প্রবাসে ঈদ আনন্দ

লেখাপড়া অথবা কর্মজীবনের কারণে অনেকেই প্রবাসে বসবাস করেন। এবারের ঈদুল আজহা তারা কীভাবে উদযাপন করবেন লিখেছেন-

  সাব্বিন হাসান ০৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদ আনন্দ

গরিবদের মাংস বিলানোর সুখ নেই প্রবাসে : মেহবুবা সুলতানা নিসা

প্যারিস শহরে থাকছেন নিসা। প্রতি মাসেই এখানে মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছে। সে সঙ্গে বাড়ছে বাঙালি। বিদেশে ঈদুল আজহা আর বাংলাদেশের ঈদুল আজহা এক নয়। এখানে ঈদুল আজহা মানে কয়েকদিন আগে কোরবানির টাকা একটা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দিয়ে আসতে হয়। কোরবানির পরদিন কখনও কখনও দুদিন পরে কোরবানির মাংস বাসায় আসে।

তখন এক বাঙালি আরেক বাঙালির বাসায় মাংস বিলি করে। কয়েকদিন পর সব প্রবাসী বাঙালিরা কোথাও পরিকল্পনা করে মিলিত হয়। সে এক ভিন্ন আনন্দ। তাই প্যারিসে ঈদের অনুভূতি বলতে মসজিদে একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়া। আমাদের দেশে মেয়েদের ঈদের নামাজ পড়ার রেওয়াজ খুব কম। কিন্তু এখানে এটা খুবই স্বাভাবিক। ঈদ এলেই দেশকে মিস করি। দেশে কোরবানির পশু কেনার পর তাকে চোখের সামনে দেখার অনুভূতিটাই অন্যরকম। পাড়ার ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়েরা নিজেদের গরু কেমন, কার খাসির রং কত সুন্দর- এসব নিয়ে মাতিয়ে রাখত। এখানে এসবের সুযোগ নেই। এখানে একে-অন্যকে উপহারের মাধ্যমে ঈদি দিয়েই কিছুটা আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া হয়। দেশে মাংস আনা হলে ভাইবোন সবাই মিলে মাংস কাটা, বাবা কখনও রান্না না করলেও ঈদের মাংস রান্না বাবাই করেন। তখন বাবাকে রান্নায় সাহায্য করা এসব আর হয় না। মা-বাবা আর ভাইবোন একসঙ্গে কোরবানির মাংস খাওয়ার অনুভূতির কোনো তুলনাই হয় না।

ঈদের আগে রাত জেগে হাতে মেহেদি দেয়ার কথা মনে পড়লে মনটা শূন্যতায় ভরে যায়। ঈদের দিন গরিবদের মাংস বিলানোর সুখ নেই প্রবাসে। বিদেশে আধুনিক জীবন আছে, প্রাচুর্য আছে। কিন্তু দেশের মতো ঈদের আনন্দ উপভোগ করা অসম্ভব। আশা রাখি ভালো থাকুক প্রিয় স্বদেশ। সবার ঈদ হোক আনন্দময়।

খুব কম মানুষই এখানে কোরবানি দেয় : ওয়াসি বিনতে ওহাব অন্বেষা

উচ্চশিক্ষা আর সংসারের তাগিদে বর্তমানে জার্মানিতে আছেন অন্বেষা। ইউনিভার্সিটি অব স্টার্টগার্ট-এ পড়ছেন ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় নিয়ে। ২০১৭ সালে পাড়ি জমিয়েছেন জার্মানিতে। স্বামীও পড়েছেন একই বিষয়ে। স্বামীর বিদেশ যাওয়ার এক বছর পর বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন।

নিজের প্রবাসজীবন নিয়ে অন্বেষা বললেন, দেশে মিলিটারি ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) থেকে বিএসসি শেষ করে এখন জার্মানিতে আছি। প্রবাসজীবন দেশের জীবনের চেয়ে একেবারে আলাদা। বাবা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। তাই দেশের প্রায় সবগুলো ক্যান্টনমেন্টে থাকা হয়েছে।

পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো কখনও ভুলে যাওয়ার মতো নয়। মা-বাবা আর আদুরের বোনকে ছেড়ে এভাবে বিদেশে থাকব তা সত্যিই ভাবিনি। দেশের ছেড়ে আসা শিক্ষকতার জীবনটা খুব মিস করি।

এখানে ঈদ নিয়ে কোনো আয়োজন করতে তেমন কোনো ঝামেলা নেই। সবাই নিজের মতো করে একেকটা রান্না নিয়ে আসে। জীবন এখানে অনেক সহজ-সরল। কাউকে খুশি করতে সামান্য আয়োজন করলেই চলে। আমরা সবাই বুঝি এখানে সবকিছু বাংলাদেশের মতো হবে না। কিন্তু প্রবাসজীবনে নিজেদের মধ্যে যে একটা মিল দেখা যায়, তা বাইরে না এলে সত্যিই বোঝা কঠিন। বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা বছরে দুটো ঈদের অপেক্ষায় থাকে। কারণ ওইদিন মেয়েরা শাড়ি আর ছেলেরা নতুন পাঞ্জাবি পরতে পারবে। কিছুটা সময় সবকিছু ভুলে নিজেদের মতো আনন্দ করতে পারবে।

জার্মানিতে কোরবানি দেয়া বেশ কঠিন। নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে দিলে তার্কিস কিছু কমিউনিটি তাদের হয়ে কোরবানি দিয়ে দেয়। পরে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে মাংস নিয়ে আসতে হয়। তাই খুব কম মানুষই এখানে কোরবানি দেয়। বিদেশে ঈদ উপলক্ষে আলাদা ছুটি থাকে না। বরং ছুটির দিনে ঈদের অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করা হয়। তবুও ঈদের দিনে ছোট করে হলেও চেষ্টা থাকে কিছু একটা আয়োজনের।

প্রবাসে ঈদের দিনে অনেকেরই অফিস আর ক্লাস থাকে। তার মধ্যেই এখানকার সবাই কিছুটা সময় বের করে নেয়। পুরো পরিবার আত্মীয়স্বজন ছাড়া বিদেশে ঈদ করা সত্যিই কষ্টকর। তবে প্রতিবেশী সবার অবস্থা একই থাকে। তাই তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়াটা নেহাত কম নয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×