ট্রলার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন জিয়াসমিন

  আরিফ উল ইসলাম ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চিতলিয়া বাজার ঘাটে ট্রলার নিয়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন জিয়াসমিন। অন্য ট্রলার চালকদের মতো নদী পারাপারের জন্য তিনিও হাত উঁচু করে যাত্রীদের ডাকছিলেন। নয় জন যাত্রী নিয়ে তিনি ট্রলার স্টার্ট দেন। ট্রলারের হাল ধরে গন্তব্যে রওনা দেন। ভারী এই ইঞ্জিন চালু করা খুবই কষ্টকর। স্থানীয় যাত্রীরা কখনও কখনও তাকে ট্রলারের ইঞ্জিন স্টার্ট দিয়ে সহযোগিতা করেন।

জিয়াসমিনের স্বামী মারা গেছেন বছর দুয়েক। সহায় সম্পত্তি কিছুই রেখে যাননি, শুধু একটি ট্রলার ছাড়া। দুই মেয়েকে নিয়ে অথই সাগরে পড়েন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জিয়াসমিন বেগম। উপায়ন্তর না দেখে রোজগারের জন্য বেছে নেন ইঞ্জিনচালিত ট্রলার চালানোর কাজ। ডান চোখে একেবারেই দেখতে পান না। বাঁ চোখে সামান্য দেখতে পান। এই অবস্থায় দু’বছর ধরে জীবিকার প্রয়োজনে ট্রলার চালাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে জিয়াসমিন বলেন, তার এই কঠিন সময়ে এগিয়ে আসেনি কেউ। পাননি প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা কোনো ভিজিএফ কার্ড বা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। এরপরও সংসার চালানোর জন্য বেছে নিই এ পেশা।

মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার চরাঞ্চলের আধারা ইউনিয়নের চিতলিয়া বাজার। রজতরেখা নদী এই ইউনিয়নকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। আর একে সেতু বন্ধন করেছে জিয়াসমিন। বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তার স্বামী সবুজ মিয়া ট্রলার চালিয়ে সংসার চালাত। স্বামীর ট্রলার চালানো রোজগারে বেশ ভালোই চলছিল তাদের সংসার। স্বামী মারা যাওয়ায় সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয়। কেউ সাহায্য সহযোগিতাও করেনি। দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে লাবনী (১৪) এবং ছোট মেয়ে নাদিয়া (৯)-এর পড়া প্রায় বন্ধই হয়ে যাচ্ছিল। ট্রলার চালিয়ে রোজগার করায় মেয়েরা আবার লেখাপড়া করছে।

এ প্রসঙ্গে জিয়াসমিন বেগম বলেন, দুই মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে ভালো ঘরে বিয়ে দিতে চাই। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চিতলিয়া বাজার ঘাট ও বকচর ঘাটে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করি। কখনও ৬ জন কখনও ১২ জন যখন যেমন লোক হয় তা নিয়েই রওয়ানা দিই গন্তব্যে। রোদ-বৃষ্টি, প্রচণ্ড শীত কোনটাই থামাতে পারেনি আমার এই পথ চলা।

ট্রলারে যাত্রীরা তার সম্পর্কে বলেন, একজন নারী হয়ে তিনি নদীপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পারাপারের কাজটি করছেন। এই নারীকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করেননি। দুই মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন পার করছেন তিনি।

প্রতিবন্ধী ভাতা না পাওয়া প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য হানিফের মতে, প্রতিবন্ধী ভাতা তালিকায় তার নাম নেই। নতুন তালিকা প্রণয়ন হলে জিয়াসমিনের নাম উঠানোর চেষ্টা করব। সরকারিভাবে যদি তার নামে কোনো সাহায্য আসে আমি দিতে পারব। এছাড়া তাকে সহযোগিতা করার ক্ষমতা আমার নেই।

তবে আধারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুল কবির বলেন, আমি তাকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে এনে কথা বলব। তিনি একজন প্রতিবন্ধী এবং বিধবা নারী। সংসারে রোজগার করার মতো কেউ নেই। দুই মেয়েকে মানুষ করার জন্য সংগ্রাম করছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং আমার পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা প্রদানসহ তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করব।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.