দৃঢ়তাই সবচেয়ে বড় সামর্থ্য : ন্যান্সি পেলোসি
jugantor
দৃঢ়তাই সবচেয়ে বড় সামর্থ্য : ন্যান্সি পেলোসি

  সাব্বিন হাসান  

১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা বিশ্বই এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে সরব। উত্তাপ-উৎকণ্ঠা সবকিছুই ছাপিয়ে গেছে ইতিহাসকে। মার্কিন গণতন্ত্রে এতটা কঠিন সময়ে ন্যান্সি নামটি এখন দৃঢ়তার প্রতীক। পুরো নাম ন্যান্সি প্যাট্রিসিয়া পেলোসি। জন্ম ১৯৪০ সালের ২৬ মার্চ। জন্মস্থান বাল্টিমোর শহর। বর্তমানে হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভের ৫২তম স্পিকার।

ইতালিয়ান-আমেরিকান পরিবারে জন্ম। ন্যান্সির মা-বাবা দুজনই ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত। ২০০৩ সাল থেকে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। এবারে ৮০ বছর বয়সি ন্যান্সির জন্য জয় সহজ ছিল না। পরিষদে ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার পরও স্পিকার পদে জিতেছেন মাত্র সাত ভোটের ব্যবধানে। দলের ভেতরেই ছিল সরাসরি বিরোধিতা। অনেক তরুণ সদস্য এবারে স্পিকার পদের দাবিদার ছিল। করোনা মহামারির কারণে অনেকে আসেননি। সবশেষ সব বাধা অতিক্রম করে ন্যান্সিই হয়েছেন মার্কিন স্পিকার।

মার্কিন কংগ্রেসে নজিরবিহীন হামলার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সরাসরি দায়ী করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের অভিশংসনে দৃঢ়প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট নারী ও আইনপ্রণেতা চতুর্থবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হন। কঠিনভাবে বিভক্ত নতুন কংগ্রেসে ন্যান্সি পান ২১৬ ভোট। নিকটতম প্রতিপক্ষ ছিলেন রিপাবলিকান নেতা কেভিন ম্যাককার্থি। তিনি পান ২০৯ ভোট। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের একমাত্র নারী স্পিকার হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ন্যান্সি। টানটান প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সম্ভবত শেষবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হন। চতুর্থবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হওয়ার মধ্য দিয়ে ন্যান্সি ৫০ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যুক্ত করে আবারও সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। মার্কিন গণতন্ত্র সুরক্ষায় তিনিই এখন কাণ্ডারি।

মার্কিন সংসদে সদ্য নির্বাচিত জামাল বাউম্যান ন্যান্সি প্রসঙ্গে বলেন, মার্কিন সংসদে স্থায়িত্বের জন্যই ন্যান্সিকে ভোট দিয়েছেন। ট্রাম্পের বিরোধিতা করার কারণে ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশ ন্যান্সির প্রশংসা করেন। দূরদর্শী সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি হলেন অসাধারণ আর কঠোর মধ্যস্থতাকারী।

যদিও হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। স্পিকারও তাদের দল থেকেই নির্বাচিত। কিন্তু সিনেটের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সেখানে রিপাবলিকানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ২০ জানুয়ারি বাইডেন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর রিপাবলিকান সিনেটরদের একাংশ প্রবল বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পকে এখনই সরানোর দাবি নিয়ে কাজ করছেন ন্যান্সি। ২০ জানুয়ারির আগে ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতাচ্যুত এবং দ্রুত অভিশংসনের পথ নিয়েও আলোচনা জারি রেখেছেন। ক্যাপিটল হিলে নজিরবিহীন তাণ্ডবের পর ন্যান্সি সংসদীয় সমাধানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে নিজেই ফোন করেন। কিন্তু মাইক ফোন ধরেননি। আর ন্যান্সিকে ফিরতি ফোনও করেননি।

এবারে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই স্পিকার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ন্যান্সি।

ন্যান্সি বলেছেন, অস্বাভাবিক কঠিন সময়ের মুখোমুখি নতুন কংগ্রেস। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসে সাড়ে তিন লাখ মানুষের মৃত্যু গুনেছে। অন্যদিকে দুই কোটিরও বেশি মানুষ এখনো সংক্রমিত। তাই এখন আমাদের অগ্রাধিকার হবে করোনভাইরাসকে পরাজিত করা। আর আমরা একে পরাজিত করব।

যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কঠিন সময় প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপসারণ না করেন, তবে তাকে আগের মতো অভিশংসন করা হবে। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেন ক্ষমতাগ্রহণের আগেই ট্রাম্পের অপসারণ জরুরি। এজন্য মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর জরুরি ব্যবহারের কথা উত্থাপন করেন।

মার্কিন গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে ন্যান্সির সাফ কথা, দ্রুত ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। তার স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব ছাড়ার দুই সপ্তাহ আগেই বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের উচিত হবে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যা যা করা দরকার তার সবই করা।

কঠিন সময়ে দৃঢ় হয়ে দাঁড়াতে হয়। জয়ের ঠিক পেছনেই থাকে পরাজয়। সত্য সবসময়ই আপসহীন হয়। তাই সত্যের পথ যতই কঠিন হোক না কেন, তা একদিন চূড়ান্ত সফলতা নিয়ে আসে। আর সেই সফলতাই হয় গ্রহণযোগ্য আর টেকসই। নিজের দায়িত্বের ঐতিহাসিক সময়ে নিজের কথাগুলো এভাবেই বলেছেন সময়ের সবচেয়ে সাহসী রাজনীতিবিদ ও আইনপ্রণেতা ন্যান্সি পেলোসি।

দৃঢ়তাই সবচেয়ে বড় সামর্থ্য : ন্যান্সি পেলোসি

 সাব্বিন হাসান 
১৮ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সারা বিশ্বই এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে সরব। উত্তাপ-উৎকণ্ঠা সবকিছুই ছাপিয়ে গেছে ইতিহাসকে। মার্কিন গণতন্ত্রে এতটা কঠিন সময়ে ন্যান্সি নামটি এখন দৃঢ়তার প্রতীক। পুরো নাম ন্যান্সি প্যাট্রিসিয়া পেলোসি। জন্ম ১৯৪০ সালের ২৬ মার্চ। জন্মস্থান বাল্টিমোর শহর। বর্তমানে হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভের ৫২তম স্পিকার।

ইতালিয়ান-আমেরিকান পরিবারে জন্ম। ন্যান্সির মা-বাবা দুজনই ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত। ২০০৩ সাল থেকে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। এবারে ৮০ বছর বয়সি ন্যান্সির জন্য জয় সহজ ছিল না। পরিষদে ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার পরও স্পিকার পদে জিতেছেন মাত্র সাত ভোটের ব্যবধানে। দলের ভেতরেই ছিল সরাসরি বিরোধিতা। অনেক তরুণ সদস্য এবারে স্পিকার পদের দাবিদার ছিল। করোনা মহামারির কারণে অনেকে আসেননি। সবশেষ সব বাধা অতিক্রম করে ন্যান্সিই হয়েছেন মার্কিন স্পিকার।

মার্কিন কংগ্রেসে নজিরবিহীন হামলার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সরাসরি দায়ী করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের অভিশংসনে দৃঢ়প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট নারী ও আইনপ্রণেতা চতুর্থবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হন। কঠিনভাবে বিভক্ত নতুন কংগ্রেসে ন্যান্সি পান ২১৬ ভোট। নিকটতম প্রতিপক্ষ ছিলেন রিপাবলিকান নেতা কেভিন ম্যাককার্থি। তিনি পান ২০৯ ভোট। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের একমাত্র নারী স্পিকার হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ন্যান্সি। টানটান প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সম্ভবত শেষবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হন। চতুর্থবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হওয়ার মধ্য দিয়ে ন্যান্সি ৫০ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যুক্ত করে আবারও সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। মার্কিন গণতন্ত্র সুরক্ষায় তিনিই এখন কাণ্ডারি।

মার্কিন সংসদে সদ্য নির্বাচিত জামাল বাউম্যান ন্যান্সি প্রসঙ্গে বলেন, মার্কিন সংসদে স্থায়িত্বের জন্যই ন্যান্সিকে ভোট দিয়েছেন। ট্রাম্পের বিরোধিতা করার কারণে ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশ ন্যান্সির প্রশংসা করেন। দূরদর্শী সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি হলেন অসাধারণ আর কঠোর মধ্যস্থতাকারী।

যদিও হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। স্পিকারও তাদের দল থেকেই নির্বাচিত। কিন্তু সিনেটের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সেখানে রিপাবলিকানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ২০ জানুয়ারি বাইডেন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর রিপাবলিকান সিনেটরদের একাংশ প্রবল বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পকে এখনই সরানোর দাবি নিয়ে কাজ করছেন ন্যান্সি। ২০ জানুয়ারির আগে ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতাচ্যুত এবং দ্রুত অভিশংসনের পথ নিয়েও আলোচনা জারি রেখেছেন। ক্যাপিটল হিলে নজিরবিহীন তাণ্ডবের পর ন্যান্সি সংসদীয় সমাধানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে নিজেই ফোন করেন। কিন্তু মাইক ফোন ধরেননি। আর ন্যান্সিকে ফিরতি ফোনও করেননি।

এবারে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই স্পিকার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন ন্যান্সি।

ন্যান্সি বলেছেন, অস্বাভাবিক কঠিন সময়ের মুখোমুখি নতুন কংগ্রেস। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসে সাড়ে তিন লাখ মানুষের মৃত্যু গুনেছে। অন্যদিকে দুই কোটিরও বেশি মানুষ এখনো সংক্রমিত। তাই এখন আমাদের অগ্রাধিকার হবে করোনভাইরাসকে পরাজিত করা। আর আমরা একে পরাজিত করব।

যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কঠিন সময় প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপসারণ না করেন, তবে তাকে আগের মতো অভিশংসন করা হবে। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাইডেন ক্ষমতাগ্রহণের আগেই ট্রাম্পের অপসারণ জরুরি। এজন্য মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর জরুরি ব্যবহারের কথা উত্থাপন করেন।

মার্কিন গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে ন্যান্সির সাফ কথা, দ্রুত ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। তার স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব ছাড়ার দুই সপ্তাহ আগেই বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের উচিত হবে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যা যা করা দরকার তার সবই করা।

কঠিন সময়ে দৃঢ় হয়ে দাঁড়াতে হয়। জয়ের ঠিক পেছনেই থাকে পরাজয়। সত্য সবসময়ই আপসহীন হয়। তাই সত্যের পথ যতই কঠিন হোক না কেন, তা একদিন চূড়ান্ত সফলতা নিয়ে আসে। আর সেই সফলতাই হয় গ্রহণযোগ্য আর টেকসই। নিজের দায়িত্বের ঐতিহাসিক সময়ে নিজের কথাগুলো এভাবেই বলেছেন সময়ের সবচেয়ে সাহসী রাজনীতিবিদ ও আইনপ্রণেতা ন্যান্সি পেলোসি।