জীবন রসিকতায় পূর্ণ রহস্যময় : আন্দ্রেয়া
jugantor
জীবন রসিকতায় পূর্ণ রহস্যময় : আন্দ্রেয়া

  সাব্বিন হাসান  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা বিশ্বেই এখন শুধু ‘আন্দ্রেয়া’ নামে বিখ্যাত। পুরো নাম আন্দ্রেয়া মিয়া গেজ। জন্ম ১৯৬৫ সালের ১৬ জুন। জন্মস্থান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর। বর্তমানে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল জয়ে আলোচিত।

মূলত মার্কিন জ্যোতির্বিদ হিসেবে সুপরিচিত। শিক্ষকতা করছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান আর জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে। তার গবেষণার মূল উপাত্ত মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রকে ঘিরে অবিরত শক্তি রহস্য অনুসন্ধান।

২০২০ সালের পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল ঘোষণার পর তিনি-ই হলেন পদার্থ বিজ্ঞানের নোবেল পাওয়া চতুর্থ নারী। ব্যক্তিজীবনে আন্দ্রেয়া র‌্যান্ড কর্পোরেশনের ভূতাত্ত্বিক এবং গবেষণা বিজ্ঞানী টম লাটুরিটিকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে দুটি ছেলে আছে। আন্দ্রেয়া মাস্টার্স সুইম ক্লাবের একজন নিয়মিত সাঁতারু।

শৈশবেই তার পরিবার নিউইয়র্ক থেকে শিকাগো শহরে চলে আসে। পরে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। অ্যাপোলো প্রোগ্রাম ‘মুন’ অবতরণ আন্দ্রেয়াকে নারী নভোচারী হতে অনুপ্রাণিত করে। পরে তার মা সেই লক্ষ্য অর্জনে তাকে সবসময় উৎসাহ জুগিয়েছেন। আন্দ্রেয়ার রোল মডেল ছিলেন তার কলেজের রসায়ন শিক্ষক।

যদিও গণিত বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণের উদ্দেশ্যে কলেজজীবনের সূচনা করেছিলেন। তবে দ্রুত-ই তার আগ্রহ আর উদ্দীপনা পদার্থ বিজ্ঞানে ঝুঁকে যায়। ১৯৮৭ সালে ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পদার্থবিদ্যায় øাতক করেন। পরে ১৯৯২ সালে একই বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

তারকা কক্ষপথে ‘ব্ল্যাক হোল’ হিসেবে স্বীকৃত একটি সুপারম্যাসিভ কমপ্যাক্ট অবজেক্ট আবিষ্কার করার জন্য আন্দ্রেয়া এবং গেনজলকে এবার পদার্থে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

তবে কৃষ্ণগহ্বর (ব্ল্যাক হোল) বিষয়ে তাদের গবেষণা আর উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল দেয়া হয় যৌথভাবে তিন বিজ্ঞানীকে। তারা হলেন- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রজার পেনরোজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী রেইনহার্ড গেনজেল আর আন্দ্রেয়া গেজ।

২০২০ সালের নোবেল পুরস্কারের ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনারের মধ্যে অর্ধেক পাবেন রজার পেনরোজ, আর বাকি অর্ধেক সমানভাবে পাবেন গেনজেল আর আন্দ্রেয়া গেজ।

বিজ্ঞানের ভাষায়, কৃষ্ণগহ্বর গঠনে আপেক্ষিক তত্ত্বের শক্তিশালী পূর্বাভাস আবিষ্কার আর মহাকাশে ছায়াপথের কেন্দ্রে সুপারম্যাসিভ কমপ্যাক্ট অবজেক্ট আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের নোবেল দেয়া হয়।

মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় বিষয় কৃষ্ণগহ্বর, যা নিয়ে গবেষণা তত্ত্বের জন্য তিন বিজ্ঞানীকে এবারে যৌথভাবে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার দেয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা আসে। যাদের মধ্যে রজার পেনরোজ গবেষণায় বলেছেন, আপেক্ষিকতার তত্ত্বটি ব্ল্যাক হোল গঠনে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে রেইনহার্ড গেনজেল আর আন্দ্রেয়া গেজ গবেষণার মাধ্যমে তথ্যচিত্র-উপাত্তে উপস্থাপন করেন, একটি অদৃশ্য আর শক্তিশালী ভারী বস্তু মহাকাশ ছায়াপথের কেন্দ্রস্থলে তারকাদের কক্ষপথগুলোকে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করছে- এটিই ব্ল্যাক হোলের সবশেষ ব্যাখ্যা।

ডিসকভারি চ্যানেল, বিবিসি এবং দ্য হিস্ট্রি চ্যানেলের মতো বিশ্বনন্দিত টিভি চ্যানেল নির্মিত বহু টেলিভিশন ডকুমেন্টরিতে আন্দ্রেয়া মহাকাশ রহস্য নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ২০০৬ সালে তিনি পিবিএস সিরিজের নোভা একটি পর্বে গবেষকের ভূমিকায় অভিনয় করেন।

২০০০ সালে দ্য মাই হিরো প্রজেক্ট আন্দ্রেয়াকে ‘সায়েন্স হিরো’ হিসেবে অভিহিত করে। আবিষ্কারবিষয়ক ম্যাগাজিনটি আন্দ্রেয়াকে ২০ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তরুণ মার্কিন বিজ্ঞানীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। মহাকাশ তারকা (স্টার) পথের গবেষণায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৪ সালে আন্দ্রেয়াকে জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমি বিশেষভাবে সম্মানিত করে। ২০১৯ সালে তিনি আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির (এপিএস) ফেলো নির্বাচিত হন।

আন্দ্রেয়া গবেষক হিসেবে উচ্চস্থানিক রেজ্যুলেশন ইমেজিং কৌশল ব্যবহার করেন। যেমন- কিক টেলিস্কোপগুলোয় অভিযোজিত অপটিক্স সিস্টেমটি ব্যবহার করে, স্টার (তারা) তৈরির অঞ্চলগুলো এবং (স্যাগিটেরিয়াস এ*) নামে পরিচিত মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল বিষয়ে অধিকতর গবেষণা পরিচালনা করেন। স্টার (তারা) নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটি গবেষণার জন্য মিল্কিওয়ের কেন্দ্রস্থলে তারাদের নিত্যনতুন গতিবিজ্ঞান সূত্র উন্মোচনে আজও নিরলস কাজ করে চলেছেন।

ইচ্ছাশক্তি অদম্য। যদি তা বাস্তবায়নে নিজের মেধা-বুদ্ধি উৎসর্গ করা সম্ভব হয়। পৃথিবী রহস্যের অন্তর্জালে আবর্তিত। জীবনও রসিকতায় ভরা রহস্যময়। জয়-পরাজয়, অর্জন-বিসর্জন, পাওয়া ও না-পাওয়া- সবকিছুই নিয়তির ওপর নির্ভরশীল নয়। মানুষ হিসেবে মানবিকতা, সহমর্মিতা আর জীবনবোধ চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলেই কেবল জীবনরহস্যের প্রকৃত উপলব্ধি অনুভব করা সম্ভব। মহাকাশ রহস্যের অনন্য গবেষক আন্দ্রেয়া গেজ এভাবেই নিজের উপলব্ধির কথাগুলো সরল ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন।

জীবন রসিকতায় পূর্ণ রহস্যময় : আন্দ্রেয়া

 সাব্বিন হাসান 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা বিশ্বেই এখন শুধু ‘আন্দ্রেয়া’ নামে বিখ্যাত। পুরো নাম আন্দ্রেয়া মিয়া গেজ। জন্ম ১৯৬৫ সালের ১৬ জুন। জন্মস্থান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর। বর্তমানে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল জয়ে আলোচিত।

মূলত মার্কিন জ্যোতির্বিদ হিসেবে সুপরিচিত। শিক্ষকতা করছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান আর জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে। তার গবেষণার মূল উপাত্ত মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রকে ঘিরে অবিরত শক্তি রহস্য অনুসন্ধান।

২০২০ সালের পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল ঘোষণার পর তিনি-ই হলেন পদার্থ বিজ্ঞানের নোবেল পাওয়া চতুর্থ নারী। ব্যক্তিজীবনে আন্দ্রেয়া র‌্যান্ড কর্পোরেশনের ভূতাত্ত্বিক এবং গবেষণা বিজ্ঞানী টম লাটুরিটিকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে দুটি ছেলে আছে। আন্দ্রেয়া মাস্টার্স সুইম ক্লাবের একজন নিয়মিত সাঁতারু।

শৈশবেই তার পরিবার নিউইয়র্ক থেকে শিকাগো শহরে চলে আসে। পরে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। অ্যাপোলো প্রোগ্রাম ‘মুন’ অবতরণ আন্দ্রেয়াকে নারী নভোচারী হতে অনুপ্রাণিত করে। পরে তার মা সেই লক্ষ্য অর্জনে তাকে সবসময় উৎসাহ জুগিয়েছেন। আন্দ্রেয়ার রোল মডেল ছিলেন তার কলেজের রসায়ন শিক্ষক।

যদিও গণিত বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণের উদ্দেশ্যে কলেজজীবনের সূচনা করেছিলেন। তবে দ্রুত-ই তার আগ্রহ আর উদ্দীপনা পদার্থ বিজ্ঞানে ঝুঁকে যায়। ১৯৮৭ সালে ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পদার্থবিদ্যায় øাতক করেন। পরে ১৯৯২ সালে একই বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

তারকা কক্ষপথে ‘ব্ল্যাক হোল’ হিসেবে স্বীকৃত একটি সুপারম্যাসিভ কমপ্যাক্ট অবজেক্ট আবিষ্কার করার জন্য আন্দ্রেয়া এবং গেনজলকে এবার পদার্থে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

তবে কৃষ্ণগহ্বর (ব্ল্যাক হোল) বিষয়ে তাদের গবেষণা আর উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল দেয়া হয় যৌথভাবে তিন বিজ্ঞানীকে। তারা হলেন- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রজার পেনরোজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী রেইনহার্ড গেনজেল আর আন্দ্রেয়া গেজ।

২০২০ সালের নোবেল পুরস্কারের ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনারের মধ্যে অর্ধেক পাবেন রজার পেনরোজ, আর বাকি অর্ধেক সমানভাবে পাবেন গেনজেল আর আন্দ্রেয়া গেজ।

বিজ্ঞানের ভাষায়, কৃষ্ণগহ্বর গঠনে আপেক্ষিক তত্ত্বের শক্তিশালী পূর্বাভাস আবিষ্কার আর মহাকাশে ছায়াপথের কেন্দ্রে সুপারম্যাসিভ কমপ্যাক্ট অবজেক্ট আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের নোবেল দেয়া হয়।

মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় বিষয় কৃষ্ণগহ্বর, যা নিয়ে গবেষণা তত্ত্বের জন্য তিন বিজ্ঞানীকে এবারে যৌথভাবে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার দেয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা আসে। যাদের মধ্যে রজার পেনরোজ গবেষণায় বলেছেন, আপেক্ষিকতার তত্ত্বটি ব্ল্যাক হোল গঠনে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে রেইনহার্ড গেনজেল আর আন্দ্রেয়া গেজ গবেষণার মাধ্যমে তথ্যচিত্র-উপাত্তে উপস্থাপন করেন, একটি অদৃশ্য আর শক্তিশালী ভারী বস্তু মহাকাশ ছায়াপথের কেন্দ্রস্থলে তারকাদের কক্ষপথগুলোকে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করছে- এটিই ব্ল্যাক হোলের সবশেষ ব্যাখ্যা।

ডিসকভারি চ্যানেল, বিবিসি এবং দ্য হিস্ট্রি চ্যানেলের মতো বিশ্বনন্দিত টিভি চ্যানেল নির্মিত বহু টেলিভিশন ডকুমেন্টরিতে আন্দ্রেয়া মহাকাশ রহস্য নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ২০০৬ সালে তিনি পিবিএস সিরিজের নোভা একটি পর্বে গবেষকের ভূমিকায় অভিনয় করেন।

২০০০ সালে দ্য মাই হিরো প্রজেক্ট আন্দ্রেয়াকে ‘সায়েন্স হিরো’ হিসেবে অভিহিত করে। আবিষ্কারবিষয়ক ম্যাগাজিনটি আন্দ্রেয়াকে ২০ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তরুণ মার্কিন বিজ্ঞানীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। মহাকাশ তারকা (স্টার) পথের গবেষণায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৪ সালে আন্দ্রেয়াকে জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমি বিশেষভাবে সম্মানিত করে। ২০১৯ সালে তিনি আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির (এপিএস) ফেলো নির্বাচিত হন।

আন্দ্রেয়া গবেষক হিসেবে উচ্চস্থানিক রেজ্যুলেশন ইমেজিং কৌশল ব্যবহার করেন। যেমন- কিক টেলিস্কোপগুলোয় অভিযোজিত অপটিক্স সিস্টেমটি ব্যবহার করে, স্টার (তারা) তৈরির অঞ্চলগুলো এবং (স্যাগিটেরিয়াস এ*) নামে পরিচিত মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল বিষয়ে অধিকতর গবেষণা পরিচালনা করেন। স্টার (তারা) নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটি গবেষণার জন্য মিল্কিওয়ের কেন্দ্রস্থলে তারাদের নিত্যনতুন গতিবিজ্ঞান সূত্র উন্মোচনে আজও নিরলস কাজ করে চলেছেন।

ইচ্ছাশক্তি অদম্য। যদি তা বাস্তবায়নে নিজের মেধা-বুদ্ধি উৎসর্গ করা সম্ভব হয়। পৃথিবী রহস্যের অন্তর্জালে আবর্তিত। জীবনও রসিকতায় ভরা রহস্যময়। জয়-পরাজয়, অর্জন-বিসর্জন, পাওয়া ও না-পাওয়া- সবকিছুই নিয়তির ওপর নির্ভরশীল নয়। মানুষ হিসেবে মানবিকতা, সহমর্মিতা আর জীবনবোধ চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলেই কেবল জীবনরহস্যের প্রকৃত উপলব্ধি অনুভব করা সম্ভব। মহাকাশ রহস্যের অনন্য গবেষক আন্দ্রেয়া গেজ এভাবেই নিজের উপলব্ধির কথাগুলো সরল ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন।