আয়শা খানম স্মরণে বিশিষ্টজনেরা
jugantor
আয়শা খানম স্মরণে বিশিষ্টজনেরা
বাংলাদেশ নারী আন্দোলন ও মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী আয়শা খানমের প্রয়াণে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশিষ্টজনেরা যা বললেন-

   

১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারী জাগরণ অব্যাহত থাকবে : অ্যারোমা দত্ত এমপি

নির্বাহী পরিচালক, প্রিপ ট্রাস্ট

আয়শা খানমকে প্রথম দেখি ১৯৬৮ সালে। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর অসহযোগ আন্দোলনকে আমরা ধারণ করি, বহন করি। একজন নারী শক্ত ধনুকের মতো দাঁড়াবে এই দৃঢ়তা আমি তার মধ্যে দেখেছি। আয়শা খানম নারী আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে সবার কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। সেটি তিনি পেরেছেন। এজন্য তাকে প্রণতি জানাই। আয়শা খানম যে পথ আমাদের দেখিয়ে গেছেন সেই পথ ধরেই নারী জাগরণ অব্যাহত থাকবে। নারী আন্দোলন কখনোই শেষ হবে না।

নারী আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করেছেন : ডা. মাখদুমা নার্গিস

সহসভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ

নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আয়শা খানম ছিলেন একজন নিবেদিত যোদ্ধা। স্কুল জীবন থেকে তিনি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। সব প্রগতিশীল আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল। নির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী চেতনা ছিল তার। ইতিবাচক এবং নেতৃত্বসুলভ কাজের মধ্য দিয়ে তিনি নারী আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করেছেন। সব সামাজিক আন্দোলনকে বেগবান করতে তিনি আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন। বৈশ্বিক নারী আন্দোলনের সঙ্গে মহিলা পরিষদকে যুক্ত করতে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জোটবদ্ধভাবে আন্দোলন করতেন : রোকেয়া কবীর

নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আগরতলায় তার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা হয়। তিনি সবাইকে নিয়ে জোটবদ্ধভাবে আন্দোলন করতেন। আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন মনের মানুষ ছিলেন। সৌজন্যতাবোধ ছিল। কোন রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, সমাজকে কিভাবে অগ্রসর করতে হবে এ নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হতো। কেউ ভালো উদ্যোগ নিলে আয়শা খানম তাকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করতেন। তার কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে আমাদেরকেই।

নারীমুক্তির লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন : মফিদুল হক

লেখক ও প্রাবন্ধিক

১৯৬৭ সালের পথসভা থেকে আয়শা খানমকে চিনি। বাংলার নারীমুক্তির প্রয়াস নিয়ে তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন। নানা ঘাত-প্রতিঘাতে অনেকে পেশা বদল করেছেন। কিন্তু আয়শা খানম মহিলা পরিষদকে তীব্রভাবে আঁকড়ে ধরে নারীমুক্তির লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। আয়শা আপা ছিলেন অত্যন্ত দূরদর্শিতাসম্পন্ন। তার নেতৃত্বে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা এবং কাজ চালিয়ে যাওয়া ছিল সফলতার সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা। নারীমুক্তির আন্দোলনের নানা কাজে তিনি বড় প্রেরণা হয়ে থাকবেন।

অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তোলার কাজ করেছেন : ডা. ফওজিয়া মোসলেম

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ

আয়শা খানম তার জীবন দিয়ে দেখিয়ে গেছেন কীভাবে গুছিয়ে কাজ করতে হয়। তিনি সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে মহিলা পরিষদে কাজ করে গেছেন। ১৯৭২ সালে তিনি মহিলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হন। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে রাখী দাশ পুরকায়স্থ এবং আয়শা খানমের প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে। মহিলা পরিষদের ঐতিহ্যের ধারাকে বহন করে সমতাপূর্ণ, মানবিক, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তোলার কাজ করেছেন আয়শা খানম।

সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে : আমিরুল ইসলাম

ব্যারিস্টার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন

আয়শা খানমের আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে হবে। উন্নয়ন অনেক হয়েছে কিন্তু সমাজ আজ বিধ্বস্ত অবস্থায়। মানব কল্যাণই প্রকৃত উন্নয়ন। নারী আন্দোলনই পারে এই সমাজকে শান্তিতে সুবিচারের পথে এগিয়ে নিতে। যা আয়শা খানম দেখিয়ে গেছেন। সুফিয়া কামাল এবং আয়শা খানমের আদর্শকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

আমাদের অভিভাবক ছিলেন : শাহরিয়ার কবীর

সভাপতি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিতে আয়শা খানম কেবল যোদ্ধা নন, আমাদের অভিভাবক ছিলেন। ২০০১ সালে নজিরবিহীন সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় মহিলা পরিষদের ভূমিকা ছিল অন্যতম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, নারী নীতি বাস্তবায়নে এবং শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে মহিলা পরিষদ ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি একত্রে কাজ করে। ১৯৭৫-এর পর রাজনীতিতে যে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার সূচনা হয় তা প্রতিহত করতে ও প্রতিবাদ করতে তার অবস্থান ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল এবং আয়শা খানম কেবল নারী আন্দোলনই নয় যে কোনো আন্দোলনের আইকন।

