজ দিয়েই মানুষের মূল্যায়ন হয়।

ভালো কাজ করলে ইতিহাসের পাতায় তা থেকে যাবে। নারী নেতৃত্বকে দারুণ উৎসাহ দেন। বিশ্বে আরও বেশি নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বে আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন। নারী পারে না এমন কোনো কাজ নেই- এমনটাই ভাবতে ভালোবাসেন তিনি। আজীবন মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাবেন। এমনটাই ভাবেন এ সময়ের বিশ্ব নারী নেতৃত্বের অনন্য প্রতীক উরসুলা লিয়েন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×