’৭১-এর ৬ বীরকন্যাকে সংবর্ধনা
jugantor
’৭১-এর ৬ বীরকন্যাকে সংবর্ধনা

  সুরঞ্জনা প্রতিবেদক  

২৩ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি নারী সংগঠন ‘চেষ্টা’র উদ্যোগে সম্প্রতি ঢাকা ক্লাবের স্যামসন হলে ৬ বীরকন্যাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি বলেন, মুক্তাগাছার একটি উপজেলায় চারটি বধ্যভূমি রয়েছে। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের গবেষণায় কয়েকহাজার বধ্যভূমির কথা উঠে এসেছে। এ ৬ বীরকন্যার প্রত্যেককে আমার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।

বিশেষ অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকী এমপির মতে, নারীর পেছনে পুরুষ, পুরুষের পেছনে নারী যদি এগিয়ে আসেন তাহলেই নারী-পুরুষ সমানে সমানে এগিয়ে আসবেন। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের বীরঙ্গনা নারীদের বলেছিলেন, তোমার সন্তানের বাবার পরিচয় যদি দিতে না পার বাবার জায়গায় আমার নাম লিখে দাও। ঠিকানা লিখে দাও ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি। এখন বীরকন্যাদের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রদানের পাশাপাশি একটি ঘর দেয়া হবে। এতদিন সম্মানের ভয়ে তারা মুখ খুলেননি। এখন পরিচয় দেয়ায় যাচাই-বাছাইয়ে অনেক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। দেশে নারী নির্যাতন বাড়েনি। নারীরা এখন সাহস করে মুখ খুলছেন বলে ঘটনাগুলো প্রকাশ পাচ্ছে।

জাতীয় সংসদ সদস্য আরমা দত্ত জানান, নারীরা মুক্তিযুদ্ধে কি পরিমাণ অবদান রেখেছেন তা সব জায়গায় এখনও স্বীকৃত নয়, সম্মানিতও নয়। ‘চেষ্টা’র সদস্যরা প্রত্যেক বীরকন্যার কাছে সম্মাননা পৌঁছে দিচ্ছেন, এজন্য তাদেরকে আমি স্যালুট জানাই।

‘চেষ্টা’র সাধারণ সম্পাদক লায়লা নাজনীন হারুণের মতে, বীরকন্যাদের অনেকেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। অনেককে আমরা খুঁজে পেয়েছি। তাদের জীবনযাপনের কথা শুনেছি। অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছেন তারা। আমরা চেষ্টা’র পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেছি। তাদের মধ্যে অনেকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন। কোনো বীরকন্যা যদি অনাহারে, অনাদরে থাকেন আমরা সেই সংবাদ পাওয়া মাত্র সেখানে ছুটে যাব। তারা যেন সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন সেই লক্ষ্যে কাজ করব।

৬ বীরকন্যা বরিশালের কানন গোমেজ, জামালপুরের রঙ্গমালা, উত্তরার স্বর্ণলতা, গাজীপুরের নাজমা (তার পক্ষে বোন জাহিদা), বরিশালের সাবিহা এবং নরসিংদীর বেলাব’র মোসাস্মৎ আনোয়ারা বেগমের হাতে চেষ্টা’র পক্ষ থেকে শাড়ি, ইনার হুইল ক্লাব অব উত্তরার পক্ষ থেকে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় পরিয়ে দেয় চেষ্টা’র সদস্যরা। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেয় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং চেষ্টা’র উপদেষ্টা মো. হারুন অর রশীদ, চেষ্টার উপদেষ্টা লে. জেনারেল এম. হারুণ-অর-রশিদ, বীরপ্রতীক, চেষ্টা’র সভাপতি সেলিনা বেগম (শেলী), সিনিয়র সভাপতি সাদিকুন নাহার (পাপড়ী), সিনিয়র সহ সভাপতি রাফেয়া আবেদীন প্রমুখ।

 

’৭১-এর ৬ বীরকন্যাকে সংবর্ধনা

 সুরঞ্জনা প্রতিবেদক 
২৩ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি নারী সংগঠন ‘চেষ্টা’র উদ্যোগে সম্প্রতি ঢাকা ক্লাবের স্যামসন হলে ৬ বীরকন্যাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি বলেন, মুক্তাগাছার একটি উপজেলায় চারটি বধ্যভূমি রয়েছে। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের গবেষণায় কয়েকহাজার বধ্যভূমির কথা উঠে এসেছে। এ ৬ বীরকন্যার প্রত্যেককে আমার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।

বিশেষ অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকী এমপির মতে, নারীর পেছনে পুরুষ, পুরুষের পেছনে নারী যদি এগিয়ে আসেন তাহলেই নারী-পুরুষ সমানে সমানে এগিয়ে আসবেন। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের বীরঙ্গনা নারীদের বলেছিলেন, তোমার সন্তানের বাবার পরিচয় যদি দিতে না পার বাবার জায়গায় আমার নাম লিখে দাও। ঠিকানা লিখে দাও ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি। এখন বীরকন্যাদের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রদানের পাশাপাশি একটি ঘর দেয়া হবে। এতদিন সম্মানের ভয়ে তারা মুখ খুলেননি। এখন পরিচয় দেয়ায় যাচাই-বাছাইয়ে অনেক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। দেশে নারী নির্যাতন বাড়েনি। নারীরা এখন সাহস করে মুখ খুলছেন বলে ঘটনাগুলো প্রকাশ পাচ্ছে।

জাতীয় সংসদ সদস্য আরমা দত্ত জানান, নারীরা মুক্তিযুদ্ধে কি পরিমাণ অবদান রেখেছেন তা সব জায়গায় এখনও স্বীকৃত নয়, সম্মানিতও নয়। ‘চেষ্টা’র সদস্যরা প্রত্যেক বীরকন্যার কাছে সম্মাননা পৌঁছে দিচ্ছেন, এজন্য তাদেরকে আমি স্যালুট জানাই।

‘চেষ্টা’র সাধারণ সম্পাদক লায়লা নাজনীন হারুণের মতে, বীরকন্যাদের অনেকেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। অনেককে আমরা খুঁজে পেয়েছি। তাদের জীবনযাপনের কথা শুনেছি। অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছেন তারা। আমরা চেষ্টা’র পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেছি। তাদের মধ্যে অনেকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন। কোনো বীরকন্যা যদি অনাহারে, অনাদরে থাকেন আমরা সেই সংবাদ পাওয়া মাত্র সেখানে ছুটে যাব। তারা যেন সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন সেই লক্ষ্যে কাজ করব।

৬ বীরকন্যা বরিশালের কানন গোমেজ, জামালপুরের রঙ্গমালা, উত্তরার স্বর্ণলতা, গাজীপুরের নাজমা (তার পক্ষে বোন জাহিদা), বরিশালের সাবিহা এবং নরসিংদীর বেলাব’র মোসাস্মৎ আনোয়ারা বেগমের হাতে চেষ্টা’র পক্ষ থেকে শাড়ি, ইনার হুইল ক্লাব অব উত্তরার পক্ষ থেকে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় পরিয়ে দেয় চেষ্টা’র সদস্যরা। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেয় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং চেষ্টা’র উপদেষ্টা মো. হারুন অর রশীদ, চেষ্টার উপদেষ্টা লে. জেনারেল এম. হারুণ-অর-রশিদ, বীরপ্রতীক, চেষ্টা’র সভাপতি সেলিনা বেগম (শেলী), সিনিয়র সভাপতি সাদিকুন নাহার (পাপড়ী), সিনিয়র সহ সভাপতি রাফেয়া আবেদীন প্রমুখ।