আয়শা খানম স্মরণে বিশিষ্টজনেরা

বাংলাদেশ নারী আন্দোলন ও মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী আয়শা খানমের প্রয়াণে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশিষ্টজনেরা যা বললেন-
  
১৮ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারী জাগরণ অব্যাহত থাকবে : অ্যারোমা দত্ত এমপি

নির্বাহী পরিচালক, প্রিপ ট্রাস্ট

আয়শা খানমকে প্রথম দেখি ১৯৬৮ সালে। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর অসহযোগ আন্দোলনকে আমরা ধারণ করি, বহন করি। একজন নারী শক্ত ধনুকের মতো দাঁড়াবে এই দৃঢ়তা আমি তার মধ্যে দেখেছি। আয়শা খানম নারী আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে সবার কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। সেটি তিনি পেরেছেন। এজন্য তাকে প্রণতি জানাই। আয়শা খানম যে পথ আমাদের দেখিয়ে গেছেন সেই পথ ধরেই নারী জাগরণ অব্যাহত থাকবে। নারী আন্দোলন কখনোই শেষ হবে না।

নারী আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করেছেন : ডা. মাখদুমা নার্গিস

সহসভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ

নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আয়শা খানম ছিলেন একজন নিবেদিত যোদ্ধা। স্কুল জীবন থেকে তিনি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। সব প্রগতিশীল আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল। নির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী চেতনা ছিল তার। ইতিবাচক এবং নেতৃত্বসুলভ কাজের মধ্য দিয়ে তিনি নারী আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করেছেন। সব সামাজিক আন্দোলনকে বেগবান করতে তিনি আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন। বৈশ্বিক নারী আন্দোলনের সঙ্গে মহিলা পরিষদকে যুক্ত করতে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জোটবদ্ধভাবে আন্দোলন করতেন : রোকেয়া কবীর

নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আগরতলায় তার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা হয়। তিনি সবাইকে নিয়ে জোটবদ্ধভাবে আন্দোলন করতেন। আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন মনের মানুষ ছিলেন। সৌজন্যতাবোধ ছিল। কোন রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, সমাজকে কিভাবে অগ্রসর করতে হবে এ নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হতো। কেউ ভালো উদ্যোগ নিলে আয়শা খানম তাকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করতেন। তার কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে আমাদেরকেই।

নারীমুক্তির লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন : মফিদুল হক

লেখক ও প্রাবন্ধিক

১৯৬৭ সালের পথসভা থেকে আয়শা খানমকে চিনি। বাংলার নারীমুক্তির প্রয়াস নিয়ে তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন। নানা ঘাত-প্রতিঘাতে অনেকে পেশা বদল করেছেন। কিন্তু আয়শা খানম মহিলা পরিষদকে তীব্রভাবে আঁকড়ে ধরে নারীমুক্তির লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। আয়শা আপা ছিলেন অত্যন্ত দূরদর্শিতাসম্পন্ন। তার নেতৃত্বে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা এবং কাজ চালিয়ে যাওয়া ছিল সফলতার সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা। নারীমুক্তির আন্দোলনের নানা কাজে তিনি বড় প্রেরণা হয়ে থাকবেন।

অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তোলার কাজ করেছেন : ডা. ফওজিয়া মোসলেম

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ

আয়শা খানম তার জীবন দিয়ে দেখিয়ে গেছেন কীভাবে গুছিয়ে কাজ করতে হয়। তিনি সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে মহিলা পরিষদে কাজ করে গেছেন। ১৯৭২ সালে তিনি মহিলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হন। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে রাখী দাশ পুরকায়স্থ এবং আয়শা খানমের প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে। মহিলা পরিষদের ঐতিহ্যের ধারাকে বহন করে সমতাপূর্ণ, মানবিক, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তোলার কাজ করেছেন আয়শা খানম।

সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে : আমিরুল ইসলাম

ব্যারিস্টার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন

আয়শা খানমের আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে হবে। উন্নয়ন অনেক হয়েছে কিন্তু সমাজ আজ বিধ্বস্ত অবস্থায়। মানব কল্যাণই প্রকৃত উন্নয়ন। নারী আন্দোলনই পারে এই সমাজকে শান্তিতে সুবিচারের পথে এগিয়ে নিতে। যা আয়শা খানম দেখিয়ে গেছেন। সুফিয়া কামাল এবং আয়শা খানমের আদর্শকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

আমাদের অভিভাবক ছিলেন : শাহরিয়ার কবীর

সভাপতি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিতে আয়শা খানম কেবল যোদ্ধা নন, আমাদের অভিভাবক ছিলেন। ২০০১ সালে নজিরবিহীন সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় মহিলা পরিষদের ভূমিকা ছিল অন্যতম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, নারী নীতি বাস্তবায়নে এবং শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে মহিলা পরিষদ ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি একত্রে কাজ করে। ১৯৭৫-এর পর রাজনীতিতে যে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার সূচনা হয় তা প্রতিহত করতে ও প্রতিবাদ করতে তার অবস্থান ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল এবং আয়শা খানম কেবল নারী আন্দোলনই নয় যে কোনো আন্দোলনের আইকন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন