শরনার্থী থেকে ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী বেলকাসেম
jugantor
শরনার্থী থেকে ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী বেলকাসেম

  রকিবুল হাসান  

৩০ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নাজাত বেলকাসেম

নাজাত বেলকাসেম বহুবিধ গুণের অধিকারী। বুদ্ধি, প্রাজ্ঞতা দিয়ে তিনি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। একজন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে গণতন্ত্রের চর্চা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন।

নাগরিক অধিকার ও এমপ্লয়মেন্ট প্রবৃদ্ধি এবং গৃহায়ণ সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখেন। জেন্ডার আন্দোলন, ধর্ম নিরপেক্ষ চেতনার ধারক, নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে সুস্পষ্ট জনমত সৃষ্টি করেন।

ফরাসি জাতীয়তায় বিশ্বাসী এ নেতা ফ্রান্সের সোশ্যালিস্ট পার্টির উপদেষ্টা হন। ইস্পোস নামে একটি রাজনৈতিক গবেষণা ও পোলিং কমিশনে কাজ করেছেন। গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কমিশনের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সফলতার সঙ্গে ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ে দায়িত্ব পালন করেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচিত হন।

নাজাত বেলকাসেমের (নাজাত বিন কাশিম) জন্ম মরক্কোর ‘নদর’ গ্রামে ১৯৭৭ সালে। মাত্র ৫ বছর বয়সে তিনি তার বাবা-মা, সাত ভাইবোনের সঙ্গে ফ্রান্সে পাড়ি জমান। শুরু হয় তাদের দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ। তার বাবা বিন চেকার ফ্রান্সের অমেইন শহরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। চ্যালেঞ্জের সঙ্গে নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে থাকেন। এমনকি ভাষাও ভিন্ন। পরিবারের সবাই অমানুষিক পরিশ্রম করেন। এ পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তিনি (নাজাত) একজন অভিবাসী হিসেবে প্রথম থেকেই রাজনীতি নিয়ে ‘প্যারিস ইন্সটিউট অব পলিটিক্যাল স্টাডিজ’-এ গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সালে তিনি আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদের নারী কাউন্সিলর হন। কেন্দ্রীয় রাজনীতিবিদ সাগোলিন রয়ালের মুখপাত্র নিযুক্ত হন। সাগোলিন রয়াল ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফ্রান্সের সোশ্যালিস্ট পার্টির সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

রাজনীতি করতে করতে তিনি ফ্রান্সের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য ও সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ‘বরিস ভ্যাল্যুড’-এর প্রেমে পড়েন। ২০০৫ সালে তারা বিয়ে করেন। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০১২ সালে তিনি ফ্রান্সের নারীবিষয়ক মন্ত্রী হন। একজন অভিবাসী নারী হিসেবে উন্নত ফ্রান্সের নারী ও জেন্ডার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া অতটা সহজ ছিল না। তিনি অন্যান্য রাজনীতিবিদদের দ্বারা নানাবিধ যৌন ও বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হন। ফ্রান্স ও ইউরোপজুড়ে পতিতাবৃত্তি বিলুপ্তি করতে উদ্যোগ নিলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি ফ্রান্সকে ইসলামীকরণ করছেন! এরপরও তিনি সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই অব্যাহত রাখেন। এরপর তিনি ফ্রান্সের যুব মন্ত্রণালয়, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং নগর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পালন করেন।

নাজাত বেলকাসেম নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্ব দানে উৎসাহী করতে বলেছেন, যুবকদের অবশ্যই দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের অংশীদার হতে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে হবে। আপনার সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার শ্রেষ্ঠ উপায় হল রাজনীতিতে সাহসী অংশগ্রহণ জরুরি। কেবল ভাগ্যের নীরব দর্শক হওয়া যাবে না।

শরনার্থী থেকে ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী বেলকাসেম

 রকিবুল হাসান 
৩০ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
নাজাত বেলকাসেম
নাজাত বেলকাসেম

নাজাত বেলকাসেম বহুবিধ গুণের অধিকারী। বুদ্ধি, প্রাজ্ঞতা দিয়ে তিনি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। একজন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে গণতন্ত্রের চর্চা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন।

নাগরিক অধিকার ও এমপ্লয়মেন্ট প্রবৃদ্ধি এবং গৃহায়ণ সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখেন। জেন্ডার আন্দোলন, ধর্ম নিরপেক্ষ চেতনার ধারক, নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে সুস্পষ্ট জনমত সৃষ্টি করেন।

ফরাসি জাতীয়তায় বিশ্বাসী এ নেতা ফ্রান্সের সোশ্যালিস্ট পার্টির উপদেষ্টা হন। ইস্পোস নামে একটি রাজনৈতিক গবেষণা ও পোলিং কমিশনে কাজ করেছেন। গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কমিশনের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সফলতার সঙ্গে ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ে দায়িত্ব পালন করেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচিত হন।

নাজাত বেলকাসেমের (নাজাত বিন কাশিম) জন্ম মরক্কোর ‘নদর’ গ্রামে ১৯৭৭ সালে। মাত্র ৫ বছর বয়সে তিনি তার বাবা-মা, সাত ভাইবোনের সঙ্গে ফ্রান্সে পাড়ি জমান। শুরু হয় তাদের দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ। তার বাবা বিন চেকার ফ্রান্সের অমেইন শহরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। চ্যালেঞ্জের সঙ্গে নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে থাকেন। এমনকি ভাষাও ভিন্ন। পরিবারের সবাই অমানুষিক পরিশ্রম করেন। এ পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তিনি (নাজাত) একজন অভিবাসী হিসেবে প্রথম থেকেই রাজনীতি নিয়ে ‘প্যারিস ইন্সটিউট অব পলিটিক্যাল স্টাডিজ’-এ গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সালে তিনি আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদের নারী কাউন্সিলর হন। কেন্দ্রীয় রাজনীতিবিদ সাগোলিন রয়ালের মুখপাত্র নিযুক্ত হন। সাগোলিন রয়াল ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফ্রান্সের সোশ্যালিস্ট পার্টির সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

রাজনীতি করতে করতে তিনি ফ্রান্সের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য ও সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ‘বরিস ভ্যাল্যুড’-এর প্রেমে পড়েন। ২০০৫ সালে তারা বিয়ে করেন। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০১২ সালে তিনি ফ্রান্সের নারীবিষয়ক মন্ত্রী হন। একজন অভিবাসী নারী হিসেবে উন্নত ফ্রান্সের নারী ও জেন্ডার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া অতটা সহজ ছিল না। তিনি অন্যান্য রাজনীতিবিদদের দ্বারা নানাবিধ যৌন ও বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হন। ফ্রান্স ও ইউরোপজুড়ে পতিতাবৃত্তি বিলুপ্তি করতে উদ্যোগ নিলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি ফ্রান্সকে ইসলামীকরণ করছেন! এরপরও তিনি সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই অব্যাহত রাখেন। এরপর তিনি ফ্রান্সের যুব মন্ত্রণালয়, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং নগর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পালন করেন।

নাজাত বেলকাসেম নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্ব দানে উৎসাহী করতে বলেছেন, যুবকদের অবশ্যই দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের অংশীদার হতে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে হবে। আপনার সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার শ্রেষ্ঠ উপায় হল রাজনীতিতে সাহসী অংশগ্রহণ জরুরি। কেবল ভাগ্যের নীরব দর্শক হওয়া যাবে না।