অপরাধী আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে যাবে না তো!
jugantor
অপরাধী আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে যাবে না তো!

  রীতা ভৌমিক  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার এবং এ বিষয়ে যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাব, নারীর প্রতি সংবেদনশীলতার অভাব ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাব নির্যাতিত নারী ও শিশুর ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিচার কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে নির্যাতনের শিকার নারী ও তার পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

এ হতাশাকে কাটিয়ে একটু আশার আলো দেখা গেছে। বাগেরহাটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ এক সপ্তাহের মধ্যে সাত বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বিধানসংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংশোধিত আইনে কার্যকর হয়েছে।

নতুন এ অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু শাস্তি ইত্যাদি প্রসঙ্গে ৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি এতদিন ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

তবে ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা আহত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। সেসঙ্গে উভয় ক্ষেত্রেই ন্যূনতম এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে। সেই আইনেই পরিবর্তন এনে ধর্ষণ প্রমাণিত হলেই মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রাখা হয়েছে। সেসঙ্গে অর্থদণ্ডের বিধানও থাকছে।

প্রথমে ২০০০ সালে জারি করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৩৪টি ধারার মধ্যে ১২টি ধারাতেই বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান ছিল। পরবর্তীকালে এসিড নিয়ন্ত্রণ ও মানবপাচারসংক্রান্ত দু’টি আইনের অংশ আলাদা হয়ে যাওয়ার পর এ আইন থেকে বাদ দেয়া হয়। ফলে এ আইনের ৭টি ধারায় মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি বহাল থাকে।

নতুন অধ্যাদেশে ৯ (১) ধারাটি সংশোধন করে যাবজ্জীবন অথবা মৃত্যুদণ্ডের বিধান আনা হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের এক গৃহবধূকে (৩৭) ২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা নাগাদ ঘরে ঢুকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এরপর ৪ অক্টোবর ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেয়। ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন। একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে; দ্বিতীয়টি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে। দুই মামলাতে নয়জনকে আসামি করা হয়। নির্যাতনের শিকার এ গৃহবধূ পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বেগমগঞ্জে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ’র বাবা জানান, অপরাধীদের চাপের মুখে থাকায় ঘটনা দেরিতে প্রকাশ পায়। কেবল তা-ই নয়, অপরাধীরা তাকে গুলি করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলীর মতে, ১৬ বছরের নিচে মেয়ে অথবা কোনো গৃহপরিচারিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করলে তা ধর্ষণের শিকার বলে গণ্য হবে। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষিত কোনো নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেছে, এটি প্রমাণ করতে আইনের জটিলতা রয়েছে। ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির টু ফিঙ্গার পরীক্ষা, সাক্ষ্য আইনের পরিবর্তন, এফআরআই-এর সময় ধর্ষণের কথা উল্লেখ না করলেও ধর্ষণ মামলা করা যাবে। ধর্ষণ আইনের সংজ্ঞার পরিবর্তন দরকার। এটি বাধ্যতামূলক আইন করতে হবে। যৌন হয়রানি বন্ধের জন্য জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে ২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থে (রিট) মামলা দায়ের করি। এর-ই পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে গাইডলাইনের আলোকে একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়। এ নীতিমালার আলোকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধমূলক আইন তৈরি করে প্রয়োগ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। ২০০৯ সালে আদালত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমসহ সব প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের সংজ্ঞার ভেতর অস্বাভাবিক ধর্ষণগুলো যুক্ত করতে হবে। যেমন- যৌনাঙ্গে লাঠি, কাচের টুকরা বা আঙ্গুল ঢুকানো। মেডিকো লিগ্যাল রিপোর্টে এগুলোকে অস্বাভাবিক ধর্ষণ বলা হচ্ছে। ধর্ষণ প্রতিরোধ ও যৌন হয়রানি বন্ধে দ্রুত আইন প্রয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। ধর্ষণ আইনের সংজ্ঞাসহ অন্যান্য সংশোধন এবং সাক্ষ্য আইনের পরিবর্তন, সাক্ষ্য সুরক্ষা আইন নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার-ই পারবে ধর্ষণ কমাতে। এছাড়া ট্রাইব্যুনালদের জবাবদিহিতা যা রয়েছে তা কার্যকরী ও দৃশ্যমান হতে হবে।

এ আইনে বিধিমালার কথা বলা আছে। এ বিধিমালার মাধ্যমে আইন কার্যকরী করতে হবে। থানা এবং আদালত নারী ও শিশুবান্ধব হতে হবে। শক্ত মনিটরিং কমিটি থাকতে হবে। ধর্ষণ মামলাগুলো প্রতিটি কার্যদিবসে সম্পন্ন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। আসামি যেই হোক না কেন, তাকে শাস্তির আওতায় আনাই হল বড় জবাবদিহিতা। প্রশাসনের উচিত হবে, সব অপরাধীকে চিহ্নিত করা ও তাদের বিচারের আওতায় আনা।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, আইন থাকলেও এর অপব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে মিথ্যে হয়রানি করা হয়। এক্ষেত্রে পুলিশ, আইনজীবী ও বিচারকের দায়িত্ব হবে- মিথ্যে মামলাগুলো যেন আদালত পর্যন্ত না গড়ায়। আদালতে গেলেও যাতে ভুক্তভোগী হয়রানির শিকার না হন। শুধু সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন করলেই হবে না। এ ধর্ষণ সংস্কৃতির রাজনীতি ও আধিপত্যের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এজন্য শিক্ষাব্যবস্থা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, সমাজে রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের উত্তরাধিকারে সমানাধিকারের ব্যবস্থা করতে হবে; যাতে পরিবার থেকেই নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। সংবিধানে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। সেই অনুযায়ী মানসিকতা তৈরি করা ও পুরুষের মন-মানসিকতা থেকে আধিপত্যবাদের চিন্তাভাবনা দূর করার এটি মূল জায়গা। আমাদের এ জায়গায় কাজ করতে হবে।

অপরাধী আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে যাবে না তো!

 রীতা ভৌমিক 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার এবং এ বিষয়ে যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাব, নারীর প্রতি সংবেদনশীলতার অভাব ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাব নির্যাতিত নারী ও শিশুর ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিচার কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে নির্যাতনের শিকার নারী ও তার পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

এ হতাশাকে কাটিয়ে একটু আশার আলো দেখা গেছে। বাগেরহাটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ এক সপ্তাহের মধ্যে সাত বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণ মামলায় ধর্ষককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বিধানসংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংশোধিত আইনে কার্যকর হয়েছে।

নতুন এ অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু শাস্তি ইত্যাদি প্রসঙ্গে ৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি এতদিন ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

তবে ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা আহত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। সেসঙ্গে উভয় ক্ষেত্রেই ন্যূনতম এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে। সেই আইনেই পরিবর্তন এনে ধর্ষণ প্রমাণিত হলেই মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রাখা হয়েছে। সেসঙ্গে অর্থদণ্ডের বিধানও থাকছে।

প্রথমে ২০০০ সালে জারি করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৩৪টি ধারার মধ্যে ১২টি ধারাতেই বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান ছিল। পরবর্তীকালে এসিড নিয়ন্ত্রণ ও মানবপাচারসংক্রান্ত দু’টি আইনের অংশ আলাদা হয়ে যাওয়ার পর এ আইন থেকে বাদ দেয়া হয়। ফলে এ আইনের ৭টি ধারায় মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি বহাল থাকে।

নতুন অধ্যাদেশে ৯ (১) ধারাটি সংশোধন করে যাবজ্জীবন অথবা মৃত্যুদণ্ডের বিধান আনা হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের এক গৃহবধূকে (৩৭) ২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা নাগাদ ঘরে ঢুকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এরপর ৪ অক্টোবর ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেয়। ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন। একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে; দ্বিতীয়টি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে। দুই মামলাতে নয়জনকে আসামি করা হয়। নির্যাতনের শিকার এ গৃহবধূ পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বেগমগঞ্জে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ’র বাবা জানান, অপরাধীদের চাপের মুখে থাকায় ঘটনা দেরিতে প্রকাশ পায়। কেবল তা-ই নয়, অপরাধীরা তাকে গুলি করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলীর মতে, ১৬ বছরের নিচে মেয়ে অথবা কোনো গৃহপরিচারিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করলে তা ধর্ষণের শিকার বলে গণ্য হবে। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষিত কোনো নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেছে, এটি প্রমাণ করতে আইনের জটিলতা রয়েছে। ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির টু ফিঙ্গার পরীক্ষা, সাক্ষ্য আইনের পরিবর্তন, এফআরআই-এর সময় ধর্ষণের কথা উল্লেখ না করলেও ধর্ষণ মামলা করা যাবে। ধর্ষণ আইনের সংজ্ঞার পরিবর্তন দরকার। এটি বাধ্যতামূলক আইন করতে হবে। যৌন হয়রানি বন্ধের জন্য জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে ২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থে (রিট) মামলা দায়ের করি। এর-ই পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে গাইডলাইনের আলোকে একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়। এ নীতিমালার আলোকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধমূলক আইন তৈরি করে প্রয়োগ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। ২০০৯ সালে আদালত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমসহ সব প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের সংজ্ঞার ভেতর অস্বাভাবিক ধর্ষণগুলো যুক্ত করতে হবে। যেমন- যৌনাঙ্গে লাঠি, কাচের টুকরা বা আঙ্গুল ঢুকানো। মেডিকো লিগ্যাল রিপোর্টে এগুলোকে অস্বাভাবিক ধর্ষণ বলা হচ্ছে। ধর্ষণ প্রতিরোধ ও যৌন হয়রানি বন্ধে দ্রুত আইন প্রয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। ধর্ষণ আইনের সংজ্ঞাসহ অন্যান্য সংশোধন এবং সাক্ষ্য আইনের পরিবর্তন, সাক্ষ্য সুরক্ষা আইন নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার-ই পারবে ধর্ষণ কমাতে। এছাড়া ট্রাইব্যুনালদের জবাবদিহিতা যা রয়েছে তা কার্যকরী ও দৃশ্যমান হতে হবে।

এ আইনে বিধিমালার কথা বলা আছে। এ বিধিমালার মাধ্যমে আইন কার্যকরী করতে হবে। থানা এবং আদালত নারী ও শিশুবান্ধব হতে হবে। শক্ত মনিটরিং কমিটি থাকতে হবে। ধর্ষণ মামলাগুলো প্রতিটি কার্যদিবসে সম্পন্ন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। আসামি যেই হোক না কেন, তাকে শাস্তির আওতায় আনাই হল বড় জবাবদিহিতা। প্রশাসনের উচিত হবে, সব অপরাধীকে চিহ্নিত করা ও তাদের বিচারের আওতায় আনা।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, আইন থাকলেও এর অপব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে মিথ্যে হয়রানি করা হয়। এক্ষেত্রে পুলিশ, আইনজীবী ও বিচারকের দায়িত্ব হবে- মিথ্যে মামলাগুলো যেন আদালত পর্যন্ত না গড়ায়। আদালতে গেলেও যাতে ভুক্তভোগী হয়রানির শিকার না হন। শুধু সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন করলেই হবে না। এ ধর্ষণ সংস্কৃতির রাজনীতি ও আধিপত্যের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এজন্য শিক্ষাব্যবস্থা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, সমাজে রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের উত্তরাধিকারে সমানাধিকারের ব্যবস্থা করতে হবে; যাতে পরিবার থেকেই নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। সংবিধানে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। সেই অনুযায়ী মানসিকতা তৈরি করা ও পুরুষের মন-মানসিকতা থেকে আধিপত্যবাদের চিন্তাভাবনা দূর করার এটি মূল জায়গা। আমাদের এ জায়গায় কাজ করতে হবে।