কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ
jugantor
কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ
সব পর্যায়ের মেয়েশিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশিষ্টজনদের পরামর্শ তুলে ধরেছেন -

  শিল্পী নাগ  

১৯ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষার্থীরা আনন্দে শিখবে : ডা. দীপু মনি

মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়

সরকার পাঠ্যক্রমে যুগোপযোগী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সেসঙ্গে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সেসঙ্গে লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার, নারী-প্রতিবন্ধীবান্ধব শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। শিক্ষায় সবার অভিগম্যতা যেন থাকে, সেটি সরকারিভাবে নিশ্চিত করছি। ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা এবং শিক্ষায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। সেসঙ্গে আগামী দিনে কারিগরি শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ভবিষ্যৎ জীবন আর জীবিকাকে গুরুত্ব দিয়ে। আমাদের শিক্ষার্থীরা আনন্দের মধ্য দিয়ে শিখবে। তারা শুধু শিক্ষাঙ্গনের পরিসরে নয়, তারা পারিবারিক ও সামাজিক পরিসরেও শিখবে। এ পরিসরগুলোকেও আমরা নিরাপদ করতে চাই, যাতে কন্যাশিশুসহ সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করতে না হয়।

সংযোগ স্থাপন করেছি : জুনাইদ আহমেদ পলক

প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ

দেশের মোট ৬০-৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঘরে বসে সংসদ টিভির মাধ্যমে ডিজিটাল শিক্ষা গ্রহণ করেছে। বাকি ৩০ শতাংশ যাদের ইন্টারনেট সংযোগ নেই, তাদের জন্য ৩৩৩ হেল্পডেস্কের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছি।

শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন : ড. সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক

মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর

মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে মেয়ে-শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মাধ্যমিকে শতকরা ৫৪ ভাগ মেয়ে-শিক্ষার্থী এবং শতকরা ৪৬ ভাগ ছেলে-শিক্ষার্থী। বৃত্তি কার্যক্রমও সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এ সেফটি নেট প্রোগ্রামটির জন্য শিক্ষার্থীরা ঝরে পরবে না। যেসব শিক্ষার্থীরা সংসদ টিভি দেখতে পারছে না এবং অনলাইন ক্লাস করতে পারছে না, আমাদের শিক্ষকরা সেসব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন। যত্নের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কোভিড-১৯-এর দুর্যোগের মধ্যে আমাদের শিক্ষার্থীরা অন্য প্রক্রিয়ায় শিক্ষাগ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছে।

শিশুর মাঝে ভেদাভেদ থাকবে না : নাছিমা বেগম

চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

শিক্ষার অধিকার অনেক বড় মানবাধিকার। শৈশব থেকে শিশুদের তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হাওয়া দরকার। এখানে ছেলেশিশু ও মেয়েশিশুর মাঝে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। সমাজে আমরা যে অবক্ষয় দেখছি বা ধর্ষণের ঘটনাগুলো দেখছি, তাদের মধ্যে যদি মূল্যবোধ থাকত তবে তারা এ কাজগুলো করতে পারত না। শৈশব থেকে যদি সবাই নীতি-নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে বড় হয় তাহলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ হবে না।

মেয়েদের লেখাপড়ায় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে : রাখী সরকার

কান্ট্রি ডিরেক্টর, রুম টু রিড বাংলাদেশ

রুম টু রিড বাংলাদেশ মেয়েশিশুদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষা সম্পন্নকরণে ও জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ মহামারী চলাকালীন মেয়ে-শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ জরুরি অবস্থায় আমাদের মোট কভারেজ থেকে প্রায় শতকরা ৩ ভাগ মেয়ে-শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পারিনি। এ মাসের ১০ দিনের মেয়েশিশুদের নিজস্ব মনিটরিং তথ্যে জানা যায়, শতকরা ৫.৬ ভাগ মেয়ে-শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরে আসার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শতকরা ২.৪ ভাগ ঘরে বসে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না। শতকরা ৬ ভাগ পরিবারের আয়ের উৎস হারিয়েছে কোভিড-১৯-এর কারণে। এ তিনটি ঝুঁকির কারণে কমপক্ষে শতকরা ১০.১ ভাগ মেয়ে-শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দূরশিক্ষণ উদ্যোগের আওতায় মেয়ে-শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ

সব পর্যায়ের মেয়েশিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশিষ্টজনদের পরামর্শ তুলে ধরেছেন -
 শিল্পী নাগ 
১৯ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষার্থীরা আনন্দে শিখবে : ডা. দীপু মনি

মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়

সরকার পাঠ্যক্রমে যুগোপযোগী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সেসঙ্গে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সেসঙ্গে লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার, নারী-প্রতিবন্ধীবান্ধব শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। শিক্ষায় সবার অভিগম্যতা যেন থাকে, সেটি সরকারিভাবে নিশ্চিত করছি। ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা এবং শিক্ষায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। সেসঙ্গে আগামী দিনে কারিগরি শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ভবিষ্যৎ জীবন আর জীবিকাকে গুরুত্ব দিয়ে। আমাদের শিক্ষার্থীরা আনন্দের মধ্য দিয়ে শিখবে। তারা শুধু শিক্ষাঙ্গনের পরিসরে নয়, তারা পারিবারিক ও সামাজিক পরিসরেও শিখবে। এ পরিসরগুলোকেও আমরা নিরাপদ করতে চাই, যাতে কন্যাশিশুসহ সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করতে না হয়।

সংযোগ স্থাপন করেছি : জুনাইদ আহমেদ পলক

প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ

দেশের মোট ৬০-৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঘরে বসে সংসদ টিভির মাধ্যমে ডিজিটাল শিক্ষা গ্রহণ করেছে। বাকি ৩০ শতাংশ যাদের ইন্টারনেট সংযোগ নেই, তাদের জন্য ৩৩৩ হেল্পডেস্কের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছি।

শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন : ড. সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক

মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর

মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে মেয়ে-শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মাধ্যমিকে শতকরা ৫৪ ভাগ মেয়ে-শিক্ষার্থী এবং শতকরা ৪৬ ভাগ ছেলে-শিক্ষার্থী। বৃত্তি কার্যক্রমও সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এ সেফটি নেট প্রোগ্রামটির জন্য শিক্ষার্থীরা ঝরে পরবে না। যেসব শিক্ষার্থীরা সংসদ টিভি দেখতে পারছে না এবং অনলাইন ক্লাস করতে পারছে না, আমাদের শিক্ষকরা সেসব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন। যত্নের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কোভিড-১৯-এর দুর্যোগের মধ্যে আমাদের শিক্ষার্থীরা অন্য প্রক্রিয়ায় শিক্ষাগ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছে।

শিশুর মাঝে ভেদাভেদ থাকবে না : নাছিমা বেগম

চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

শিক্ষার অধিকার অনেক বড় মানবাধিকার। শৈশব থেকে শিশুদের তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হাওয়া দরকার। এখানে ছেলেশিশু ও মেয়েশিশুর মাঝে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। সমাজে আমরা যে অবক্ষয় দেখছি বা ধর্ষণের ঘটনাগুলো দেখছি, তাদের মধ্যে যদি মূল্যবোধ থাকত তবে তারা এ কাজগুলো করতে পারত না। শৈশব থেকে যদি সবাই নীতি-নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে বড় হয় তাহলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ হবে না।

মেয়েদের লেখাপড়ায় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে : রাখী সরকার

কান্ট্রি ডিরেক্টর, রুম টু রিড বাংলাদেশ

রুম টু রিড বাংলাদেশ মেয়েশিশুদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষা সম্পন্নকরণে ও জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ মহামারী চলাকালীন মেয়ে-শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ জরুরি অবস্থায় আমাদের মোট কভারেজ থেকে প্রায় শতকরা ৩ ভাগ মেয়ে-শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পারিনি। এ মাসের ১০ দিনের মেয়েশিশুদের নিজস্ব মনিটরিং তথ্যে জানা যায়, শতকরা ৫.৬ ভাগ মেয়ে-শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরে আসার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শতকরা ২.৪ ভাগ ঘরে বসে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না। শতকরা ৬ ভাগ পরিবারের আয়ের উৎস হারিয়েছে কোভিড-১৯-এর কারণে। এ তিনটি ঝুঁকির কারণে কমপক্ষে শতকরা ১০.১ ভাগ মেয়ে-শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দূরশিক্ষণ উদ্যোগের আওতায় মেয়ে-শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।