দিরাইয়ে শেকলে বন্দি রুবীর জীবন

  জিয়াউর রহমান লিটন ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বাবার বাড়িতে শেকলে বন্দি জীবনযাপন করছেন একজন নারী। তিনি জয়পুর গ্রামের বকুল তালুকদারের মেয়ে রুবী তালুকদার। ২০০২ সালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের রতীন্দ্র মজুমদারের ছেলে রঞ্জিত মজুদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন স্বামীর ঘরে থাকলেও গর্ভাবস্থায় বাবার বাড়ি চলে আসেন রুবী। এরপর রুবীর কোলে আসে এক পুত্র সন্তান। তার নাম রনী মজুমদার। সে বর্তমানে দশম শ্রেণির ছাত্র। মামার বাড়ি থেকেই লেখাপড়া করছে। কিন্তু স্বামী, ছেলে, পরিবার-পরিজন সব থাকলেও আজ কেউ নেই রুবীর পাশে। তাকে পাগল বলে লোহার শেকল দিয়ে এক নির্জন ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে লোহার শেকলে বন্দি রুবী তালুকদার বলেন, মরে যাওয়া মানতে পারি, কিন্তু শেকলে বন্দিজীবন আর সহ্য করতে পারছি না, আমার বাবা-মা, ভাই-বোনদের কষ্ট দিতে চাই না, স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে চাই, আমার ছেলের ভবিষ্যৎ সুন্দর হোক আমি চাই, স্বামীর সংসারে আমাকে যেভাবে রাখে, সেভাবেই বাকি জীবন কাটাতে চাই। আপনারা আমাকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করেন।

নিজের অসহায়ত্বের অনেক কথাই বলতে চাইছিলেন রুবী তালুকদার। পরিবারের বড় হিসেবে খুব আদরের মেয়ে ছিল রুবী, মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। কিন্তু শেকলে বন্দি করে রাখায় তার জীবন বিষিয়ে উঠছে। এখন তার আর্তনাদ আর কেউ শুনে না। সুস্থ ও সুন্দরভাবে কথা বললেও পরিবারের সদস্যদের কাছে কোনো গুরুত্ব নেই রুবীর। পাগল বলে তার কথা উপেক্ষা করা হচ্ছে। তবে মেয়ের সুখের জন্য এবং সুস্থতার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন বলে জানান বাবা বকুল তালুকদার। স্থানীয়রা জানান, ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কাজ করার সুবাদে এলাকায় বেশ সুনাম রয়েছে রুবীর। তাকে কেন এভাবে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে আমরা বুঝতে পারছি না।

বাবা বকুল তালুকদার বলেন, মেয়ের সুখের জন্য অনেক চেষ্টা করছি। এমনিতে ভালো কথাই কয়, মাঝে মধ্যে কারো কথা শুনে না, পাগলের মতো আচরণ করে, বাড়ি থেকে একা বের হয়ে যায়। নিজের বিপদের কথা ভাবে না। তার ভালোর জন্য এবং আত্মসম্মানের ভয়ে তাকে এভাবে রাখা হয়েছে। অনেক ডাক্তার দেখানো হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না, এখন কী আর করব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×