হরিজন পল্লীর আলো

  এএম জুবায়েদ রিপন ২৩ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ার চিনিকল হরিজন পল্লীর অন্ধকার ঘর আলোকিত করেছেন স্বপ্না রানী। বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করছেন। কিন্তু নিজের স্বপ্ন পূরণের কাছে হার মানেননি। কঠোর পরিশ্রম ও মেধাই তাকে এনে দিয়েছে সাফল্য। ২০১৯ সালে পিএসসি পরীক্ষায় স্বপ্না রানী গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হন। প্রথমবারের মতো হরিজন পল্লীর একজন মেয়ে শিক্ষার্থী পিএসসিতে ভালো ফল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। স্বপ্না রানী কুষ্টিয়ার জগতি এলাকার কেএসএম ঢাকা মিনাপাড়া যৌথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

স্বপ্না রানীর বাবা হীরা লাল পেশায় একজন ডোম। সারা দিন লাশের অপেক্ষায় বসে থাকেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। মর্গে লাশ এলে কাটতে হয় তাকে। বাবা-মা দু’ভাইবোনের সঙ্গে চিনিকল হরিজন পল্লীতে বসবাস করেন স্বপ্না রানী।

এ প্রসঙ্গে স্বপ্না রানী বলেন, কুষ্টিয়া চিনিকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলাম আমি। পিএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছি। প্রথম দিকে হরিজন পল্লীর ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ ছিল না। আমাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা স্যারের আন্তরিকতায় হরিজন পল্লীর ছেলেমেয়েরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে স্যার আমাকে এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ করে দেন। আমি শহরের সেরা বিদ্যালয়ে পড়তে চাই। কিন্তু হরিজন পরিবারের মেয়ে শুনলেই কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি নিতে চায় না। তারপরও ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর লিখেও রেজাল্ট লিস্টে আমার রোল ছিল না।

এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, হরিজন পরিবারের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি নেয়া নিষেধ ছিল। আমি এ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখি। হরিজন পরিবারের ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তি নেয়ার বিষয়টি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভায় উপস্থাপন করি। কিন্তু কমিটির অধিকাংশ সদস্য তাদের বিদ্যালয়ে ভর্তি নেয়ার বিরোধিতা করেন। কমিটির সদস্যদের কেউ কেউ বলেন, হরিজন ছেলেমেয়েদের সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীরা একই বেঞ্চে বসতে চাইবে না। অনেক অনুরোধের পর শর্তসাপেক্ষে তাদের ভর্তি নেয়ার অনুমোদন দেয় ম্যানেজিং কমিটি। শর্ত দেয়া হয়, হরিজন শিক্ষার্থীদের আলাদা বেঞ্চে বসতে হবে। সেই শর্ত তুলে আমি শ্রেণিকক্ষে সব শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে বসার ব্যবস্থা করেছি। আমার স্কুলে হরিজন বলে কিছু নেই- এখানে সবাই শিক্ষার্থী।

মা রুমা রানীর অনুপ্রেরণায় হরিজন পল্লীর পরিবেশেও নিজেকে একটু ভিন্নভাবে গড়ে তুলেছেন স্বপ্না রানী। পড়াশোনার প্রতি দারুণ মনোযোগী স্বপ্না।

স্বপ্নার মা শ্রীমতি রুমা জানায়, হরিজন পরিবারের মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। তিনি তার মেয়েদের লেখাপড়া শিখাবেন। তার পরিবার তাকে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে ভুল করলেও তিনি তার ছেলেমেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেবেন না। তারা লেখাপড়া শেষে চাকরি পেলেই বিয়ে দেব।

স্বপ্নার বাবা হীরা লাল বলেন, খুব কষ্ট করে মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু শহরের কোনো ভালো স্কুলে মেয়েকে ভর্তি নিচ্ছে না। আপনাদের সহযোগিতায় আমার মেয়েকে ভালো স্কুলে ভর্তি করতে চাই।

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত