শিক্ষাই আমাদের বড় হাতিয়ার
jugantor
শিক্ষাই আমাদের বড় হাতিয়ার

  শিল্পী নাগ  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং ২০৪১ সালের মধ্যে শিশুবিয়ে বন্ধের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশে আরও পরিবর্তন আনতে হবে। জাতীয় লক্ষ্য পূরণের জন্য শিশুবিয়ে বন্ধের হারে অগ্রগতি গত দশকের তুলনায় কমপক্ষে ৮ গুণ। এসডিজির লক্ষ্য পূরণের জন্য ১৭ গুণ দ্রুততর করতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই শিশুবিয়ের প্রচলন সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যেও রয়েছে দেশটি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে ইউনিসেফের উপ-প্রতিনিধি ভিরামেন্ডোনকা বলেন, একসঙ্গে আমাদের অবশ্যই ক্ষতিকর রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে। শিশুবিয়ে বন্ধ করতে হবে। মানবাধিকারের এই লঙ্ঘন ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি বয়ে আনছে। যা শিশুদের কাছ থেকে তাদের শৈশব ছিনিয়ে নিচ্ছে এবং নিজের পছন্দের জীবন বেছে নেয়ার সুযোগ সীমিত করে দিচ্ছে। মেয়েদের বেঁচে থাকা ও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে এবং তাদের সহিংসতা ও নিগৃহের শিকার হওয়া কমাতে আমাদের এখনই বিনিয়োগ করতে হবে।

যদিও বাংলাদেশে শিশুবিয়ের প্রবণতা ১৯৭০ সালের তুলনায় ৯০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। তা সত্ত্বেও এখনও এ হার অনেক বেশি। বর্তমানে ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের ৫১ শতাংশের বিয়ে হয়েছে তারা শিশু থাকা অবস্থাতেই। এটি এ দেশকে ৩ কোটি ৮০ লাখ শিশুকনের দেশে পরিণত করেছে। যাদের বিয়ে হয়েছে তাদের ১৮তম জন্মদিনের আগেই। আবার এদের মধ্যে ১ কোটি ৩০ লাখ মেয়ের বিয়ে হয়েছে তাদের বয়স ১৫ বছর হওয়ার আগেই।

কোভিড-১৯ মহামারী এখন শিশুবিয়ে বন্ধে অগ্রগতিকে আবারও পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হওয়া, পরিবারের আয় কমে যাচ্ছে তখনই শিশুবিয়ের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাল্টি-সেক্টোরাল প্রোগ্র্যাম টু অ্যান্ড ভায়োলেন্স এগেইনস্ট ওমেনের প্রকল্প পরিচালক আবুল হোসেনের মতে, মেয়েদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে তাদের অবশ্যই আবার পড়াশোনায় ফিরে যেতে উৎসাহ দিতে হবে। তারা গ্রামে বসবাসকারী এবং দরিদ্র পরিবারের সদস্য হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের পরে পড়াশোনা করা মেয়েদের ক্ষেত্রে শিশুকনে হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম থাকে। তাই সমাজকে পরিবর্তন এবং মেয়েদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে শিক্ষাই আমাদের বড় হাতিয়ার।

শিক্ষাই আমাদের বড় হাতিয়ার

 শিল্পী নাগ 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং ২০৪১ সালের মধ্যে শিশুবিয়ে বন্ধের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশে আরও পরিবর্তন আনতে হবে। জাতীয় লক্ষ্য পূরণের জন্য শিশুবিয়ে বন্ধের হারে অগ্রগতি গত দশকের তুলনায় কমপক্ষে ৮ গুণ। এসডিজির লক্ষ্য পূরণের জন্য ১৭ গুণ দ্রুততর করতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই শিশুবিয়ের প্রচলন সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যেও রয়েছে দেশটি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে ইউনিসেফের উপ-প্রতিনিধি ভিরামেন্ডোনকা বলেন, একসঙ্গে আমাদের অবশ্যই ক্ষতিকর রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে। শিশুবিয়ে বন্ধ করতে হবে। মানবাধিকারের এই লঙ্ঘন ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি বয়ে আনছে। যা শিশুদের কাছ থেকে তাদের শৈশব ছিনিয়ে নিচ্ছে এবং নিজের পছন্দের জীবন বেছে নেয়ার সুযোগ সীমিত করে দিচ্ছে। মেয়েদের বেঁচে থাকা ও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে এবং তাদের সহিংসতা ও নিগৃহের শিকার হওয়া কমাতে আমাদের এখনই বিনিয়োগ করতে হবে।

যদিও বাংলাদেশে শিশুবিয়ের প্রবণতা ১৯৭০ সালের তুলনায় ৯০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। তা সত্ত্বেও এখনও এ হার অনেক বেশি। বর্তমানে ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের ৫১ শতাংশের বিয়ে হয়েছে তারা শিশু থাকা অবস্থাতেই। এটি এ দেশকে ৩ কোটি ৮০ লাখ শিশুকনের দেশে পরিণত করেছে। যাদের বিয়ে হয়েছে তাদের ১৮তম জন্মদিনের আগেই। আবার এদের মধ্যে ১ কোটি ৩০ লাখ মেয়ের বিয়ে হয়েছে তাদের বয়স ১৫ বছর হওয়ার আগেই।

কোভিড-১৯ মহামারী এখন শিশুবিয়ে বন্ধে অগ্রগতিকে আবারও পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হওয়া, পরিবারের আয় কমে যাচ্ছে তখনই শিশুবিয়ের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাল্টি-সেক্টোরাল প্রোগ্র্যাম টু অ্যান্ড ভায়োলেন্স এগেইনস্ট ওমেনের প্রকল্প পরিচালক আবুল হোসেনের মতে, মেয়েদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে তাদের অবশ্যই আবার পড়াশোনায় ফিরে যেতে উৎসাহ দিতে হবে। তারা গ্রামে বসবাসকারী এবং দরিদ্র পরিবারের সদস্য হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের পরে পড়াশোনা করা মেয়েদের ক্ষেত্রে শিশুকনে হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম থাকে। তাই সমাজকে পরিবর্তন এবং মেয়েদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে শিক্ষাই আমাদের বড় হাতিয়ার।