একটু সচেতন হলেই শিশুর এইচআইভি সংক্রমণের হার কমাতে পারি

এইচআইভি আক্রান্ত মা থেকে শিশুর এইচআইভি জীবাণু সংক্রমণের হার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে এবং সন্তান প্রসবের সময়। মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণের হার ৭ থেকে ১০ শতাংশ । গর্ভকালীন সময়ে একটু সচেতন হলে ও সঠিক চিকিৎসা সেবার আওতায় থাকলে শিশুর এইচআইভি জীবাণু সংক্রমণের হারের ঝুঁকিটা কমবে। লিখেছেন-

  রীতা ভৌমিক ২২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঘরের মেঝেতে খেলা করছিল দু’বছরের হিমু (আসল নাম নয়)। কিছুদিন আগে ওর রক্তে এইচআইভির জীবাণু ধরা পড়েছে। ওর মা অনন্যার রক্তেও (আসল নাম নয়) এইচআইভির জীবাণু ধরা পড়েছে। এইচআইভি জীবাণু ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মা-ছেলে দুজনেই সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিএমটিসিটি সেবার আওতায় চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে।

বছর ন’য়েক আগে সৌদি আরবে অবস্থানরত অভিবাসী কর্মী জুনেদ আহম্মেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বিয়ে হয় সিলেটের বীরদল মাঝপাড়া গ্রামের মেয়ে অনন্যার। বিয়ের বছর তিনেক পর তার স্বামী দু’মাসের ছুটিতে দেশে আসে। ছুটি ফুরোতেই আবার ফিরে যায় সৌদি আরব। সেখানে যাওয়ার মাস দুয়েকের মধ্যে অনন্যার সঙ্গে তার মতানৈক্য দেখা দেয়। এক পর্যায়ে অনন্যাকে তালাক দেয়।

তালাকপ্রাপ্ত অনন্যা ফিরে আসেন বাপের বাড়ি। পাঁচ বছর কেটে যায়। ২০১৫ সালে তার বাবা মেয়েকে দ্বিতীয়বার বিয়ে দেয় সৌদি আরবে অবস্থানরত আরেক অভিবাসী কর্মী বিপত্নীক লোকমান হোসেনের সঙ্গে। তিন মেয়ে এক ছেলে রেখে তার প্রথম স্ত্রী মারা গেছে। বিয়ের পর লোকমান সৌদি আরব থেকে দেশে এসে চালের ব্যবসা শুরু করে। বছরখানেক পর অনন্যার কোল আলো করে আসে ছেলে। ছেলের বয়স এক বছর, এমন সময় অনন্যার স্বামী লোকমান হোসেন মারা যায়। স্বামী লোকমান হোসেন কী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে সে সম্পর্কে কিছুই জানেন না অনন্যা। শ্বশুরবাড়িতে জায়গা হয় না তার। এক বছরের ছেলেকে নিয়ে ফিরে আসেন বাবার বাড়িতে।

এ প্রসঙ্গে অনন্যা বলেন, আড়াই বছর আগে বাবাও আমাদের ছেড়ে চলে যান। মা, অবিবাহিত দুই ভাই এবং এক বোনকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। ইউনিসেফের সহায়তায় অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ)-এর অভিবাসন ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইনের আওতায় আমার এইচআইভি পরীক্ষার জন্য কাউন্সিলিং করেন রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পিয়ার এডুকেটর। এরই ভিত্তিতে রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এইচআইভি পরীক্ষা করাই। রক্ত পরীক্ষায় এইচআইভি রি-অ্যাকটিভ দেখা যায়। এরপর আমাকে নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। নিশ্চিতকরণ পরীক্ষায় আমার এইচআইভি জীবাণু ধরা পড়ে। আমার ছেলের রক্তেও এইচআইভি জীবাণু ধরা পড়ে। এইচআইভি জীবাণু ধরা পড়ার পর ওকাপের পক্ষ থেকে আমাকে কাউন্সিলিং করা হয়। আমাকে আর আমার ছেলেকে এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজে পিএমটিসিটি সেবার আওতায় এআরভি নেয়ার জন্য নেয়া হয়। মা-ছেলে এখানে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছি। আমার স্বামী তার শরীরে এইচআইভি জীবাণু বহন করছে এটা আমার কাছে লুকিয়েছে। আমার জীবনের পাশাপাশি আমার সন্তানের জীবনটাও নষ্ট করে দিয়েছে। সমাজে আমার সন্তান কোনোদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। এই কষ্টটা বুকের ভেতর রয়েই যাবে আমার।

মিমি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। উচ্ছল, প্রাণবন্ত একটি মেয়ে। ইউনিফর্ম পরে, মাথায় দু’বেণি করে, কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে গ্রামের মেঠোপথ ধরে স্কুলে যায়। ওর সঙ্গে সহপাঠীরা বরই, আম, কদবেল ভাগ করে খায়। খেলাধুলা করে। একই বেঞ্চে বন্ধুরা কয়েকজন বসে। একদিন স্কুলের জন্য তৈরি হতে হতে মা-বাবার কথপোকথন শুনতে পায় ও। মা বাবাকে বলছিলেন, ‘রোগ হোক আর যাই হোক আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না। দুইট্যা বাচ্চার কী গতি হবে আমি চলে গেলে? মানুষের জীবনে সোয়ামি একজনই হয়।’

বিদেশে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ওর বাবার এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়ে। ওর বাবার এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়লেও মা তাদের ছেড়ে যায়নি। একদিন মিমির স্কুলে যাওয়া হল না। বাবা-মা, বড় ভাই আর মিমিকে শহরে একটি বেসরকারি সংস্থায় রক্ত পরীক্ষা করাতে নিয়ে আসেন। বড় ভাইয়ের রক্তে এইচআইভি জীবাণু না থাকলেও মিমির রক্তে এইচআইভি জীবাণুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ছোট্ট মিমি জানে না, এইচআইভি জীবাণু কী! তবে বাবা-মায়ের মুখ বিষণ্ণতায় ছেয়ে যায়। তাদের দেখে আন্দাজ করতে পারে ওর বড় ধরনের কোনো অসুখ করেছে। আস্তে আস্তে ওর অসুখের কথা স্কুলের শিক্ষক, সহপাঠীদের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায়। বন্ধুরা একে একে ওর থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। কথাবার্তা হলেও ওকে নিয়ে বন্ধুদের সেই উচ্ছ্বাস নেই। বন্ধুরা ওর সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে না। খাবার ভাগ করে খায় না। খেলাধুলা করে না। একটু একটু করে ওর আর বন্ধুদের মাঝে তৈরি হয়ে গেছে এক অদৃশ্য দেয়াল। স্কুলে ওকে বসতে হতো পেছনের বেঞ্চে। স্কুলের শিক্ষক, সহপাঠীদের কাছ থেকে যাতে ও স্বাভাবিক আচরণ পায় এজন্য আশার আলো সোসাইটির কয়েকজন সদস্য স্কুলে এসে সচেতনতামূলক সভা করতেন। এর ফলে শিক্ষকরা তার অতিরিক্ত খোঁজ-খবর নিয়ে মনে করিয়ে দিত তার রোগের কথা।

বিদেশে থাকাবস্থায় ওর বাবা তার রোজগারের সব টাকাই দেশে পাঠাতেন। সেই টাকায় অনেক সম্পত্তি কেনা হয়। যৌথ পরিবার। বাবা দেশে আসার পর সম্পত্তি চাচা-ফুপুদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করা হল। বাবা ভাগে সামান্যই পেলেন। সংসারের খরচ, সেই সঙ্গে বাবার চিকিৎসার খরচ। সব মিলিয়ে আর্থিক দৈন্যতা ধীরে ধীরে স্পর্শ করতে থাকে সংসারে। কিছুদিনের মধ্যেই বাবা চলে যান না ফেরার দেশে। সংসারের হাল ধরতে মিমির বড় ভাই কৈশোরেই নৌপারাপারের কাজ নেয়। আর মাকে সঙ্গে নিয়ে ছোট্ট মিমি বেসরকারি সংস্থা আশার আলো সোসাইটি অফিসে আসে নিয়মিত এআরভি ওষুধ নিতে।

এ প্রসঙ্গে মিমি বলেন, আমার বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এইচআইভি সম্পর্কে জানার পরিধিও বাড়তে থাকে। একটা সময় মা আর বড় ভাই সিদ্ধান্ত নেয় আমার বিয়ে দিবে। আশার আলো সোসাইটির মাধ্যমে পারিবারিক সম্মতিতে এইচআইভি আক্রান্ত পাত্রের সঙ্গে আমার বিয়ে হল। মাদরাসায় লেখাপড়া শেষ করে ও বিদেশ যায় চাকরি করতে। পাঁচ বছর পর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য মেডিকেল চেকআপ করাতেই রক্তে এইচআইভি জীবাণু ধরা পড়ে। বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয় তাকে। দেশে ফিরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আশার আলো সোসাইটিতে চিকিৎসা সেবা নেয়। এখান থেকেই নিয়মিত এআরভি নেয় ও। বিয়ের কিছুদিন পরই বুঝতে পারি আমি গর্ভবতী। আমাদের ঘরে নতুন অতিথি আসছে। মনের ভেতর আশঙ্কা দেখা দেয়। আমাদের সন্তান যাতে এইচআইভিতে আক্রান্ত না হয় এজন্য আমরা দুজনে পরামর্শ করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই। সেখানে জানতে পারি, ইউনিসেফের সহযোগিতায় মা হতে শিশুর শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ কার্যক্রম চালু হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় নিয়মিত সেবা নিই। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভকালীন সময়ে সব নিয়ম মেনে চলি। ওষুধ সেবন করি। সন্তান প্রসবের জন্য ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে হাসপাতালে ভর্তি হই। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেছিলেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন।’ দু’দিন পর প্রসব ব্যথা ওঠে। নার্স আমাকে লেবাররুমে নিয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে আমার ছেলে সন্তান প্রসব হয়। আমার শরীর থেকে ছেলের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ হয়েছে কিনা তা জানার জন্য হাসপাতালে ছেলের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। ওর শরীরে এইচআইভির জীবাণু পাওয়া যায়নি। কাউন্সিলর আপার মুখে এই সংবাদটা পাওয়ার পর মুখ থেকে আমার একটি শব্দও বের হয় না। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। এ আনন্দাশ্রু। যেন ঈশ্বর আমাকে নতুন একটা জীবন দিল।

জাতীয় এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের ২০১৮-এর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্যমতে, ০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ১২৯জন শিশু এইচআইভি জীবাণু বহন করছে।

এইচআইভি জীবাণু শিশুর শরীরে কীভাবে ছড়ায় এ সম্পর্কে খুলনা ফিল্ড অফিসের জোনাল নিউট্রিশন অফিসার শাহনাজ বেগম জানান, মা থেকে শিশুতে এইচআইভি জীবাণু ছড়ায় তিনটি পর্যায়ে। এইচআইভি আক্রান্ত মায়ের গর্ভকালীন, প্রসবকালীন এবং সন্তান প্রসব হওয়ার পর বুকের দুধ পান করার মাধ্যমে। সব এইচআইভি পজিটিভ মায়ের সন্তানই এইচআইভি পজিটিভ হয় না। এক তৃতীয়াংশ শিশুর এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা সেবা নিলে এক তৃতীয়াংশ শিশুরও এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের ঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি হচ্ছে গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায় থেকে সন্তান প্রসব পর্যন্ত ( ২০ শতাংশ)। এসময় ঝুঁকি বেশি কেননা প্রসবের সময় শিশু কোনোভাবে মায়ের রক্ত গিলে ফেললে বা শিশুর ত্বকের কোথাও যদি আঁচড় লাগে বা ছিঁড়ে গিয়ে মায়ের রক্ত তার শরীরে ঢুকলে। মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে ৭ থেকে ১০ শতাংশ শিশুর এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

শাহনাজ বেগম আরও বলেন, গর্ভবতী মায়েরা সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিতে এলে এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। ইউনিসেফের সহযোগিতায় সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সিলেট মেডিকেল কলেজ, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, খুলনা মেডিকেল কলেজে গর্ভবতী মায়েদের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। যাদের এইচআইভি জীবাণু ধরা পড়ে নিরাপদ প্রসবের জন্য তাদের এন্টি- রেকট্টো ভাইরাল থেরাপি দেয়া হয়। এইচআইভি প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো দেয়া হয়। মায়ের গর্ভে যে পর্যন্ত শিশু থাকে সে পর্যন্ত শিশু নিরাপদ থাকে। জন্মের পর শিশুকে ছয় থেকে বার সপ্তাহ এন্ট্রি রেকট্টো ভাইরাল ওষুধ খাওয়াতে হয়। তিনবার শিশুকে এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। দু’মাস বয়সে, বুকের দুধ বন্ধ(এক বছর পর্যন্ত) করার দেড় মাস পরে, এরপর আঠারো মাসে পরীক্ষা করা হয়। প্রথম এবং দ্বিতীয়বার শিশুর এইচআইভি পরীক্ষায় এইচআইভি জীবাণু পাওয়া না গেলেও তৃতীয়বার আঠারো মাস বয়সে এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। নবজাতককে মা বুকের দুধ পান করাবে কি করাবে না তা মায়ের ওপর নির্ভর করে। ২০১৩ থেকে ২০১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মা থেকে সন্তানের মধ্যে মাত্র ২ জন শিশুর এইচআইভি জীবাণু সংক্রমণ হয়েছে। গর্ভকালীন অবস্থায় মাকে এন্টি রেকট্টো ভাইরাল থেরাপির আওতায় আনা হলে এবং নবজাতককে দেড় মাস বয়স পর্যন্ত এন্ট্রি রেকট্টো ভাইরাল প্রতিষেধক দিলে মা থেকে শিশুর এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

ইউনিসেফের এইচআইভি/এইডস বিশেষজ্ঞ যিয়া উদ্দীনের মতে, শিশুর এইচআইভি সংক্রমণের হার কমাতে গর্ভবতী মাকে প্রথম এইচআইভি শনাক্ত করতে হবে। হাসপাতালে সন্তান প্রসব করাতে হবে। জাতীয় এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ৬টি হাসপাতালে প্রিভেনশন অফ মাদার টু চাইল্ড প্রোগ্রাম শুরু করা হয়। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে মা হতে শিশুর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ রোধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক মো. শামসুল ইসলাম প্রিভেনশন অফ মাদার টু চাইল্ড প্রোগ্রাম সম্পর্কে বললেন, পিএমটিসি প্রোগ্রামের আওতায় যারা এসেছেন, এইচআইভি পরীক্ষায় নারী-শিশু যারা শনাক্ত হয়েছে তাদের তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। এই প্রোগ্রামের আওতায় ১০৯জন মায়ের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এইচআইভি শনাক্ত মায়েদের ১০৭জন শিশু এইচআইভি সংক্রমিত হয়নি। দেরিতে চিকিৎসা সেবার আওতায় আসায় ২জন শিশু এইচআইভি সংক্রমিত হয়েছে। এ তথ্যমতে, বাংলাদেশে শতকরা ২ শতাংশের নিচে শিশু এইচআইভি সংক্রমিত হয়েছে। যারা এই প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তাদের মধ্যে এইচআইভি নারী-শিশু রয়েছে কিনা তাদের তথ্য আমাদের কাছে নেই। সবাইকে এইচআইভি পরীক্ষার আওতায় আনতে পারলে এর সংক্রমণের হার অনেক কমে যেত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাইফউল্লাহ মুন্সী বললেন, এইচআইভি আক্রান্ত মায়ের থেকে গর্ভকালীন অথবা দুগ্ধপানের মাধ্যমে শিশু এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে পারে। ১০০ এইচআইভি আক্রান্ত মা গর্ভকালীন এন্ট্রি রেকট্টো ভাইরাল থেরাপি ওষুধ সেবন না করলে তার থেকে সন্তানের এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। গর্ভকালীন এইচআইভি আক্রান্ত মা এই ওষুধ সেবন করলে এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৫ শতাংশের নিচে। এছাড়া সিরিঞ্জের মাধ্যমে যে পথশিশুরা শিরায় মাদক নেয় তাদের মধ্যেও এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×