করোনা সেবায় চীনে নারীরাই প্রাণশক্তি

  সাব্বিন হাসান ১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সারা বিশ্বের বিদ্যমান সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আরও কঠিন করে তুলেছে নভেল করোনা। বিশেষত কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে নারীদের। মহামারী, দুর্যোগে বা যুদ্ধে অনিবার্যভাবে নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হন।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনায় নারীদেরই বিশেষ ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে তা নিশ্চিত।

করোনা সময়ে স্বাস্থ্যসেবার দুটো বিশেষ দিকের মধ্যে একটি হচ্ছে হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা। অন্যটি ঘরের স্বাস্থ্যসেবা। এখানে দুটি সেবাতেই নারীর সরাসরি উপস্থিতি দৃশ্যমান। যার কোনো বিকল্প নেই। আবার কায়িক শ্রমের বেশিরভাগ জায়গাজুড়েই নারী কর্মীর সংখ্যা নেহাত কম নয়, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বেশি। এমন অবস্থা প্রায় সব দেশেই। ফলে গৃহবন্দি বা লকডাউনের প্রভাবে বিপুলসংখ্যক নারী কর্মী কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। অর্থাৎ ঘরে-বাইরে সব খানেই নারীর স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বেড়েছে বহুভাবে।

চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান- তিনটি দেশে করোনাকালের তুলনা চিত্রে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় জাপান করোনা পরিস্থিতি সামলেছে অনেকটা শক্ত হাতেই। সুকৌশল আর আগাম প্রস্তুতিও জাপানের বাড়তি স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। সব দেশের ক্ষেত্রেই নারীদের ভূমিকা অগ্রগণ্য।

অতীতের গবেষণা তথ্য বলছে, মহামারী সময়কালে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে নারীকে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল অবধি পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার প্রাদুর্ভাব দৃশ্যমান ছিল। ওই সময় নারীদেরই আক্রান্ত রোগীর সেবা করতে হয়েছে বেশি। তা পেইড বা আনপেইড উভয় ক্ষেত্রেই সমান। ফলে ভাইরাসে আক্রান্তও হয়েছেন নারীই বেশি। করোনা সেবায় চীনে নারীরাই প্রাণশক্তি।

চীন থেকেই করোনার প্রভাব বিশ্বের কাছে সুস্পষ্ট হয়। দেশটির উহার শহর থেকে ভয়াবহ রূপ নেয় নভেল করোনা। চীনের শতকরা ৯০ ভাগ স্বাস্থ্যকর্মীই নারী। এমনকি চীনে নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তার হারও বাড়ছে বলছেন গবেষকরা।

চীনে করোনা দায়িত্ব পালনে নারীরা বেশি ঝুঁকিতে আছেন। কারণ তারা সংখ্যায় বেশি। বিশ্বে অর্থনৈতিকভাবে নারীরা এখনও পুরুষের তুলনায় দুর্বল। ফলে করোনার প্রভাব সবদিক থেকেই নারীদের ওপরই বেশি দৃশ্যমান হবে। চীনের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। কারণ ভাইরাস থেকে বাঁচতে নারীর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেয়া অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হবে না অর্থনৈতিক কারণে। করোনা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলদের বাড়তি চাপে ফেলবে। এ চাপে আরও বেশি ভুগবেন নারীরা। কারণ বিশ্বজুড়েই নারীরা পুরুষের তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে।

করোনা সময়ে ঘরে বসে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ নতুন কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এখানেও তা করা হচ্ছে। তবে কারখানায় সরাসরি শ্রম দেন যেসব নারী তাদের পক্ষে এটি করা অসম্ভব। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো করোনায় গৃহবন্দি থাকার সময়ে নাগরিকের খাওয়া পরা এমনকি বাড়ি ভাড়ার দায়িত্বও নিয়েছে। কিন্তু তা কতদিন সম্ভব। সারা বিশ্বেই অর্থনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়ে গেছে। অর্থনীতিকে দ্রুত সচল আর স্বাভাবিক করতে না পারলে গুনতে হবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দা।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত