এভাবেই আজও বেঁচে আছে মানবতা
jugantor
এভাবেই আজও বেঁচে আছে মানবতা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের এক গলির রাস্তার মোড় দিয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ চোখ পড়ল একটি লাইটপোস্টে। লাইটপোস্টে একটি কাগজ ঝুলছে। উৎসাহ নিয়ে সামনে এগিয়ে গেলাম।

কাগজের গায়ে লেখা, আমার ৫০ টাকার একটি নোট এখানে হারিয়ে গেছে। আপনারা যদি কেউ খুঁজে পান তবে আমাকে সেটি পৌঁছে দিলে বাধিত হব। আমি একজন বয়স্ক নারী। চোখে খুব কম দেখি। তারপর নিচে একটি ঠিকানা।

এরপর আমি খুঁজে খুঁজে ওই ঠিকানায় গেলাম। হাঁটাপথে মিনিট পাঁচেক। গিয়ে দেখি একটি জরাজীর্ণ বাড়ির উঠানে এক বয়স্ক বিধবা বসে আছেন। চুলে মেহেদি রং। অশীতিপর বৃদ্ধা। বয়সের ভারে ন্যুব্জ, মুখে গভীর বলিরেখা। আমার পায়ের আওয়াজ শুনে সুতা প্যাঁচানো ভাঙা ডাঁটের চশমার ভেতর দিয়ে তাকিয়ে জিজ্ঞেসা করলেন, কে এসেছ?

আমি বললাম, মা, আমি রাস্তায় আপনার ৫০ টাকা খুঁজে পেয়েছি। সেটি ফেরত দিতে এসেছি।

একথা শুনে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, বাবা, এ পর্যন্ত অন্তত ৩০-৪০ জন আমার কাছে এসেছে। আমাকে ৫০ টাকা করে দিয়ে বলেছে তারা এটি রাস্তায় খুঁজে পেয়েছে। বাবা, আমি কোনো টাকা হারাইনি। ওই লেখাগুলোও লিখিনি। আমি খুব একটা পড়ালেখা জানিও না।

আমি বললাম, সে যাইহোক সন্তান মনে করে আপনি টাকাটা রেখে দিন। আমার কথা শোনার পর টাকাটা নিয়ে বললেন, বাবা আমি খুব গরিব, কি যে তোমায় খেতে দি! একটু বসো। একটু পানি অন্তত খাও। ঘরে গিয়ে তিনি এক গ্লাস পানি এনে দিলেন। ফেরার সময় তিনি বললেন, বাবা, একটা অনুরোধ, যাওয়ার সময় তুমি ওই কাগজটি ছিঁড়ে ফেল। সত্যি আমি লিখিনি।

তার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মনে মনে ভাবছিলাম, সবাইকে তিনি বলার পরেও কেউ ওই কাগজটি ছিঁড়েননি! আর ভাবছিলাম ওই মানুষটির কথা, যিনি এ কথাটি লিখেছেন। এ সহায়-সম্বলহীন বয়স্ক নারীকে সাহায্য করার জন্য এত সুন্দর উপায় বের করেছেন। এজন্য তাকে মনে মনে ধন্যবাদ দিলাম। হঠাৎ ভাবনায় ছেদ পড়লো একজন পথচারীর কথায়।

তিনি বললেন, ভাই, এ ঠিকানাটা কোথায় বলতে পারেন, আমি একটি ৫০ টাকার নোট পেয়েছি, এটি ওনাকে ফেরত দিতে চাই। ঠিকানাটা দেখিয়ে দিলাম। আমার চোখে জলে ভিজে গেল। আর আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বললাম, দুনিয়া থেকে মানবতা শেষ হয়ে যায়নি!

*সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে

এভাবেই আজও বেঁচে আছে মানবতা

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের এক গলির রাস্তার মোড় দিয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ চোখ পড়ল একটি লাইটপোস্টে। লাইটপোস্টে একটি কাগজ ঝুলছে। উৎসাহ নিয়ে সামনে এগিয়ে গেলাম।

কাগজের গায়ে লেখা, আমার ৫০ টাকার একটি নোট এখানে হারিয়ে গেছে। আপনারা যদি কেউ খুঁজে পান তবে আমাকে সেটি পৌঁছে দিলে বাধিত হব। আমি একজন বয়স্ক নারী। চোখে খুব কম দেখি। তারপর নিচে একটি ঠিকানা।

এরপর আমি খুঁজে খুঁজে ওই ঠিকানায় গেলাম। হাঁটাপথে মিনিট পাঁচেক। গিয়ে দেখি একটি জরাজীর্ণ বাড়ির উঠানে এক বয়স্ক বিধবা বসে আছেন। চুলে মেহেদি রং। অশীতিপর বৃদ্ধা। বয়সের ভারে ন্যুব্জ, মুখে গভীর বলিরেখা। আমার পায়ের আওয়াজ শুনে সুতা প্যাঁচানো ভাঙা ডাঁটের চশমার ভেতর দিয়ে তাকিয়ে জিজ্ঞেসা করলেন, কে এসেছ?

আমি বললাম, মা, আমি রাস্তায় আপনার ৫০ টাকা খুঁজে পেয়েছি। সেটি ফেরত দিতে এসেছি।

একথা শুনে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, বাবা, এ পর্যন্ত অন্তত ৩০-৪০ জন আমার কাছে এসেছে। আমাকে ৫০ টাকা করে দিয়ে বলেছে তারা এটি রাস্তায় খুঁজে পেয়েছে। বাবা, আমি কোনো টাকা হারাইনি। ওই লেখাগুলোও লিখিনি। আমি খুব একটা পড়ালেখা জানিও না।

আমি বললাম, সে যাইহোক সন্তান মনে করে আপনি টাকাটা রেখে দিন। আমার কথা শোনার পর টাকাটা নিয়ে বললেন, বাবা আমি খুব গরিব, কি যে তোমায় খেতে দি! একটু বসো। একটু পানি অন্তত খাও। ঘরে গিয়ে তিনি এক গ্লাস পানি এনে দিলেন। ফেরার সময় তিনি বললেন, বাবা, একটা অনুরোধ, যাওয়ার সময় তুমি ওই কাগজটি ছিঁড়ে ফেল। সত্যি আমি লিখিনি।

তার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মনে মনে ভাবছিলাম, সবাইকে তিনি বলার পরেও কেউ ওই কাগজটি ছিঁড়েননি! আর ভাবছিলাম ওই মানুষটির কথা, যিনি এ কথাটি লিখেছেন। এ সহায়-সম্বলহীন বয়স্ক নারীকে সাহায্য করার জন্য এত সুন্দর উপায় বের করেছেন। এজন্য তাকে মনে মনে ধন্যবাদ দিলাম। হঠাৎ ভাবনায় ছেদ পড়লো একজন পথচারীর কথায়।

তিনি বললেন, ভাই, এ ঠিকানাটা কোথায় বলতে পারেন, আমি একটি ৫০ টাকার নোট পেয়েছি, এটি ওনাকে ফেরত দিতে চাই। ঠিকানাটা দেখিয়ে দিলাম। আমার চোখে জলে ভিজে গেল। আর আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বললাম, দুনিয়া থেকে মানবতা শেষ হয়ে যায়নি!

* সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে