করোনাকালে দুই নারী ট্রাফিক সার্জেন্ট
jugantor
করোনাকালে দুই নারী ট্রাফিক সার্জেন্ট

  শহীদ উল্লাহ শাহরিয়ার চৌধুরী  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শামীমা আক্তার ও হেপী বেগম (বাঁ থেকে) আলোকচিত্রী রাজেশ চক্রবর্তী

চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো নারী ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ দেয়া হয়। কোভিড-১৯-এর এ সময়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান পুলিশে কর্মরত নারী ট্রাফিক সার্জেন্টরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। দুই নারী ট্রাফিক সার্জেন্ট শামীমা আক্তার ও হেপী বেগমকে নিয়ে আজকের আয়োজন।

সচেতনতামূলক কাজ করতে পেরেছি : শামীমা আক্তার

ট্রাফিক সার্জেন্ট, সিএমপি, দক্ষিণ বিভাগ

সিএমপি’র ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগে সার্জেন্ট অপারেশন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট শামীমা আক্তার। একই পরিবারে তিন ভাই, এক বোন ও বোনের স্বামী- মোট পাঁচ পুলিশ সদস্য। তার স্বামী বশিরুজ্জামান পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর। তিনি চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় কর্মরত রয়েছেন।

করোনাকালে দায়িত্ব পালন সম্পর্কে বলতে গিয়ে শামীমা আক্তার বলেন, কোভিড-১৯-এর লকডাউনের সময় চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল কম ছিল। যারা ঘর থেকে বের হয়েছেন, তাদের মধ্যে একটি আতঙ্ক ছিল। কাজের চাপ কম থাকায় মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছি। মানুষকে করোনা থেকে কীভাবে বাঁচানো যায়- এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করেছি। রাস্তায় লোকজনের মুখে মাস্ক না থাকলে, মাস্ক পরার জন্য অনুরোধ করেছি। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে বাইরে ডিউটি করছি। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন থাকতেন।

শামীমা আক্তারের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায়। তিনি ২০০৮ সালে এসএসসি ও ২০১০ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর চট্টগ্রামের বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স করেন। ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসেবে যোগদান করেন। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কোভিড-১৯-এর এ সময় পুরুষ ট্রাফিক সার্জেন্টের পাশাপাশি তিনিও রাস্তায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হই : হেপী বেগম

ট্রাফিক সার্জেন্ট, সিএমপি, দক্ষিণ বিভাগ

করোনাকালে ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ নিয়েই কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান পুলিশে কর্মরত ট্রাফিক সার্জেন্ট হেপী বেগম। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করেছেন; মাস্ক বিতরণ করেছেন; ত্রাণ বিতরণে সহায়তা করেছেন, এক কথায় করোনা থেকে বাঁচাতে মানুষকে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। এসব দায়িত্ব পালন করতে করতে নিজেই কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন কিন্তু মনোবল হারাননি তিনি।

এ প্রসঙ্গে হেপী বেগম বলেন, আমাদের কাজ-ই হল রাস্তায়। কোভিড-১৯-এর প্রথমদিকে ডিউটিতে এলেই বাড়ির সবাই আমাকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করতেন। ২২ জুলাই আমি করোনায় আক্রান্ত হলে সিনিয়র স্যাররা সকাল-বিকাল ফোন করে খোঁজ-খবর নিতেন; সাহস জুগিয়েছেন; বাসায় খাবার পাঠিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের মেয়ে হেপী বেগম। ২০০৬ সালে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এ কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক করেন। এরপর তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। ছোটবেলা থেকেই পুলিশ বিভাগের প্রতি তার আলাদা দুর্বলতা ছিল। স্বপ্ন দেখতেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে দেশের মানুষের সেবা করবেন। তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয় ২০১৫ সালের ৩১ মে পুলিশ বাহিনীতে সার্জেন্ট হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে। এক বছর সারদা পুলিশ একাডেমি থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছেন। তার স্বামী ওয়াসিম আরাফাতও একজন পুলিশ সার্জেন্ট। তিনিও সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত। দায়িত্ব পালনে স্বামীর সহযোগিতাও পেয়েছেন।

হেপী বেগমের মতে, প্রতিটি পেশাতেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে তবে নারী ট্রাফিক পুলিশদের চ্যালেঞ্জটি একটু অন্যরকম। রাতেও আমাদের ডিউটি থাকে। অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে আমরা সেই দায়িত্ব পালন করছি। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নারী পুলিশরা কর্মক্ষেত্রেও সফল। তবে নারী পুলিশদের সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা এখনও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই চলছে। সাধারণ জনগণ অনেক ক্ষেত্রে একজন পুরুষ পুলিশকে যেভাবে নিচ্ছেন, একজন নারী পুলিশকে সেভাবে নেন না। এ প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েই নারী পুলিশরা এগিয়ে যাচ্ছেন।

