হোপ মিশন : একজন সারাহ আল আমিরি

  তাওহীদ মাহমুদ ১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সারাহ বিনত ইউসিফ আল-আমিরি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো একটি ক্ষুদ্র উপসাগরীয় দেশের জন্য এক অভাবনীয় সাফল্য অভিযান ‘হোপ মিশন।’। মঙ্গল অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম শুনে যেমন সবাই অবাক, তার চেয়েও অবাক এ মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এক আরব নারী।

তার নাম সারাহ বিনত ইউসিফ আল-আমিরি। বিশ্বে তিনি সারাহ আল আমিরি নামে সুনাম কুড়িয়েছেন।

সারাহ আল আমিরি ‘হোপ মিশনের’ বৈজ্ঞানিক দলের প্রধান। অভিযানের শুরু থেকে এর সঙ্গে জড়িত। সারাহ আল-আমিরি মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন একেবারে ছোটবেলা থেকে। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তার শৈশবের সেই স্বপ্নের কথা। তখন তার বয়স ছিল মাত্র নয় বছর।

সারাহ আল-আমিরি বলেছিলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখব। কিন্তু আমাকে সব সময় শুনতে হতো এটা অসম্ভব। বিশেষ করে আপনি যদি এমন একটা দেশে থাকেন, যে দেশটা একেবারেই নতুন। আমি যখন বলতাম আমি মহাকাশ নিয়ে কাজ করতে চাই, তখন লোকে ভাবত আমি বুঝি কোনো কল্পজগতে বাস করি।’

সারাহ আল-আমিরির জন্ম ১৯৮৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। বয়স মাত্র ৩২। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে দুবাই শহরে অবস্থিত আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ শারজাহ থেকে কম্পিউটার প্রকৌশলে স্নাতক এবং মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। নিজের ক্যারিয়ারও শুরু করেন অন্যসব প্রকৌশলীর মতোই। কম্পিউটার প্রকৌশলে পড়াশোনা করলেও জ্যোতির্বিজ্ঞানে তখনও তার আগ্রহ কমেনি। হঠাৎই চমৎকার এক চাকরির সুযোগ পেয়ে যান। যেখানে তিনি কাজ করবেন একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। পাশাপাশি মহাকাশ বিজ্ঞানচর্চার সুযোগও রয়েছে। তাই তিনি একটুও না ভেবে যোগ দেন এমিরেটস ইন্সটিটিউশন ফর অ্যাডভান্সড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধীনে মুহাম্মদ বিন রশিদ স্পেস সেন্টারে।

সারাহ্ আল-আমিরি যে সময় এই স্পেস সেন্টারে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন, সে সময় আরব আমিরাতের প্রথম স্যাটেলাইট প্রোগ্রাম দুবাইস্যাট-১ এর কাজ চলছিল। প্রথম প্রোগ্রামেই চমৎকারভাবে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন। দুবাইস্যাট-১ এর সফল উৎক্ষেপণের পর কাজ করেন দুবাইস্যাট-২ প্রোগ্রামে। দ্বিতীয় মিশনেও সফল। এরপর তিনি আমিরাতের আরও একটি স্যাটেলাইটে ‘মিশন খলিফাস্যাট’-এও কাজ করেন এবং সেখানেও প্রশংসিত হন।

২০০৯ সালে সারাহ্ আল-আমিরি তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর মাত্র ৫ বছর পরই আরব আমিরাত সরকার তাকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করে। ২০১৪ সালে তাকে আরব আমিরাতের অ্যাডভান্সড এরিয়াল সিস্টেমস প্রোগ্রাম স্থাপনের দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি তা শুরু করেন। সফলভাবে একটি ঐঅচঝ স্যাটেলাইট নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেন।

আমিরির ছিল মহাকাশ গবেষণায় প্রবল আগ্রহ, কাজের প্রতিও ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল। ফলে ক্যারিয়ারের শুরুতেই তিনি বেশ সফলতা পেতে শুরু করেন। কয়েক বছরের মধ্যেই মুহাম্মদ বিন রশিদ স্পেস সেন্টার ও দুবাইয়ের বেশ পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। আরব বিশ্বের নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম সারাহ আল-আমিরি ।

ঐঅচঝ প্রোগ্রামের ১ বছর পর এই নবীন বিজ্ঞানী তার জীবনের আরও এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্পর্শ করেন। ২০১৫ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বর্ষসেরা ৫০ তরুণ বিজ্ঞানীর একজন নির্বাচিত হন। কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ আর জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা তাকে একের পর এক সফলতা এনে দেয়। ২০১৬ সালে তিনি এমিরেটস সায়েন্স কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাডভান্সড সায়েন্সবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয় তাকে।

২০০৯ সালে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর পর তার ওপর যে দায়িত্বই এসেছে, সবগুলোই তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। ফলে তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবেও আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। তাই তাকে মঙ্গল স্যাটেলাইট ‘মিশন হোপ’-এর জন্য টিম লিডার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রোবটিক মহাকাশযানটি প্রায় ৬২ মিলিয়ন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যদি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে তাহলে তাদের নাম যুক্ত হবে বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায়। যে তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ আর ভারতের মতো গুটিকয়েক দেশ। যারা মঙ্গলগ্রহে সফল মহাকাশ অভিযান করতে পেরেছে। আর ইতিহাসে স্বর্ণ অক্ষরে যে নামটি লেখা থাকবে তিনি সারাহ আল-আমিরি।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত