চিন্তায় বৈচিত্র্য থাকা জরুরি : জুলি সুইট

  সাব্বিন হাসান ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জুলি নামেই বিশ্ব অর্থনীতিতে সর্বাধিক পরিচিত। পুরো নাম জুলি সুইট। বিশ্বের অন্যতম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেঞ্চারের উত্তর আমেরিকার প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু নতুন করে আলোচনায় এসে অ্যাকসেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হচ্ছেন তিনি। বর্তমান প্রধান নির্বাহী ডেভিড রোল্যান্ডের স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন জুলি।

বর্তমানে অ্যাকসেঞ্চারের বৈশ্বিক কর্মী সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বার্ষিক আয় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে নারী প্রধান নির্বাহী হওয়াকে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিখ্যাত সাময়িকী ফরচুন বলছে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০ প্রতিষ্ঠানের ৯২টি প্রতিষ্ঠানকেই অ্যাকসেঞ্চার পরামর্শ সেবা দিচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের নথিভুক্ত শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নারী প্রধান নির্বাহীর সংখ্যা আগে ছিল ২৬। জুলি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ সংখ্যা একটি বাড়বে। মূলত জুলির নেতৃত্বেই অ্যাকসেঞ্চার বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল রূপান্তরের কাজে সহায়তা করেছে। বিশ্বের ৬০ ভাগ প্রতিষ্ঠানই এখন ডিজিটাল এবং ক্লাউড প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী। এ পরিবর্তনের অন্যতম পরামর্শক অ্যাকসেঞ্চার।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকেই অ্যাকসেঞ্চারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে বসবেন জুলি সুইট।

জুলি সুইটের জন্ম ১৯৬৮ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের টাস্টিন শহরে বেড়ে উঠেছেন তিনি। জীবনের শুরু থেকেই ভাবনার জগতে কিছু একটা আলাদা করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করতেন। তিনি ক্লেয়ারমন্ট ম্যাকিনি কলেজ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরে কলম্বিয়ার ল কলেজ থেকে ল ডিগ্রি করেন। এরপর তিনি ল ফার্মে কর্মজীবন শুরু করেন।

জুলি এখন অ্যাকসেঞ্চার উত্তর আমেরিকার সিইও হিসেবে দায়িত্বরত। অ্যাকসেঞ্চার বৈশ্বিক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য তিনি। ২০১৫ সালে তিনি উত্তর আমেরিকার সিইও হিসেবে দায়িত্ব পান। তার আগে জেনারেল কাউন্সেল, সেক্রেটারি এবং চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি কানাডা-ইউনাইটেড স্টেটস কাউন্সিল ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব উইমেন এন্টারপ্রেনারস অ্যান্ড বিজনেস লিডার্সেও কো-চেয়ার। ২০১৮ সালে তিনি টানা তৃতীয়বার ফরচুন ম্যাগাজিনের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

নিজের কর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকা নেতৃত্ব দেয়ার একটি অনন্য গুণ। একজন কর্মীর অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করার মানসিকতা থাকতে হবে। প্রধান হিসেবে ঝুঁকি নেয়ার ক্ষমতাও প্রয়োজন। গুণ দুটিই অর্জন করেছি ছোট বেলায়। স্কুলের খরচ চালানো আমার মা-বাবার জন্য বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। ফলে সামান্য পেয়েই আমরা সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম।

১৯৮০ সালে যখন চীনে পড়তে যাই তখন তাদের ভাষা, সংস্কৃতি কিছুই জানতাম না। বুঝতাম না। কিন্তু সব বাধাই অতিক্রম করেছি। সে সময় ঝুঁকি নিয়েছি। আজ সেগুলোই আমাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। ঠিক এ কারণেই একজন জেনারেল কাউন্সিল থেকে প্রধান নির্বাহী হতে পেরেছি। তাই কর্মক্ষেত্রে বেশি বেশি ঝুঁকি নিতে চাই। এমন একজন হতে চাই যিনি পার্থক্য তৈরি করে দেবেন। সিইও হিসেবে সে সুযোগ আমার আছে। সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েই আমি কর্মক্ষেত্রে নারীর সমান অবস্থান তৈরি করব।

জুলি অ্যাকসেঞ্চারে নারীদের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটিও বাড়িয়েছেন। এছাড়া সহস্রাব্দের জনশক্তি গড়ে তুলতে একটি উদ্যোগ শুরু করেছেন। কর্মজীবনে বৈচিত্র্য হচ্ছে উদ্দীপনার খোরাক। যারা অ্যাকসেঞ্চারে আসে তারা একটি সমন্বিত দলে অংশীদার হতে চায়। এটাই হচ্ছে সেই পার্থক্য যা আমরা করতে চাই। ২০১৭ সালের মধ্যে বৈশ্বিকভাবে নতুন কর্মীর ৪০ শতাংশ নারী নেব বলেছিলাম। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই আমরা তা পূরণ করেছি। এখন লক্ষ্য শুধু নারী কর্মীতে নেই। আনতে হবে বৈচিত্র্য। প্রথমবারের মতো লক্ষ্য নিয়েছি আফ্রিকান আমেরিকান, হিসপানিক আমেরিকান এবং প্রবীণ নিয়োগ দেব।

জুলি অ্যাকসেঞ্চারে নারী-পুরুষ কর্মীর সংখ্যা সমান করতে চান। এমন লক্ষ্য পূরণে কাজ করছেন। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ পুরুষ আর ৫০ শতাংশ নারী থাকবে অ্যাকসেঞ্চারে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৬ ভাগ নারী কর্মী আছেন।

জুলি মনে করেন, এখন সমসংখ্যক নারী-পুরুষ ব্যবসায়িক অপরিহার্যতার মধ্যেই পড়ে। এছাড়া কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছ থেকে তিনি অ্যাকসেঞ্চারের সব কর্মীকেই বিষয়টির গুরুত্ব বোঝাবেন, কেন প্রতিষ্ঠান এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে কোথায় আছি আর কোথায় যেতে চাই এ ব্যাপারে কর্মীদের কাছে পুরোপুরি স্বচ্ছ থাকতে চাই। সংশয় নিয়ে বড় কাজে সাফল্য আসে না।

আমি বৈশ্বিক পরিবর্তনে আশাবাদী মানুষ। কারণ গত দুই দশকে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক মডেলে পরিবর্তন দৃশ্যমান। নির্বাহীদের চিন্তাতেও এসেছে পরিবর্তন। কর্পোরেট দায়িত্ব হিসেবে একটি লিঙ্গ সমতায়ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিতে চাই। ২০১৭ সালে বড় বড় প্রফেশনাল কনসালটিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অ্যাকসেঞ্চারই প্রথম তার কর্মী বৈচিত্র্যের রিপোর্ট উপস্থাপন করে। জীবনে কঠিন লড়াই করেই সাফল্য অর্জন করেছেন। অনুকূল পরিবেশ না থাকলেও পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতেন। বিশ্বাস করতেন জীবনে পরিবর্তনটাই অনিবার্য সত্য। নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করতে গেলে কেউ তা সহজভাবে নেয় না। কিন্তু সাফল্য এলে তারাই প্রথম শুভেচ্ছা জানাবে। এমন বাস্তবতা মেনেই নিজেকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×