করোনাকালে দুই নারী ট্রাফিক সার্জেন্ট

 শহীদ উল্লাহ শাহরিয়ার চৌধুরী 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
শামীমা আক্তার ও হেপী বেগম (বাঁ থেকে) আলোকচিত্রী রাজেশ চক্রবর্তী
শামীমা আক্তার ও হেপী বেগম (বাঁ থেকে) আলোকচিত্রী রাজেশ চক্রবর্তী

চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো নারী ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ দেয়া হয়। কোভিড-১৯-এর এ সময়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান পুলিশে কর্মরত নারী ট্রাফিক সার্জেন্টরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। দুই নারী ট্রাফিক সার্জেন্ট শামীমা আক্তার ও হেপী বেগমকে নিয়ে আজকের আয়োজন।

সচেতনতামূলক কাজ করতে পেরেছি : শামীমা আক্তার

ট্রাফিক সার্জেন্ট, সিএমপি, দক্ষিণ বিভাগ

সিএমপি’র ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগে সার্জেন্ট অপারেশন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট শামীমা আক্তার। একই পরিবারে তিন ভাই, এক বোন ও বোনের স্বামী- মোট পাঁচ পুলিশ সদস্য। তার স্বামী বশিরুজ্জামান পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর। তিনি চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় কর্মরত রয়েছেন।

করোনাকালে দায়িত্ব পালন সম্পর্কে বলতে গিয়ে শামীমা আক্তার বলেন, কোভিড-১৯-এর লকডাউনের সময় চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল কম ছিল। যারা ঘর থেকে বের হয়েছেন, তাদের মধ্যে একটি আতঙ্ক ছিল। কাজের চাপ কম থাকায় মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছি। মানুষকে করোনা থেকে কীভাবে বাঁচানো যায়- এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করেছি। রাস্তায় লোকজনের মুখে মাস্ক না থাকলে, মাস্ক পরার জন্য অনুরোধ করেছি। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে বাইরে ডিউটি করছি। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন থাকতেন।

শামীমা আক্তারের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায়। তিনি ২০০৮ সালে এসএসসি ও ২০১০ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর চট্টগ্রামের বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স করেন। ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসেবে যোগদান করেন। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কোভিড-১৯-এর এ সময় পুরুষ ট্রাফিক সার্জেন্টের পাশাপাশি তিনিও রাস্তায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হই : হেপী বেগম

ট্রাফিক সার্জেন্ট, সিএমপি, দক্ষিণ বিভাগ

করোনাকালে ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ নিয়েই কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান পুলিশে কর্মরত ট্রাফিক সার্জেন্ট হেপী বেগম। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করেছেন; মাস্ক বিতরণ করেছেন; ত্রাণ বিতরণে সহায়তা করেছেন, এক কথায় করোনা থেকে বাঁচাতে মানুষকে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। এসব দায়িত্ব পালন করতে করতে নিজেই কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন কিন্তু মনোবল হারাননি তিনি।

এ প্রসঙ্গে হেপী বেগম বলেন, আমাদের কাজ-ই হল রাস্তায়। কোভিড-১৯-এর প্রথমদিকে ডিউটিতে এলেই বাড়ির সবাই আমাকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করতেন। ২২ জুলাই আমি করোনায় আক্রান্ত হলে সিনিয়র স্যাররা সকাল-বিকাল ফোন করে খোঁজ-খবর নিতেন; সাহস জুগিয়েছেন; বাসায় খাবার পাঠিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের মেয়ে হেপী বেগম। ২০০৬ সালে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এ কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক করেন। এরপর তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। ছোটবেলা থেকেই পুলিশ বিভাগের প্রতি তার আলাদা দুর্বলতা ছিল। স্বপ্ন দেখতেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে দেশের মানুষের সেবা করবেন। তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয় ২০১৫ সালের ৩১ মে পুলিশ বাহিনীতে সার্জেন্ট হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে। এক বছর সারদা পুলিশ একাডেমি থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছেন। তার স্বামী ওয়াসিম আরাফাতও একজন পুলিশ সার্জেন্ট। তিনিও সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত। দায়িত্ব পালনে স্বামীর সহযোগিতাও পেয়েছেন।

হেপী বেগমের মতে, প্রতিটি পেশাতেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে তবে নারী ট্রাফিক পুলিশদের চ্যালেঞ্জটি একটু অন্যরকম। রাতেও আমাদের ডিউটি থাকে। অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে আমরা সেই দায়িত্ব পালন করছি। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নারী পুলিশরা কর্মক্ষেত্রেও সফল। তবে নারী পুলিশদের সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা এখনও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই চলছে। সাধারণ জনগণ অনেক ক্ষেত্রে একজন পুরুষ পুলিশকে যেভাবে নিচ্ছেন, একজন নারী পুলিশকে সেভাবে নেন না। এ প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েই নারী পুলিশরা এগিয়ে যাচ্ছেন।