ভিক্ষা করে জীবন চালান রাহেলা
jugantor
ভিক্ষা করে জীবন চালান রাহেলা

  মো. মঞ্জুরুল আলম মাসুম  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নাটোরের বাগাতিপাড়ার বিলগোপাল হাটি গ্রামের রাহেলা। বয়স ৮০ বছরের মতো। কানে ভালো শুনতে পান না। চোখেও ভালো দেখতে পান না। পথ চলেন লাঠির সাহায্যে। ১৯৭২ সালে স্বামী জলিলউদ্দিন চলে যান না ফেরার দেশে।

স্বামীকে হারিয়ে চার সন্তান নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েন। দু’ছেলে- জনাফ ও দুলাল এবং দু’মেয়ে। স্বামী মারা যাওয়ায় বাবার বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির কেউ তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। বরং তার ভাগ্যে জুটেছে তিরস্কার। ছেলেমেয়েদের মুখে অন্ন জোগাতে স্বামী মারা যাওয়ার তিনদিন পরেই নেমে পড়েন ভিক্ষাবৃিত্ততে। ভিক্ষা করে চার সন্তানকে বড় করেছেন।

ছেলেমেয়েদের বিয়েও দিয়েছেন। ছোট ছেলে ভ্যান চালক আর বড় ছেলে দিন মজুরি করেন। কিন্তু ছেলেরা তার খোঁজ রাখেন না। তবে টাকার দরকার হলে বউকে দিয়ে জোর করে নিয়ে যায়। দু’মেয়ের কারোরই সংসার নেই। বড় মেয়ে সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। তার জরায়ু কেটে ফেলতে হয়। এ কারণে স্বামী তাকে আর ঘরে তোলেনি। আর ছোট মেয়েটি মানসিক প্রতিবন্ধী। রাহেলার সঙ্গে দু’মেয়ে ভিক্ষা করেন।

রোদে পুড়ে বা বৃষ্টিতে ভিজে প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, হাট বাজার বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এভাবেই ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন রাহেলা।

সরকার থেকে বয়স্কভাতা বা বিধবাভাতা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে রাহেলা জানান, বয়স্কভাতার ৩০০ টাকা পান। আগে পেতেন ২০০ টাকা করে। এ দু-তিনশ’ টাকায় সংসার চলে না। ছেলেরা তাকে বলেছে, ‘মা তুই যেভাবে খাচ্ছিস সেভাবেই খা। আমাদের কিছু বলবি না।’

রাহেলা ভিক্ষাবৃত্তি করতে চান না। এ প্রসঙ্গে রাহেলা বলেন, বয়স্কভাতার টাকার পরিমাণ বাড়লে ভিক্ষা করা ছেড়ে দিব। ভিক্ষা করতে ভালো লাগে না। শরীরটাও এখন চলতে চায় না। ছেলেরা আমার টাকা নিয়ে বড়লোক হয়েছে। পাকা বাড়ি দিয়েছে। মায়ের টাকায় বাড়ি করলেও তারা আমারে দেখে না।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খোদিজা বেগম শাপলা বলেন, ছেলেরা রয়েছে তবুও বুড়ো বয়সে রাহেলা বেগমকে ভিক্ষা করে জীবন চালাতে হয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তার জন্য কী করা যায় দেখব।

ভিক্ষা করে জীবন চালান রাহেলা

 মো. মঞ্জুরুল আলম মাসুম 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নাটোরের বাগাতিপাড়ার বিলগোপাল হাটি গ্রামের রাহেলা। বয়স ৮০ বছরের মতো। কানে ভালো শুনতে পান না। চোখেও ভালো দেখতে পান না। পথ চলেন লাঠির সাহায্যে। ১৯৭২ সালে স্বামী জলিলউদ্দিন চলে যান না ফেরার দেশে।

স্বামীকে হারিয়ে চার সন্তান নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েন। দু’ছেলে- জনাফ ও দুলাল এবং দু’মেয়ে। স্বামী মারা যাওয়ায় বাবার বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির কেউ তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। বরং তার ভাগ্যে জুটেছে তিরস্কার। ছেলেমেয়েদের মুখে অন্ন জোগাতে স্বামী মারা যাওয়ার তিনদিন পরেই নেমে পড়েন ভিক্ষাবৃিত্ততে। ভিক্ষা করে চার সন্তানকে বড় করেছেন।

ছেলেমেয়েদের বিয়েও দিয়েছেন। ছোট ছেলে ভ্যান চালক আর বড় ছেলে দিন মজুরি করেন। কিন্তু ছেলেরা তার খোঁজ রাখেন না। তবে টাকার দরকার হলে বউকে দিয়ে জোর করে নিয়ে যায়। দু’মেয়ের কারোরই সংসার নেই। বড় মেয়ে সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। তার জরায়ু কেটে ফেলতে হয়। এ কারণে স্বামী তাকে আর ঘরে তোলেনি। আর ছোট মেয়েটি মানসিক প্রতিবন্ধী। রাহেলার সঙ্গে দু’মেয়ে ভিক্ষা করেন।

রোদে পুড়ে বা বৃষ্টিতে ভিজে প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, হাট বাজার বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এভাবেই ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন রাহেলা।

সরকার থেকে বয়স্কভাতা বা বিধবাভাতা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে রাহেলা জানান, বয়স্কভাতার ৩০০ টাকা পান। আগে পেতেন ২০০ টাকা করে। এ দু-তিনশ’ টাকায় সংসার চলে না। ছেলেরা তাকে বলেছে, ‘মা তুই যেভাবে খাচ্ছিস সেভাবেই খা। আমাদের কিছু বলবি না।’

রাহেলা ভিক্ষাবৃত্তি করতে চান না। এ প্রসঙ্গে রাহেলা বলেন, বয়স্কভাতার টাকার পরিমাণ বাড়লে ভিক্ষা করা ছেড়ে দিব। ভিক্ষা করতে ভালো লাগে না। শরীরটাও এখন চলতে চায় না। ছেলেরা আমার টাকা নিয়ে বড়লোক হয়েছে। পাকা বাড়ি দিয়েছে। মায়ের টাকায় বাড়ি করলেও তারা আমারে দেখে না।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খোদিজা বেগম শাপলা বলেন, ছেলেরা রয়েছে তবুও বুড়ো বয়সে রাহেলা বেগমকে ভিক্ষা করে জীবন চালাতে হয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তার জন্য কী করা যায় দেখব।