বানভাসি ফরিদার ঈদ আনন্দ

  আহসান হাবীব নীলু ১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কষ্টের শেষ নেই ফরিদার জীবনে। নদীভাঙনে নিঃস্ব কুড়িগ্রাম থেকে পাড়ি জমিয়েছিল ঢাকায়। তিন শিশুসন্তান আর স্বামী আনসার আলীকে নিয়ে ঢাকার কলাবাগান এলাকায় ফুটপাতে থাকত। কাজ না পেয়ে ভিক্ষা করত। ২০১৮ সালে রমজান মাসে প্রখর রোদে ফুটপাতে জ্বরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়েছিল। মাথায় পানি ঢালছিল ছোট শিশু আকলিমা। ছবিসহ এ সংবাদ যুগান্তরের অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত হলে তা ভাইরাল হয়ে যায় সারা দেশে। শুরু হয় তোলপাড়। কুড়িগ্রাম জেলার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন ঢাকায় গিয়ে পুনর্বাসনের জন্য গোটা পরিবারটিকে কুড়িগ্রামে ফিরিয়ে আনেন। কুড়িগ্রাম সদরের পাচগাছি ইউনিয়নের উত্তর নওয়াবশ এলাকায় গুচ্ছগ্রামে একটি ঘর তুলে আশ্রয় দেন। চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় পরিবারের সবার। স্কুলে ভর্তি করে দেয়া হয় দুই মেয়েকে। দেয়া হয় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও একটি গাভি। এ ছাড়া ছিল সরকারি নানা সহায়তা। ভালোই চলছি তাদের সংসার। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন ঢাকায় বদলি হন। শুরু হয় করোনাভাইরাসের দুর্যোগ। লকডাউনসহ নানা কারণে রিকশা চালানো বন্ধ হয়ে যায়। এরই মধ্যে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অচল হয়ে পড়ে রিকশাটি। ফলে আয় পুরোপুরি বন্ধ। এরই মধ্যে গত দু’মাস থেকে বন্যার প্রভাবে পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এ পরিবারটি। এখন আর খোঁজ নেয়ার কেউ নেই বলে আক্ষেপের কথা জানালেন, ফরিদা।

ফরিদা বলেন, ঈদ খুব খারাপ হইছে, গোস্ত খাবার পাই নাই। কষ্টের জীবন আবার শুরু হইছে। আয় রোজগার নাই। হাতে কাজও নাই। তার ওপর স্বামী আনসার আলী উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগে ভুগছেন। অটোরিকশার ব্যাটারির দাম ৬০ হাজার টাকা। এত টাকার জোগান না থাকায় রিকশা চালানও বন্ধ।

ওদের দু’মেয়ে আকলিমা ও আখিতারা আশরাফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আর ছোট ছেলে ফরিদুল এখনও স্কুলে ভর্তি হয়নি। এ ৫ জনের সংসার চলে দু’বেলার খাবার দিয়ে তিন বেলা। একটু ভাত জুটলেও জোটে না মাংস, মাছ ও ডিম।

ফরিদার মতে, ঈদের দিন খুব খারাপ গেছে। ছোট ছোট বাচ্চা নতুন কোনো কাপড়-চোপড় জোটেনি। জোটেনি এক টুকরা মাংস। সকালে ছিল আলু ভর্তা ভাত। দুপুরে পুঁটি মাছ ও ডাল আর ভাত। ওই ভাতই রাতে সবাই ভাগাভাগি করে খান। গত ৫ মাসে মাত্র একবার সরকারি রিলিফ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এমন করি চললে উপোস থাকা লাগবে। দু’মাসের বেশি সময় ধরে বাড়ির চারদিকে পানি। একে কাজ নেই তার ওপর তিনটি ছোট শিশু ওদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। চারদিকে থই থই পানি। শিশুদের নজরে নজরে রাখি। তারপরও আতঙ্কে দিন কাটে। কখন কী হয়ে যায়।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত