লক্ষ্যে অবিচল থাকলে জয় আসবেই : নাওমি ওসাকা
jugantor
লক্ষ্যে অবিচল থাকলে জয় আসবেই : নাওমি ওসাকা

  সাব্বিন হাসান  

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বে ‘নাওমি’ নামেই তুমুল জনপ্রিয়। পুরো নাম নাওমি ওসাকা। জন্ম ১৯৯৭ সালের ১৬ অক্টোবর। জন্মস্থান জাপানের ওসাকা শহর। নারীদের একক ইউএস ওপেন এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। উইমেনস টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউটিএ) তালিকায় এখন প্রথম স্থানে আছেন। ২০১৯ সালে এ স্থান অর্জন করেন নাওমি।

ছয় ছয়বারের যুক্তরাষ্ট্র ওপেন চ্যাম্পিয়ন সেরেনা উইলিয়ামসের সঙ্গে ফাইনালে নেমেছিলেন জাপানি নাওমি ওসাকা। ২৪তম গ্র্যান্ড স্লামটা যেন ছিল তারই অপেক্ষায়। নাওমি ফাইনালে সেরেনাকে ৬-২, ৬-৪ সেটে হারিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বছরে চারটি সিঙ্গল জয়ের কৃতিত্ব গড়া নাওমি শেষ দুই মৌসুমে জিতেছেন আটটি খেতাব।

নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম আসরে তৃতীয় রাউন্ডে ওঠার পরেই ‘নিউকামার অব দ্য ইয়ার’ খেতাব পান।

২০১৮ সালে মার্চে ইন্ডিয়ান ওয়েলস জিতে প্রথম ডব্লিউটিএ খেতাব পান। একে একে বিশ্বসেরা মারিয়া শারাপোভা, ক্যারোলিনা পিলসকোভা, সিমোনা হালেপের মতো তারকাদের হারিয়ে যাচ্ছিলেন। সবশেষ মিয়ামিতে সেরেনাকে ধরাশায়ী করে গড়েছেন নতুন ইতিহাস।

সুবিশাল মঞ্চে শেষবেলায় সেরেনা উইলিয়ামসকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন। তবে এ অশ্রু গর্বের, আনন্দের। অঝোরে কান্না দিয়েই ইউএস ওপেনের ৫০তম আসরে রানী হিসেবে অভিষিক্ত হন নাওমি। ইতিহাস রচনা করে জাপানের ঘরে উঠে প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি। ইউএস ওপেনের নতুন রানী নাওমি ওসাকা।

বাবা লিওনার্দ স্যান ফ্রান্সিস মূলত হাইতির অধিবাসী। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে যান। লেখাপড়া করেছেন সেখানেই। পড়াশোনা করতে গিয়েই পরিচয় হয় জাপানি ছাত্রী তামাকি ওসাকার সঙ্গে। পরে তারা ভালোবেসে বিয়ে করেন।

নাওমির বয়স তখন সবে তিন বছর। তখনই তারা সপরিবারে জাপান ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রেই নাওমির টেনিস শেখা। নাওমি যখন পেশাদার টেনিসে পা রাখলেন তখন ইচ্ছা করলে যুক্তরাষ্ট্র, হাইতি কিংবা জাপান- এ তিনটি দেশের যে কোনো একটি দেশকে নিজের দেশ বলতে পারতেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিলেন মাতৃভূমি ও জন্মস্থান জাপানের প্রতিনিধিত্বই করবেন।

ঠিকঠাক জাপানি ভাষা বলতে পারেন না। তবে বুঝতে পারেন দিব্যি। জাপানি বলতে না পারায় নাওমির জাপানি হয়ে ওঠায় কোনো বাঁধা আসেনি। নিজেকে জাপানি বলতে গর্ববোধ করেন। নিজেকে হাইতির একজন বলেও পরিচয় দিয়ে থাকেন। আর যুক্তরাষ্ট্র তো তার সবটা জুড়েই রয়েছে।

২০১৩ সালে পেশাদার টেনিস শুরু করার আগে জাপানি টেনিস ফেডারেশনে নিজের নাম যুক্ত করেন। শুধু নিজে নয়, বোন মারি ওসাকাও খেলছেন জাপানের হয়ে। নাওমি ও মারি আবার ডাবলসে জুটি বেঁধে খেলেন। সাসচা বাজিনের কাছে টেনিসের তালিম নেন নাওমি। এই সাসচাই সেরেনাকে আট বছর প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। নাওমি পেশাদার টেনিসের তখন সবে হাতেখড়ি। ততদিনে সেরেনা ১২টি গ্র্যান্ড স্লাম ঘরে তুলেছেন। ঈর্ষণীয় সাফল্য আর শরীরের রঙে মিল থাকায় একেবারে ছোট্টবেলা থেকেই সেরেনাকে গুরু ভেবে বেড়ে উঠেছেন নাওমি। শরীরের কৃষ্ণাঙ্গ বর্ণের জন্য অবশ্য নাওমিকে জাপানে মাঝেমধ্যে একটু বিপাকে ফেলে দেয়। জাপানিরা ‘জাপানি’ বলতে সাদা মানুষজনই বোঝে। সেখানে একজন কৃষ্ণাঙ্গ জাপানি একটু অবাক তো করেই!

এ প্রসঙ্গে নাওমি বলেছেন, জাপানে যখন যাই, লোকেরা একটু দ্বিধায় পড়ে যায়। নাম শুনে তারা আশা করতে পারে না যে, তারা কৃষ্ণাঙ্গ এক মেয়েকে দেখবে।

নাওমি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় সেরেনাকে নিয়ে একটি স্কুল রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন। শৈশবের তারকাকে নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেরেনাকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। ওই মুহূর্তের অনুভূতি বলতে গিয়ে নাওমি বলেন, যখন সেরেনাকে নেটের কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরি তখন নিজেকে আবারও ছোট এক বাচ্চা বলেই মনে হচ্ছিল।

ইতিহাসে প্রথম জাপানি টেনিস তারকা হিসেবে নাওমির গ্র্যান্ড স্লাম জয়ে জাপানিরা দারুণ উচ্ছ্বসিত হয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে নাওমিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ইউএস ওপেন জয় করায় তোমাকে আন্তরিক অভিনন্দন। প্রথম জাপানি খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছে। পুরো জাপানকে শক্তি এবং অনুপ্রেরণা দেয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

২০১৫ সালে ডব্লিউটিএ ফাইনালে উঠেন নাওমি। ‘রাইজিং স্টার ইনভাইটেশনাল’ টুর্নামেন্ট জিতে নেন ক্যারোলিন গার্সিয়াকে হারিয়ে। ওই বছরই অভিষেক হয় গ্র্যান্ড স্লামে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে ওঠেন। ওই বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছান নাওমি। এভাবে ২০১৬-১৭ কাটানোর পর সেরা বছরটা হয় ২০১৮ সালে। এ বছরই দেখা পেয়ে যান প্রথম গ্র্যান্ড স্লামের। নিজের আইডল সেরেনাকে হতাশ করে দিলেন নাওমি।

কন্যা সন্তান অলিম্পিয়ার জন্মের পর প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে সেরেনা কোর্টে নামেন। সর্বকালের সর্বোচ্চ ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রের্কড স্পর্শ করতে পারেননি সেরেনা।

অবিস্মরণীয় এ শিরোপা জয়ে নাওমির অভিব্যক্তি ছিল, ইউএস ওপেনের ফাইনালে সেরেনার বিপক্ষে খেলা সব সময়ই আমার স্বপ্ন ছিল। আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে, তার বিপক্ষে খেলতে পেরেছি।

দারুণ পরিশ্রমী আর সরল মনের মানুষ নাওমি। সতীর্থদের পরাজয়ে প্রায়ই হয়ে পড়েন অশ্রুসিক্ত। এখন ইউএস ওপেনের মৌসুম চলছে। তৃতীয় রাউন্ডে কোকো গফকে হারিয়ে নাওমি বলেন, এখনও কত ছোট্ট সে। আমি চেয়েছিলাম সে মাথা উঁচু করে কোর্ট ছাড়ুক। কষ্ট নিয়ে নয়।

নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা, বিশ্বাসে অটুট থাকা, অবিরাম পরিশ্রম করা আর শুধু বিজয়ী হওয়া নয়, মানুষের মনে ভালোবাসায় জায়গা করে নেয়ার মধ্যেই জীবনের অদম্য সাফল্য লুকায়িত থাকে। এ কথাগুলো বিশ্বাস করেই এবারের ইউএস ওপেনে এগিয়ে চলেছেন তরুণ প্রজন্মের তারকা নাওমি ওসাকা।

লক্ষ্যে অবিচল থাকলে জয় আসবেই : নাওমি ওসাকা

 সাব্বিন হাসান 
০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বে ‘নাওমি’ নামেই তুমুল জনপ্রিয়। পুরো নাম নাওমি ওসাকা। জন্ম ১৯৯৭ সালের ১৬ অক্টোবর। জন্মস্থান জাপানের ওসাকা শহর। নারীদের একক ইউএস ওপেন এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। উইমেনস টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউটিএ) তালিকায় এখন প্রথম স্থানে আছেন। ২০১৯ সালে এ স্থান অর্জন করেন নাওমি।

ছয় ছয়বারের যুক্তরাষ্ট্র ওপেন চ্যাম্পিয়ন সেরেনা উইলিয়ামসের সঙ্গে ফাইনালে নেমেছিলেন জাপানি নাওমি ওসাকা। ২৪তম গ্র্যান্ড স্লামটা যেন ছিল তারই অপেক্ষায়। নাওমি ফাইনালে সেরেনাকে ৬-২, ৬-৪ সেটে হারিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বছরে চারটি সিঙ্গল জয়ের কৃতিত্ব গড়া নাওমি শেষ দুই মৌসুমে জিতেছেন আটটি খেতাব।

নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম আসরে তৃতীয় রাউন্ডে ওঠার পরেই ‘নিউকামার অব দ্য ইয়ার’ খেতাব পান।

২০১৮ সালে মার্চে ইন্ডিয়ান ওয়েলস জিতে প্রথম ডব্লিউটিএ খেতাব পান। একে একে বিশ্বসেরা মারিয়া শারাপোভা, ক্যারোলিনা পিলসকোভা, সিমোনা হালেপের মতো তারকাদের হারিয়ে যাচ্ছিলেন। সবশেষ মিয়ামিতে সেরেনাকে ধরাশায়ী করে গড়েছেন নতুন ইতিহাস।

সুবিশাল মঞ্চে শেষবেলায় সেরেনা উইলিয়ামসকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন। তবে এ অশ্রু গর্বের, আনন্দের। অঝোরে কান্না দিয়েই ইউএস ওপেনের ৫০তম আসরে রানী হিসেবে অভিষিক্ত হন নাওমি। ইতিহাস রচনা করে জাপানের ঘরে উঠে প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি। ইউএস ওপেনের নতুন রানী নাওমি ওসাকা।

বাবা লিওনার্দ স্যান ফ্রান্সিস মূলত হাইতির অধিবাসী। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে যান। লেখাপড়া করেছেন সেখানেই। পড়াশোনা করতে গিয়েই পরিচয় হয় জাপানি ছাত্রী তামাকি ওসাকার সঙ্গে। পরে তারা ভালোবেসে বিয়ে করেন।

নাওমির বয়স তখন সবে তিন বছর। তখনই তারা সপরিবারে জাপান ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রেই নাওমির টেনিস শেখা। নাওমি যখন পেশাদার টেনিসে পা রাখলেন তখন ইচ্ছা করলে যুক্তরাষ্ট্র, হাইতি কিংবা জাপান- এ তিনটি দেশের যে কোনো একটি দেশকে নিজের দেশ বলতে পারতেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিলেন মাতৃভূমি ও জন্মস্থান জাপানের প্রতিনিধিত্বই করবেন।

ঠিকঠাক জাপানি ভাষা বলতে পারেন না। তবে বুঝতে পারেন দিব্যি। জাপানি বলতে না পারায় নাওমির জাপানি হয়ে ওঠায় কোনো বাঁধা আসেনি। নিজেকে জাপানি বলতে গর্ববোধ করেন। নিজেকে হাইতির একজন বলেও পরিচয় দিয়ে থাকেন। আর যুক্তরাষ্ট্র তো তার সবটা জুড়েই রয়েছে।

২০১৩ সালে পেশাদার টেনিস শুরু করার আগে জাপানি টেনিস ফেডারেশনে নিজের নাম যুক্ত করেন। শুধু নিজে নয়, বোন মারি ওসাকাও খেলছেন জাপানের হয়ে। নাওমি ও মারি আবার ডাবলসে জুটি বেঁধে খেলেন। সাসচা বাজিনের কাছে টেনিসের তালিম নেন নাওমি। এই সাসচাই সেরেনাকে আট বছর প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। নাওমি পেশাদার টেনিসের তখন সবে হাতেখড়ি। ততদিনে সেরেনা ১২টি গ্র্যান্ড স্লাম ঘরে তুলেছেন। ঈর্ষণীয় সাফল্য আর শরীরের রঙে মিল থাকায় একেবারে ছোট্টবেলা থেকেই সেরেনাকে গুরু ভেবে বেড়ে উঠেছেন নাওমি। শরীরের কৃষ্ণাঙ্গ বর্ণের জন্য অবশ্য নাওমিকে জাপানে মাঝেমধ্যে একটু বিপাকে ফেলে দেয়। জাপানিরা ‘জাপানি’ বলতে সাদা মানুষজনই বোঝে। সেখানে একজন কৃষ্ণাঙ্গ জাপানি একটু অবাক তো করেই!

এ প্রসঙ্গে নাওমি বলেছেন, জাপানে যখন যাই, লোকেরা একটু দ্বিধায় পড়ে যায়। নাম শুনে তারা আশা করতে পারে না যে, তারা কৃষ্ণাঙ্গ এক মেয়েকে দেখবে।

নাওমি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় সেরেনাকে নিয়ে একটি স্কুল রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন। শৈশবের তারকাকে নিজের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেরেনাকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। ওই মুহূর্তের অনুভূতি বলতে গিয়ে নাওমি বলেন, যখন সেরেনাকে নেটের কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরি তখন নিজেকে আবারও ছোট এক বাচ্চা বলেই মনে হচ্ছিল।

ইতিহাসে প্রথম জাপানি টেনিস তারকা হিসেবে নাওমির গ্র্যান্ড স্লাম জয়ে জাপানিরা দারুণ উচ্ছ্বসিত হয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে নাওমিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ইউএস ওপেন জয় করায় তোমাকে আন্তরিক অভিনন্দন। প্রথম জাপানি খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছে। পুরো জাপানকে শক্তি এবং অনুপ্রেরণা দেয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

২০১৫ সালে ডব্লিউটিএ ফাইনালে উঠেন নাওমি। ‘রাইজিং স্টার ইনভাইটেশনাল’ টুর্নামেন্ট জিতে নেন ক্যারোলিন গার্সিয়াকে হারিয়ে। ওই বছরই অভিষেক হয় গ্র্যান্ড স্লামে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে ওঠেন। ওই বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছান নাওমি। এভাবে ২০১৬-১৭ কাটানোর পর সেরা বছরটা হয় ২০১৮ সালে। এ বছরই দেখা পেয়ে যান প্রথম গ্র্যান্ড স্লামের। নিজের আইডল সেরেনাকে হতাশ করে দিলেন নাওমি।

কন্যা সন্তান অলিম্পিয়ার জন্মের পর প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে সেরেনা কোর্টে নামেন। সর্বকালের সর্বোচ্চ ২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রের্কড স্পর্শ করতে পারেননি সেরেনা।

অবিস্মরণীয় এ শিরোপা জয়ে নাওমির অভিব্যক্তি ছিল, ইউএস ওপেনের ফাইনালে সেরেনার বিপক্ষে খেলা সব সময়ই আমার স্বপ্ন ছিল। আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে, তার বিপক্ষে খেলতে পেরেছি।

দারুণ পরিশ্রমী আর সরল মনের মানুষ নাওমি। সতীর্থদের পরাজয়ে প্রায়ই হয়ে পড়েন অশ্রুসিক্ত। এখন ইউএস ওপেনের মৌসুম চলছে। তৃতীয় রাউন্ডে কোকো গফকে হারিয়ে নাওমি বলেন, এখনও কত ছোট্ট সে। আমি চেয়েছিলাম সে মাথা উঁচু করে কোর্ট ছাড়ুক। কষ্ট নিয়ে নয়।

নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা, বিশ্বাসে অটুট থাকা, অবিরাম পরিশ্রম করা আর শুধু বিজয়ী হওয়া নয়, মানুষের মনে ভালোবাসায় জায়গা করে নেয়ার মধ্যেই জীবনের অদম্য সাফল্য লুকায়িত থাকে। এ কথাগুলো বিশ্বাস করেই এবারের ইউএস ওপেনে এগিয়ে চলেছেন তরুণ প্রজন্মের তারকা নাওমি ওসাকা।